হাসপাতালের চিকিৎসা

রোকেস লেইস
সুনামগঞ্জ সরকারী হাসপাতাল নিয়ে বেশ ক’বছর থেকেই অনিয়ম, দুর্বৃত্তায়ন, সিন্ডিকেশন, হরিলুট শব্দগুলো সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। ব্যক্তি পর্যায়ে প্রচুর লেখালেখি হচ্ছে। হচ্ছে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা। স্থানীয় পত্রিকা সমূহ প্রতিনিয়ত রিপোর্ট করছে, ধারাবাহিকভাবে দুর্নীতির চালচিত্র তুলে ধরছে। জাতীয় পত্রিকাতেও হচ্ছে লেখালেখি। কিন্তু, সেই ‘কানে দিয়েছি তুলো’। যাদের বিষয়টির প্রতি নজরদারি প্রয়োজন, স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়ে উনারা অবলীলায় নির্বিকার, না-কি কুম্ভকর্ণের ঘুমে আছেন? মৌলিক অধিকারের অন্যতম, চিকিৎসা। একটি প্রান্তিক শহরের সাধারণ মানুষের নির্ভরতার স্থলটি নিজেই জরাগ্রস্ত।
প্রায়ই শোনা যায় রোগী সিলেটে রেফার করা হয়েছে। জটিল রোগে তো বটেই, সাধারণ সমস্যাতেও অহর্নিশ পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে সিলেটে। তাহলে সরকারী চিকিৎসালয়টি কি চিকিৎসা প্রদানের যোগ্যতা রাখে না? কিন্ত কেনো? সরকার তো চিকিৎসা নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ সরবরাহ করে যাচ্ছে, বিনামূল্যে চাহিদা মাফিক ঔষধও। তবে, যাদের পাওয়ার কথা তারা অর্থাৎ সেবা গ্রহণকারীরা পাচ্ছেন না বা যেটুকু পাচ্ছেন তাও নামমাত্র।
সার্বিক অর্থেই হাসপাতাল নামক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসা প্রয়োজন। এখানে ডাক্তার অপ্রতুল; টেকনিশিয়ান, নার্সও অপ্রতুল। পোস্টিং দেয়া হলে জয়েনিং এর পরই গন্ডা হিসাবে নার্স বদলি হয়ে চলে যায়, ডাক্তার চলে যায়। সর্বশেষ সিভিলসার্জন সম্পর্কে পত্রিকান্তরে যেটুক জানা যায়, একজন সৎ আপোষহীন শক্ত মেরুদন্ডধারী ব্যক্তিত্বসম্পন্ন লোক।
যখন, সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে একধরনের আশার সঞ্চার হচ্ছিলো; যোগ্য কর্ণধারের পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানটি / হাসপাতলটি সত্যি সত্যি হয়তো হয়ে উঠবে একটি আদর্শ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। ঠিক তখনি সুনামগঞ্জবাসী জানলো ভিতরে ঘুণপোকা।
এমনি সময়ে নিজেদের মৌলিক চাহিদার দাবী আদায়ে কারো মুখাপেক্ষী না হয়ে দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের সর্বপর্যায়ের জনগণ হাসপালের চিকিৎসায় এক হই।
দাবী তুলি ‘এ টু জেড’ চিকিৎসা হোক হাসপাতালের।
চিকিৎসা শাস্ত্রেই আছে, যখন রক্তে দূষণ হয় তখন রক্ত ঞৎধহংভঁংব বা পরিব্যাপ্ত বা পরিসঞ্চালন করে নতুন রক্ত দিয়ে বাঁচিয়ে তোলা হয় শরীর। তাহলে,শুধু শুধু মাথা নিয়ে নাড়াচাড়া না করে একযোগে এক আদেশে সর্বস্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী পরিবর্তন করে হলেও বাঁচিয়ে তোলা হোক সুনামগঞ্জবাসীর মৌলিক চাহিদা পূরণের হাসপাতালটি।
লেখক: সিনিয়র আইনজীবী ও কবি।