হোম কোয়ারেন্টাইনে আরও ৭৫ জন, ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬০ জন

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে ৫ র‌্যাব সদস্য সহ আরও ৯ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তরা হলেন সুনামগঞ্জ শহরে ১ জন, জগন্নাথপুরে ১, ছাতক ১ এবং দোয়ারাবাজার উপজেলায় ১ জন। সিভিল সার্জন ডা. শামছুদ্দিন আহমদ গত সোমবার রাত সাড়ে ১০ টায় এই তথ্য জানিয়েছেন। সুনামগঞ্জে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১৭৪ জন। এরমধ্যে ছাতক উপজেলায় একজন ১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।
এদিকে এদিকে কোভিড ১৯ পরিস্থিতি নিয়ে মেঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়-সুনামগঞ্জে নতুন করে হোম কোয়ারেন্টাইনে গেছেন ৭৫ জন। কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬০ জন। আইসোলেসনে নেয়া হয়েছে ৯ জনকে। সুস্থ হয়েছেন আরও ২ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৩৯৬ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানা যায়, অদ্যাবদি মোট কোয়ারেন্টিনে এসেছেন ৫২৫০ জন। পাশাপাশি কোয়ারেন্টিন সম্পন্ন করেছেন ৪৮৫৪ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ৬৩ জন। বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১০ জন এবং আইসোলেসনে আছেন ১১০ জন। গত ১ মার্চ থেকে বিদেশ থেকে জেলায় এসেছেন ২৫৩৬ জন।
করোনাভাইরাস শনাক্তে সোমবার পর্যন্ত সুনামগঞ্জে ৩ হাজার ৩৫৫ টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা করা হয়েছে ২ হাজার ৮০৩ টি নমুনা। সবচেয়ে বেশী ৫৮২ টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে। এরমধ্যে রিপোর্ট পাওয়া গেছে ৫৩৩ জনের।
এছাড়াও দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ১৫১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ১২৭ জনের, দিরাই উপজেলায় ২৩৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ১৯৫ জনের, শাল্লা উপজেলায় ১৯৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ১৫৩ জনের, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলায় ২৯২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ২৬৯ জনের, তাহিরপুর উপজেলায় ২০৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ১৮৯ জনের, জামালগঞ্জ উপজেলায় ২৫৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ২১৬ জনের, ধর্মপাশা উপজেলায় ২৬৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ২০০ জনের, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৩৭৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ২৯৭ জনের, ছাতক উপজেলায় ৫৪১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ৪১৯ জনের, জগন্নাথপুর উপজেলায় ২৫০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ২০৫ জনের নমুনার রিপোর্ট পাওয়া গেছে।
এই পর্যন্ত জেলায় ১৭৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৫৪ জন, দিরাই উপজেলায় ৭ জন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ১২ জন, ছাতক উপজেলায় ২৭ জন, জগন্নাথপুর উপজেলায় ১০ জন, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ১২ জন, শাল্লা উপজেলায় ৯ জন, জামালগঞ্জ উপজেলায় ৪ জন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ৯ জন, ধর্মপাশা উপজেলায় ১৬ জন, তাহিরপুর উপজেলায় ১৪ জন।
বর্তমানে জেলায় আইসোলেসনে আছেন ১১০ জন। এরমধ্যে সুনামগঞ্জ সদরে ৫১ জন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ৪ জন, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলায় ৩ জন, তাহিরপুর উপজেলায় ৮ জন, জামালগঞ্জ উপজেলায় ১ জন, ধর্মপাশা উপজেলায় ১১ জন, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৭ জন, ছাতক উপজেলায় ২১ জন, জগন্নাথপুর উপজেলায় ৪ জন।
এদিকে আজ পর্যন্ত করোনা থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ জন। এরমধ্যে সুনামগঞ্জ সদর ও হাসপাতাল থেকে ৩ জন, দোয়ারাবাজার উপজেলা থেকে ৫ জন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা থেকে ৮ জন, শাল্লা উপজেলা থেকে ৯ জন, জগন্নাথপুর উপজেলার ৬ জন, দিরাই উপজেলা থেকে ৭ জন, ছাতক উপজেলার ৫ জন, জামালগঞ্জ উপজেলা থেকে ৩ জন, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা থেকে ৬ জন, তাহিরপুর উপজেলা থেকে ৬ জন, ধর্মপাশা উপজেলা থেকে ৫ জন।
উল্লেখ্য, করোনা চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ১০০টি বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়াও ২০ জন ডাক্তার ও ১৪৩ জন নার্সও রয়েছেন। ছাতক, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, জগন্নাথপুর, ধর্মপাশা, দিরাই, শাল্লা উপজেলায় ৩টি করে বেড এবং সুনামগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ও আনিছা হেলথ কেয়ারে ২টি করে বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। চিকিৎসার জন্য ১৩১ টি বেড রয়েছে। এছাড়াও ৮৬ জন ডাক্তার, ২৪৭ জন নার্স প্রস্তুত রয়েছেন। আক্রান্তদের জরুরী চিকিৎসায় স্থানান্তরের প্রয়োজনে ১ টি এম্বুলেন্স প্রস্তুত রয়েছে। জরুরী বিভাগে আইসোলেশনের ব্যবস্থাও রয়েছে।