হেলপার আটক

স্টাফ রিপোর্টার
দিরাইয়ে যাত্রীবাহী বাসে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় হেলপার আব্দুর রশিদ (২৭) কে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেট। রবিবার রাত সাড়ে ১২ টায় ছাতক উপজেলার বুরাইরগাঁও থেকে বাস মালিক সমিতির সহায়তায় পিবিআই তাকে আটক করে। এদিকে, ওই বাসের মালিক আব্দুল আলীকে সোমবার বিকাল ৩ টায় র‌্যাব ৯ এর সুনামগঞ্জ ক্যাম্পের সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।
ফুয়াদ এন্টারপ্রাইজ নামের বাস মালিক আব্দুল আলী জানান, রবিবার রাতে ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজার ইউনিয়নের কামরাঙ্গিরচর গ্রামের হাবিব আহমদের ছেলে বাসের হেলপার আব্দুর রশিদকে কৌশলে আটক করা হয়। তিনি জানান, আব্দুর রশিদকে তার শ^শুরবাড়ি গোবিন্দগঞ্জের বুরাইরগাঁও থেকে আটক করে পিবিআইয়ের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এসময় পিবিআই সদস্যদের সঙ্গে বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। নিজের বাসের হেলপার, কন্ড্রাকটরের নাম কেন দুই দিন হয় জানাতে পারলেন না, এমন প্রশ্নের জবাবে বাস মালিক আব্দুল আলী বলেন, আমরা কেবল বাসের চালক নিয়োগ নেই। চালক অস্থায়ী ভিত্তিতে হেলপার-কন্ড্রাকটর নিয়োগ দেন। বাস চালক শহীদ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে কী না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি, তাকে আটক করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তুলে দেবার। এ রিপোর্ট লেখার সময় বিকাল সাড়ে ৪ টায় আব্দুল আলী জানান, র‌্যাব-৯’এর সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।
রাতে আব্দুর রশিদকে আটকের সময় বাস মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মুকিত মুকুল উপস্থিত ছিলেন।
মুকুল জানালেন, আব্দুর রশিদ তাৎক্ষণিক পিবিআই সদস্য ও সমিতির নেতৃবৃন্দকে বলেছেন, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে বাসটি (নম্বর সিলেট- জ- ১১০৭২৩) দিরাই পৌঁছার কয়েক কিলোমিটার আগে অন্য যাত্রীরা নেমে যান। বাসটিকে কেবল ওই তরুণী ছিলেন। এসময় চালক শহীদ মিয়া তাকে (আব্দুর রশিদকে) গাড়ী চালাতে বলেন। সে চালকের আসনে বসে গাড়ী ধীরে চালাতে থাকে। চালক শহীদ মিয়া ওঠে মেয়েটির কাছে চলে আসে। এসময় মেয়েটির চিৎকার শুনতে পায় সে। এক পর্যায়ে মেয়েটি জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ে। পরে গাড়ী দ্রুত চালিয়ে দিরাই বাসস্টেশনে গিয়ে গাড়ীর স্টার্ট বন্ধ না করেই পালায় তারা। এরপর আর কিছুই জানে না সে।
এ ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থী তরুণীকে প্রথমে দিরাই হাসপাতালে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এখনো সে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে আছে।
শিক্ষার্থী ওই তরুণীর বাড়ি দিরাই পৌর শহরের মজলিসপুর গ্রামে। সে দিরাই ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর মজলিসপুর গ্রামবাসী স্থানীয় সহ¯্রাধিক জনতা থানায় এসে বিক্ষোভ করেন।
শনিবার রাতেই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে বাসের চালক, কন্টাক্টর (ভাড়া আদায়কারী) ও হেল্পারকে আসামী করে দিরাই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। তবে আজ সোমবার বিকাল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত কেবল এক হেলপার আটক হয়েছে। নির্যাতিতা ছাত্রীর বাড়ি দিরাই পৌর শহরের মজলিশপুর গ্রামে। সে দিরাই ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
শনিবার দুপুরে বাস চালকের সহকারী আব্দুর রশিদকে আটকের বিষয়টি বিষয়টি নিশ্চিত করেন পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার খালেদ উজ জামান। তিনি বলেন, পিবিআই সিলেটের একটি দল সুনামগঞ্জের গোবিন্দগঞ্জ বুরাইরগাঁও থেকে আবদুর রশীদকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার পর তিনি গা ঢাকা দিয়েছিলেন। তাঁকে দিরাই থানায় হস্তান্তর করা হবে।
তিনি জানান, তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া বাসটির চালককে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে বলেও জানান পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা।
সুনামগঞ্জ বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জুয়েল মিয়া জানান, বাস মালিক সমিতি অপরাধীকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তুলে দিতে সমানভাবে কাজ করছে।