হুইল চেয়ার ও ঘর তৈরির জন্য সহায়তা পেলেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী রোকেয়া

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পূর্ব পাগলা ইউনিয়নে পঙ্গু, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রোকেয়া বেগম কে হুইল চেয়ার দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি গৃহহীন এ মহিলার ঘর তৈরির জন্য দেওয়া হয়েছে অন্যান্য সহায়তাও। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় ইউনিয়নের চিকারকান্দি বাজারে একটি হুইল চেয়ার ও সম্পূর্ণ ঘর তৈরির জন্য টিনসহ অন্যান্য জিনিসপত্রও রোকেয়া বেগমের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে সংগৃহিত টাকায় ঘর তৈরির জন্য টিন ও অন্যান্য জিনিসপত্র এবং ব্যবসায়ী রুমান আহমদের
প্রচেষ্টায়, চিকারকান্দি গ্রামের হাজি মাসুক মিয়ার ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী ছালিম মিয়ার অর্থায়নে একটি হুইল চেয়ার প্রদান দেয়া হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন চিকারকান্দি বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রুমান আহমদ, সাংবাদিক ও পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজের কলেজ শাখার প্রভাষক ইয়াকুব শাহরিয়ার, সমাজকর্মী আমির হোসেন, সবুজ আহমদ ও সেলাউর রহমান।
আমির হোসেন ও সবুজ আহমদ বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্দি, পঙ্গু মহিলার অসহায়ত্বের কথা ইয়াকুব শাহরিয়ার ভাইয়ের সাথে শেয়ার করে একটু আর্থিক সহায়তা ও একটি হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য আমরা অনুরোধ জানাই। তিনি ফেসবুকে লেখার পর হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা হয়েছে। নগদ কিছু টাকা এর আগেই উঠেছে। সে টাকা দিয়ে ঘরহীন এ মহিলাকে একটি ঘর বানিয়ে দিতে পারায় আত্মতৃপ্তি পাচ্ছি। যাঁরা সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
ব্যবসায়ী রুমান আহমদ বলেন, সাংবাদিক ইয়াকুব শাহরিয়ারের ফেসবুক পোস্টটি আমার নজরে পড়ার পর আমার ভাতিজা, আমেরিকা প্রবাসী ছালিমের সাথে যোগাযোগ করি একটি হুইল চেয়ারের জন্য। বলার সাথে সাথে সে রাজি হয়ে যায়। আমি তাঁকে এবং সাংবাদিক ইয়াকুব শাহরিয়ারকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাই একজন অসহায় মহিলার পাশে দাঁড়ানোর জন্য। অন্যান্য যাঁরা আর্থিক সহায়তা করেছেন তাঁদেরকেও ধন্যবাদ।
দৃষ্টিপ্রতিবন্দি রোকেয়া বেগম (৫০) বলেন, যাঁরা আমাকে সাহায্য করেছেন তাঁদের জন্য আমি আজীবন দোয়া করবো। আল্লায় তাঁদেরকে যেনো সুস্থ্যভাবে বাঁচিয়ে রাখেন।
উল্লেখ্য, ৭ আগস্ট ‘একটি হুইল চেয়ারের জন্য আর্তনাদ, রোকেয়া বেগমের সাহায্যার্তে বাড়িয়ে দিন মানবিক হাত’ শিরোনামে ফেসবুকে একটি মানবিক আহ্বান করেন সাংবাদিক ও শিক্ষক ইয়াকুব শাহরিয়ার। এর পর রোকেয়া বেগমের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন কিছু মানবিক মানুষ।