১০ ইউনিটে কমিটি গঠন নিয়ে আ.লীগে বিরোধ

বিশেষ প্রতিনিধি
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ আওয়ামী লীগের একাংশ এপ্রিলেই জেলার ১০ ইউনিটে নতুন কমিটি করতে চায়। আরেকাংশ চায় নতুন জেলা কমিটির নেতৃত্বে উপজেলা সম্মেলন হোক। আগামী ১৩ মার্চ সংগঠনের জেলা পর্যায়ের প্রতিনিধি সভায় এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। প্রতিনিধি সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। এই সভাকে কেন্দ্র করে দলের বিবদমান দুই অংশের কর্মীরা সক্রিয় হয়েছেন। ইউনিটে ইউনিটে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দলের দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, বিগত ইউপি নির্বাচনে দলীয় মনোনীত প্রার্থীদের জয়, পরাজয় নিয়ে পর্যালোচনা, সংগঠনের বিরোধ নিষ্পত্তি এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য দলকে প্রস্তুত করার লক্ষে ১৩ মার্চ সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন (সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত), প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখবেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্মসম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি। শনিবার কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ জেলা নেতৃবৃন্দকে প্রতিনিধি সভার তারিখ ও অতিথি নির্ধারণ করে দেন।
সংগঠনের জেলা পর্যায়ের প্রতিনিধি সভা নিয়ে দলীয় নেতা কর্মীরা তৎপর হয়েছেন। একইসঙ্গে উপজেলা ইউনিটের কমিটি গঠন নিয়েও আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
উপজেলা পর্যায়ে নতুন নেতৃত্বের নাম স্থানীয়, জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের আলোচনায়ও ওঠে আসছে।
এরমধ্যে সুনামগঞ্জ সদরে সভাপতি হিসাবে বর্তমান সভাপতি আবুল কালাম, মোবারক হোসেন, রাশেদ বখ্ত নজরুল, প্রদীপ পাল নিতাই, বিজয় কান্তি দে বিজু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জুনেদ আহমদ, ঝুটন পুরকায়স্থ, আসাদুজ্জামান সেন্টু, তারিখ হাসান দাউদ, জাকির হোসেন শাহীন, অ্যাড. শামীম আহমদের নাম আলোচনায় রয়েছে।
সুনামগঞ্জ পৌর কমিটিতে সভাপতি পদে বিকাশ কান্তি দে বাবুল, অ্যাড. মলয় চক্রবর্তী রাজু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জমিরুল হক পৌরব, সাজিদুর রহমান ও শাহরিয়ার কবির সায়েম’এর নাম আলোচনায় রয়েছে।
ছাতক উপজেলায় সভাপতি পদে ফজলুর রহমান, আওলাদ আলী রেজা, সৈয়দ আহমদ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আজমল হোসেন সজল, আবু সাদাত লাহীন, তাপস চৌধুরী ও বাবুল রায়’এর নাম আলোচনায় আছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলায় সভাপতি পদে ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক, ফরিদ আহমদ তারেক ও শামীমুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল খালিক ও আমিরুল হকের নাম আলোচনায়।
তাহিরপুর উপজেলায় সভাপতি পদে আবুল হোসেন খান, শামীম আহমদ আখঞ্জি, আলী মর্তুজা এবং সাধারণ সম্পাদক পদে অমল কর, নিজাম উদ্দিন, অনুপম রায় ও আলমগীর খোকন আলোচনায়।
জামালগঞ্জ উপজেলায় সভাপতি পদে মোহাম্মদ আলী ও নবী হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে শাহরিয়ার বিপ্লব, নাসিরুল হক আফিন্দি ও পারভেজ আহমেদের নাম আলোচনায়।
ধর্মপাশা উপজেলায় সভাপতি পদে মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপি, রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, শামীম আহমদ বিলকিস, ফখরুল ইসলাম চৌধুরী ও অ্যাড. আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক পদে শামীম আহমদ মুরাদ ও জুবায়ের পাশা হিমুর নাম আলোচনায়।
জগন্নাথপুর উপজেলায় সভাপতি পদে আকমল হোসেন, আবুল কাশেম, নুরুল ইসলাম, হারুনুর রশিদ, সিরাজুল হক ও সিরাজ উদ্দিন মাস্টার এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রেজাউল করিম রিজু, আবুল হাসান, মিজানুর রশিদ ভুইয়া, মাহবুব আলম শিরিন’এর নাম আলোচনায়।
দিরাই উপজেলায় সভাপতি পদে আলতাব উদ্দিন, হাফিজুর রহমান, অ্যাড. সুহেল আহমদ, প্রদীপ রায়, আজিজুর রহমান বুলবুল, সিরাজ উদ দৌলা তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোশারফ মিয়া, রঞ্জন কুমার রায় ও অভিরাম তালুকদারের নাম আলোচনায়।
শাল্লা উপজেলায় সভাপতি পদে অবনী মোহন দাস, ওয়ালিউল হক, আলামিন চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ব্যারিস্টার ডাল্টন তালুকদার, বিশ^জিৎ চৌধুরী নান্টু ও নওশের মনিরের নাম আলোচনায়।
সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বললেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই তৃণমূলে দলকে সংগঠিত করার উদ্যোগ হিসাবেই ১৩ মার্চ জেলা পর্যায়ের প্রতিনিধি সভা হবে। এই সভায় জেলার ১০ টি ইউনিটের সম্মেলন ও কমিটি গঠন নিয়েও আলোচনা হবে। রমজানের পরেই এসব ইউনিটে নতুন কমিটি হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট বললেন, বর্তমান জেলা কমিটির নেতৃত্বে সম্মেলন ও কমিটি গঠনে আমরা একমত নই। আমরা চাই না ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে যেভাবে বাণিজ্য হয়েছে এখানে সেটি হোক। এরা (বর্তমান জেলা কমিটি) দায়িত্ব পালনের সময় দল দুর্বল হয়ে গেছে। এই কমিটি থাকলে সংগঠন আরও দুর্বল হবে। নতুন জেলা কমিটির মাধ্যমে অথবা আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে উপজেলায় উপজেলায় সম্মেলন ও কমিটি গঠন করতে চাই আমরা।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান বললেন, কে কি বললেন, তাতে কিছু যায় আসে না, দল চলবে গঠনতন্ত্র মোতাবেক, উপজেলা ইউনিটগুলো হবে বর্তমান জেলা কমিটির মাধ্যমেই।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) আহমেদ হোসেন বললেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য দলকে প্রস্তুত করতে চাই আমরা। সুনামগঞ্জের সব কয়টি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলায় নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং জেলা কার্যকরি কমিটি সদস্যরা কেবল এই সভায় যোগ দিতে পারবেন। কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও জেলার এমপিগণ সভায় থাকবেন। যেসব ইউনিটে দলে বিভক্তির জন্য দুই কমিটি কাজ করছে, সেই উপজেলা ইউনিটের দুই পক্ষের সভাপতি সম্পাদকই সভায় থাকতে পারবেন। আমরা দুই পক্ষের বক্তব্য শুনবো, পরবর্তী পর্যায়ে সম্মেলন করে কমিটি গঠন হবে।
প্রসঙ্গত. ২০১৬ সালে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ জেলা সম্মেলন হয়। সম্মেলনে কেবল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা হয়েছিল। ২০১৭ সালে জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পর থেকে ওই কমিটিতেই চলছে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম