ধর্মপাশা প্রতিনিধি
বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের সামনে অপেক্ষমান। সেখানে একজন শিক্ষকও দাঁড়িয়ে আছেন। কিছুক্ষণ পর দুজন সহকারী শিক্ষক সেখানে পৌঁছান। কিন্তু ততক্ষণে সকাল ১০টা ৪০ বাজে। গত রোববার ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনয়িনের শরিশ্যাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমন চিত্র ফেসবুকে লাইভ করেন স্থানীয় আল মোজাহিদ নামের এক ব্যক্তি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে এ বিদ্যালয়ে এমন অবস্থা চলছে। ফলে পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যবত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়ায় এ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে আগেও একবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
আল মোজাহিদ বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের গাফিলতির কারণে পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যহত হওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে করে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।’
এ বিদ্যালয়ে ২০৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে সহকারী শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। মুক্তা খানম নামের এক সহকারী শিক্ষক বছরের শুরু থেকে সিইনএড প্রশিক্ষণে রয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সোনিয়া সুলতানা মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় সালমা আক্তার (আশরাফুল ইসলামের শালী) নামের আরেক শিক্ষককে বাখরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এ বিদ্যালয়ে প্রেষণে দেওয়া হয়। সোনিয়া সুলতানা মার্চে বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। এছাড়াও সহকারী শিক্ষক বিলকিস আরা চৌধুরী বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন। রোববার সহকারী শিক্ষক বিলকিস আরা চৌধুরী ছাড়া প্রত্যেকেই দেরিতে বিদ্যালয়ে পৌঁছান।
সহকারী শিক্ষক বিলকিস আরা চৌধুরী বলেন, ‘আমি নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে পেঁঁৗছাই। কিন্তু প্রধান শিক্ষক দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয়ে আসেন।’
সোনিয়া সুলতানা বলেন, ‘বৃষ্টি থাকায় ও গাড়ি না পাওয়া বিদ্যালয়ে যেতে কিছুটা দেরি হয়েছে।’
প্রধান শিক্ষক দেরিতে পৌঁছেছে জানিয়ে সহকারী শিক্ষক সালমা আক্তার বলেন, ‘৮টা ৪০ মিনিটে আমি বটতলা বাজারে ছিলাম। বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে অটোরিকশা রিজার্ভ করে ১০ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছাই। তখন মোজাহিদ আমার অনুমতি না নিয়েই ভিডিও ধারণ করে বিদ্যালয়ে দেরি পৌঁঁছার কারণ জানতে চায়। সে প্রায়ই এমন করে। আর দেরি হওয়ার কারণ প্রধান শিক্ষকে জানিয়েছি।’
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যালয়ের পাশের বাড়িতে একটি শিক্ষক অসুস্থ্য শিক্ষার্থীকে দেখতে গিয়েছিলাম। পরে শুনি এমন অবস্থা। সকল শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। বৃষ্টির কারণে শিক্ষকেরা এই বারান্দায় ওই বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। মোজাহিদ বিদ্যালয়ে সভাপতি হতে চেয়েছিল। না হতে পেরে এমনটি করছে।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র দাস বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়ায় এর আগেও এবার আশরাফুল ইসলামকে শোকজ করা হয়েছিল। রোববার ১০টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যালয় তালাবদ্ধ থাকায় প্রত্যেক শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’


