হাসপাতালে এসে ৪১ মিনিট ডিউটি করলেন ডাক্তার

বিশেষ প্রতিনিধি ও আশিক মিয়া
৪১ মিনিটেই দিনের ডিউটি সেরে নিলেন দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. সাইফুর রহমান। হাসপাতালের ডিসপেনসারিও একটায় বন্ধ হয়ে গেল। ডিসপেনসারি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং ডাক্তার না থাকায় অনেক রোগীকে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যেতে হলো। দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রবিবার (বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে) সকাল থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত নানা অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখা গেলো।
বেলা সাড়ে ১১ টায় টিকেট সংগ্রহ করে ২০-২৫ জন রোগী বহির্বিভাগে ডাক্তারের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর ডাক্তার না পেয়ে ফিরে গেলেন অনেকেই।
প্রায় সাত কিলোমিটার দূরের রাজনপুর থেকে চর্মরোগের চিকিৎসা নেবার জন্য এসেছিলেন ফরিদ মিয়া। ডাক্তার না পেয়ে ফিরে যাবার সময় বলছিলেন, ‘সকালে রওয়ানা দিয়া আইছি, সুরমা নদী পার হইয়া অখন যাইতে দিন যাইবো গি, কোন লাভ অইলো না।’
মাহফুজা রহমান চৌধুরী নামের একজন চিকিৎসক হাসপাতালের একটি কক্ষে বসা থাকলেও তিনি অ্যানেস্তেসিয়ার ডাক্তার হওয়ায় কোন রোগী দেখলেন না। পৌঁনে ১২ টায় নিজের কক্ষের দরজা লাগিয়ে বের হয়ে চলে গেলেন তিনি।
উপজেলার লামাসামিয়ার মাঠকর্মী শুক্লা রানী চৌধুরী দুই জন যক্ষা রোগীর ফরম নিয়ে এসেছিলেন আবাসিক চিকিৎসক সিফাত সামরিনের কাছে। একটা পর্যন্ত অপেক্ষা করে বাসায় গিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে আসলেন তিনি। দুপুর একটা ১৯ মিনিটে নিজের কক্ষে এসে বসলেন ডেন্টাল সার্জন সাইফুর রহমান। ৪-৫ জন রোগী দেখে বেলা একটায় তিনিও দরজা লাগিয়ে চলে গেলেন।
অনেক রোগী অপেক্ষা করে চলে গেছে কোন চিকিৎসকের দেখা নাই বললে, ডা. সাইফুর রহমান বললেন, অফিসে বসে কাজ করছিলাম, এজন্য বিলম্ব হলো। অথচ. অফিস লাগিয়ে উপজেলা পরিষদে গেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন এবং হেলথ ইন্সপেক্টর রেজাউল কবির।
হাসপাতালের একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী জানালেন, আবাসিক চিকিৎসক ডা. সিফাত সামরিন ঘণ্টাখানেক হাসপাতালে ছিলেন। তিনি ওয়ার্ডে রোগী দেখেছেন।


হাসপাতালের ওয়ার্ডে থাকা বোগলা রুসমত আলী রামসুন্দর স্কুল এ- কলেজের নৈশপ্রহরী সফিক খান জানালেন, শুক্রবার রাত ১২ টায় ১৬ মাসের শিশু সন্তান আশরাফ আলীকে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। রোববার সকালে প্রথম হাসপাতালের খাবারের দেখা মিলেছে, এর আগে কেউ খাবার নিয়ে আসে নি। খাবারও খুবই নিম্নমানের বললেন তিনি।
দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন ডাক্তারদের অনুপস্থিতি, কম সময় থেকে চলে যাওয়া ও ডিসপেনসারী বেলা একটায় বন্ধ করে দেওয়া প্রসঙ্গে বললেন, খবর নিয়ে এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানালেন, হাসপাতালে ২০ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও আছেন ৪ জন।