‘হাছন একাডেমিও হবে’

স্টাফ রিপোর্টার
জেলা প্রশাসক আয়োজিত চার লোক কবি স্মরণে চার দিনব্যাপি উৎসব ‘হাওর পারের গল্প’ অনুষ্ঠানে গতকাল রবিবার মরমী কবি হাছন রাজা স্মরণে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সহকারি কমিশনার মোহাম্মদ আমিমুল এহসান খানের সঞ্চালনায় অতিথি হিসেবে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাশ, সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সামছুল আবেদীন, হাছন রাজা ট্রাস্টের সভাপতি দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী, জেলা রেড ক্রিন্টে সোসাইটির সম্পাদক অ্যাড. মতিউর রহমান পীর, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সহ সভাপতি প্রদীপ পাল নিতাই।
আলোচনা সভায় বক্তব্য বলেন, ‘হাছন রাজা কিশোর বয়সে পিতাকে হারিয়ে বিশাল জমিদারীর দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছিলেন। তিনি সা¤্রাজ্যের মধ্যে বসবাস করলেও সৃষ্টি ও সুর নিয়ে গবেষণা করেছেন। আত্মাধিকসহ নানা তত্ত্বের গান রচনা করেছেন। জমিদারীর মাঝে বসবাস করলেও তিনি এসবের থেকে দূরে রয়েছেন। তাঁর রচিত মরমী গান দেশ-বিদেশে জনপ্রিয় ও সমাদৃত। তাঁর নানা কর্মকান্ড ও জীবনী নিয়ে দেশ-বিদেশে ছবি নির্মিত হয়েছে। তবে সরকারিভাবে মরমী কবি হাছন রাজা উপেক্ষিত ও অবহেলিত রয়ে গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানালেও প্রস্তাবিত হাছন একাডেমি আলোর মুখ দেখছে না।’  সভায় বক্তারা সুনামগঞ্জে দ্রুত হাছন একাডেমি স্থাপনের দাবি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন,‘ বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা লালনকারী সরকার। সরকার সংস্কৃতির বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় সুনামগঞ্জের চার লোককবির নামে অবশ্যই পৃথক পৃথক একাডেমি নির্মাণ হবে। তবে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে, এগিয়ে আসতে হবে। রাধারমণ দত্ত ও শাহ আব্দুল করিমের নামে একাডেমির প্রস্তাবনা হয়েছে। শাহ্ আব্দুল করিমের পরিবার চাচ্ছে একাডেমি তাঁর গ্রামে করতে। দূর্ব্বীণ শাহ’র পরিবার ছাতকে জমি দিবেন বলে জানিয়েছেন, সেখানে তাঁর নামে একাডেমি হবে। হাছন রাজার পরিবার থেকে জমি দিলে আমরা অবশ্যই হাছন রাজা একাডেমির প্রস্তাবনা পাঠাব। তাদের পরিবার থেকে জমি পাওয়া না গেলে প্রয়োজনে সরকারি খাস জমিতে বা জমি অধিগ্রহণ করে করা হবে। শহরের ভেতরে জমি পাওয়া না গেলে শহরের বাহিরে হলেও উদ্যোগ নেয়া হবে। ’
আলোচনা সভার পর হাছন রাজা রচিত সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন আলোচনা সভার সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলামসহ অনুষ্ঠানের অতিথিরা। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।
এদিকে বিকাল ৩ টায় প্রথম পর্বের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ফারজানা সিদ্দিকা রনি। মূখ্য আলোচনা করেন গবেষক ও চলচিত্র নির্মাতা শাকুর মজিদ।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আইনুর আক্তার পান্নার সভাপতিত্বে ও সহকারি কমিশনার শোভন রাংসা’র সঞ্চালনায় বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাজহারুল ইসলাম, কবি ও গবেষক ড. শোয়াইব জিবরান, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের যুগ্ম আহবায়ক চিত্তরঞ্জন তালুকদার, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক শুভংকর দেবনাথ, সাংবাদিক লতিফুর রহমান রাজু ও মাহবুবুর রহমান পীর।
পরে গভীর রাত পর্যন্ত জেলার ও জেলার বাইরের শিল্পীরা হাছন রাজার গান পরিবেশন করে দর্শকশ্রোতাদের মাতিয়ে রাখেন।