হামলাকারীদের নানাভাবে রক্ষার চেষ্টা হচ্ছে

বিশেষ প্রতিনিধি
শাল্লার নোয়াগাঁওয়ে হামলাকারীদের নানাভাবেই রক্ষার চেষ্টা হচ্ছে। ঘটনার পর গ্রামবাসীর পক্ষে দায়ের করা মামলায় নামোল্লেখ করা হয়েছে ৫০ জনের, অজ্ঞাত ১৪-১৫ শ’ জন উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু মামলার আগের দিন হামলাকারী ৭২ জনের তালিকা করেছিলেন গ্রামবাসী। অবশ্য বৃহস্পতিবার শাল্লা থানায় ঝুমন দাশ আপনের মা নিভা রানী দাশের নালিশি আবেদনে ওই ২২ জনসহ ৭২ জনের নামোল্লেখ করেছেন। এই মামলা রেকর্ড না করে আগের মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করে আদালতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শাল্লা থানা পুলিশ।
শাল্লা থানায় জমা দেওয়া নিভা রানী দাশের আবেদনে থাকা ৭২ জনের নামের মধ্যে নাচনি গ্রামের আরও ১৩ জনের এবং চণ্ডিপুর গ্রামের আরও ৯ জনের নামোল্লেখ করা হয়েছে। গ্রামের অনেকেই দাবি করেছেন, ঘটনার দিন সশস্ত্র অবস্থায় এরা নোয়াগাঁওয়ে এসেছিল দেখেছেন তারা।
গ্রামবাসী বলেছেন, গত ১৮ মার্চ গ্রামবাসীর পক্ষে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় এই ২২ জনের নাম না থাকায় হতবাক হয়েছেন তারা।
গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা জগৎ চন্দ্র দাশের ছেলে লিটন চন্দ্র দাশ বলেন, ঘটনার পর ৭২ জনের নামের তালিকা হয়েছে জানতাম আমরা। পরে মামলায় ৫০ জনের তালিকা কীভাবে হলো জানি না। একই মন্তব্য করেন গ্রামের নুপুর দাশ।
গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত একজন সরকারি কর্মকর্তা বললেন, বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল কিংবা শাল্লা থানার সাব ইন্সপেক্টর আব্দুল করিমের দায়ের করা মামলায় সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই। নিভা রানী দাশের আবেদনটি মামলা হিসাবে রেকর্ড করলে ন্যায় বিচার প্রাপ্তির সুযোগ তৈরি হতো।
বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল বললেন, নিভা রানী দাশের মামলার আবেদনের বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই। গ্রামবাসীর পক্ষে দায়ের করা মামলার সবকিছুই নোয়াগাঁওয়ের ৭ জন এবং হবিবপুরের ৬ জন অর্থাৎ ১৩ জন মিলে ঠিক করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত. নোয়াগাঁওয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বিদের বাড়িঘরে হামলা লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনার পর ১৮ মার্চ পৃথক পৃথক তিনটি মামলা দায়ের হয়। গ্রামবাসীর পক্ষে দায়ের করা মামলায় ৫০ জনের নামোল্লেখ করে ১৪-১৫ শ’ জনকে আসামী করে হয় মামলায়। শাল্লা থানার সাব ইন্সপেক্টর মো. আব্দুল করিম বাদী হয়ে ১৪-১৫ শ’ জনকে আসামী করে দায়ের হয় আরেক মামলা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ঝুমন দাশ আপনের উপর হয় আরেকটি পৃথক মামলা।
গ্রামবাসীর পক্ষে দায়ের করা দুই মামলাকেই অতিদুর্বল এবং অপরাধী রক্ষার মামলা হিসেবে আখ্যায়িত করে আইনজীবীরা বক্তব্য দেন। এই নিয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশ দুটি মামলাতেই দ-বিধির আরও দুটি ধারা সংযোজন করেছে। তবে নিভা রানী দাশের মামলা গ্রহণ করেনি পুলিশ।
দিরাই থানার ওসি নাজমুল হক বললেন, নিভা রানী দাশের আবেদন অন্য মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। আদালত যে আদেশ দেবেন সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতিরজনক শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলনের নেতা মাওলানা মামুনুল হকের সমর্থকরা গত ১৭ মার্চ হামলা, লুটপাট ও ভাংচুর করেছে শাল্লার নোয়াগাঁও গ্রামের ৮৮ বাড়িতে। এসময় গ্রামের ৫ টি মন্দির ভাংচুর করা হয়। নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাস আপন নামের এক তরুণের ফেসবুক আইডি থেকে মাওলানা মামনুল হককে কটাক্ষ করে কথিত স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়ায় ওই দিন সকাল ৮ টা থেকে ১০ টার মধ্যে এই তাণ্ডব চালানো হয়। তা-বকারীরা হামলা করে ফেরার সময় নিজেরাই ফেসবুকে লাইভ দিয়ে বলে গেছে, ‘কমপক্ষে এককোটি টাকার ক্ষতি করে গেলাম। হিন্দুদের মধ্যে কম্পন তুলে গেলাম। আল্লামা মামুনুল হককে নিয়ে কটুক্তি করলে পরিনাম কী হবে বুঝিয়ে দিয়ে গেলাম।’