হাসপাতালের পাশের এক বারান্দায় সন্তান প্রসব

স্টাফ রিপোর্টার
দিরাই হাসপাতালে প্রসব বেদনায় কাতর সন্তান সম্ভবা নারীকে ভর্তি না করে ফেরৎ দেওয়া হয়েছে। পরে ওই নারীকে তার স্বামী পাশের নির্বাচন অফিসের বারান্দায় নিয়ে যান এবং ওখানেই তিনি সন্তান প্রসব করেন। মর্মস্পর্সি এই ঘটনা ফেসবুকে প্রচার হলে নিন্দা জানিয়েছেন সাধারণেরা। শনিবার এ ঘটনা জানতে সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন দিরাই হাসপাতালে যান। তিনি অবশ্য বলেছেন, দায়িত্বশীলরা বলেছেন, এই রোগী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন নি, ভর্তিও হননি। প্রসূতি বিভাগে গিয়েছিলেন, ওখানকার দায়িত্বশীলরা তাকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলার পর এই গৃহবধু চলে আসেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের ঢুলকর গ্রামের মকুদ্দুছ আলী ও জাহানারা বেগমের ছেলে রুবেল মিয়া (২৬) দিরাই শহরেই হোটেল শ্রমিকের কাজ করেন। তার অন্তসত্বা স্ত্রী রাসমিনা বেগম ঈদের পরদিন প্রসব বেদনায় কাতর হলে তিনি দিরাই হাসপাতালের পাশেই ডা. মনি রানী দাস নামের একজন মেডিকেল অফিসারের কাছে নিয়ে আসেন। মনি রানী দাস ওই রোগীর অবস্থা ভালো নয়, তার শরীরে অন্যান্য রোগও আছে জানিয়ে- রোগীকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাবার পরামর্শ দেন।
রুবেল মিয়া এসময় জানান, তিনি হতদরিদ্র মানুষ, তার কাছে গাড়ী ভাড়াই নেই। তার স্ত্রীকে দয়া করে দিরাই হাসপাতালে রাখার ব্যবস্থা করে দিতে। এরপর রুবেল মিয়াকে দিরাই হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে গিয়ে দেখার জন্য বলেন ডা. মনি রানী দাস।
রুবেল মিয়া এই প্রতিবেদককে শনিবার দুপুরে বললেন, বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টায় দিরাই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এসে তিনি কোন ডাক্তার পান নি। প্রসব বেদনায় কাতর স্ত্রীকে কোলে করে নিয়ে দুতলায় প্রসূতি বিভাগে যান তিনি। সেখানে গিয়ে স্ত্রীর অবস্থা জানানোর পর কর্তব্যরতরা তাকে ধমক দিয়ে বলেন, ওখান থেকে নামার জন্য, তার স্ত্রীকে নিয়ে সিলেটে যাবার জন্য। তিনি অনেক অনুনোয় বিনয় করে তার স্ত্রীকে ১০ মিনিটের জন্য রেখে, দেখে দেবার জন্য বলেন। এরপরও তারা রাখেন নি। পরে তার ভাই ২৫০০ টাকায় সিলেটে যাবার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা করেন। অ্যাম্বুলেন্সে স্ত্রীকে ওঠানোর সময় তার স্ত্রী তাকে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমাকে কোথাও নিয়ে যাওয়া লাগবে না। একটা বারান্দায় নিয়ে যাও।’ শেষে হাসপাতালের পাশের নির্বাচন অফিসের বরান্দায় নিয়ে যান স্ত্রীকে। ওখানেই তিনি সন্তান প্রসব করেন। সন্তান প্রসবের ১০-১৫ মিনিট পরে আবার তিনি ডা. মনি রানী দাসের কাছে গেলে, তিনি বলে দেন তার সন্তান ভালোই আছে, তিনি বাড়িতেই যেতে পারবেন। এরপর তিনি স্ত্রী ও নবজাতককে নিয়ে বাড়ি ফিরেন।
তার স্ত্রী ও সন্তান (শনিবার বিকাল পর্যন্ত) ভালো আছে বলে জানান তিনি।
দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. স্বাধীন কুমার রায় বললেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত, আমরা বিব্রত। আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রুবেল মিয়া আসেন নি। ওখানে কর্তব্যরতরা ছিলেন। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে দু’তলায় প্রসূতি বিভাগে ওঠেছিলেন। দায়িত্বরতরা আরেকটি ডেলিভারির কাজ করছিলেন। রুবেল মিয়াকে দায়িত্বশীলরা বলে দেন, জরুরি বিভাগ থেকে টিকেট আনার জন্য এবং কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার জন্য। কিন্তু তিনি সেখান থেকে চলে যান।
সিভিল সার্জন ডা. শামছ উদ্দিন আহমেদ শনিবার এই ঘটনা জানতে সরেজমিনে দিরাই হাসপাতাল গিয়েছিলেন। তিনি বললেন, রুবেল মিয়া তার স্ত্রীকে হাসপাতালে না দেখিয়ে একজন ডাক্তারকে প্রাইভেট দেখিয়েছেন। পরে তিনি দিরাই হাসপাতালে প্রসূতি বিভাগে এসেছিলেন। ওখানকার দায়িত্বপ্রাপ্তরা আরেকটি ডেলিভারির কাজ করছিলেন। তাকে অপেক্ষা করতে বলার পর তিনি চলে আসেন।