বিশেষ প্রতিনিধি
‘আমরা ৭ জন স্টাফ। এর মধ্যে ২ জন মাস্টার রোলের। এই স্টাফদের কেউ বিএডিসির ৫ একরের ক্যাম্পাসে থাকেন না। ক্যাম্পাসের দুই তলা ২ টি, ৩ তলা ১ টি এবং ১ তলা ৪ টি ভবনের ১ টিতে মসজিদের ইমাম- মোয়াজ্জ্বিন থাকেন। শহরের সুবিধাজনক স্থানে দেওয়াল বেষ্টিত এতো বড় একটি স্থাপনা কোন কাজেই আসছে না বললে চলে। হয় সরকার বিএডিসিকে ১৯৮০-৮১তে যেমন ছিল, সেভাবে কাজে লাগাতে পারে, না হয় এই জমি-ভবন অন্য কোন সরকারি কাজে ব্যবহার করতে পারে। সুনামগঞ্জ বিএডিসির (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন) একজন কর্মচারীর মন্তব্য এটি।’ এই কর্মচারী মনে করেন সুনামগঞ্জ বিএডিসিতেই প্রায় ৩০০ কোটি টাকার জমি অকেজো পড়ে আছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সুনামগঞ্জ বিএডিসি’র ক্যাম্পাসে ৩ টি বহুতল ভবনসহ ১৫ ভবন থাকলেও এখানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী মাত্র ৫ জন। তারা ক্যাম্পাসের ভিতরে থাকা অফিস ভবনটি কেবল অফিস করার প্রয়োজনে ব্যবহার করেন। এছাড়া সহকারী প্রকৌশলীর বাসভবন, রেস্টহাউস, দু’তলা দুটি ভবন, ৩ তলা একটি ভবন, ১ তলা ৪ টি ভবনের ৩ টি, ১ টি ওয়ার্কশপ ও ১ টি পাম্প হাউস অব্যবহৃত থাকে। তবে ১ তলার অপর ৩ টি ভবন গোডাউন হিসাবে ব্যবহার করা হয় বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। আরেকটি ১ তলা ভবনে ক্যাম্পাসে থাকা মসজিদের ইমাম মোয়াজ্জ্বিন থাকেন।
১৯৬২টিতে দেশে বিএডিসি’র কার্যক্রম শুরু হয়। পূর্ব পাকিস্তান কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (ই-পিএডিসি) নামে এই প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করে। ১৯৭২ সালে এটি’র নামকরণ
হয় বিএডিসি। ৯১ সাল পর্যন্ত সুনামগঞ্জ বিএডিসিতে শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন। ঐ সাল থেকেই সরকার বিএডিসি’র কার্যক্রম সংকোচিত করা শুরু করলে জনবলও কমানো শুরু হয়। একদিকে কাজ কমানো হচ্ছে। অন্যদিকে জনবলও কমতে কমতে এখন সুনামগঞ্জ বিএডিসিতে একজন সহকারী প্রকৌশলী এবং একজন উপসহকারী প্রকৌশলী। অন্যান্য পদের ৫ জন কর্মচারীর মধ্যে ৩ জন সরকারি কর্মচারী এবং ২ জন রয়েছেন মাস্টার রোলের কর্মচারী।
সুনামগঞ্জ বিএডিসির ক্যাম্পাসে জমি রয়েছে ৫ একর। পুরোটাই দেওয়াল বেষ্টিত। মূল ফটকে গেট রয়েছে। বিএডিসি ক্যাম্পাসে একটি মসজিদ রয়েছে। এটি বিএডিসির পাশের মহল্লা হাজীপাড়ার লোকজন নামাজ আদায় করেন।
সুনামগঞ্জ জেলা সিপিবি’র সভাপতি চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন,‘বিএডিসি ক্যাম্পাসে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার জমি অকেজো পড়ে আছে। এক পর্যায়ে এসব জমি বেহাত হয়ে যেতে পারে। শহরের ভালো স্থানে এতো জমি পাওয়া কঠিন ব্যাপার। বিএডিসি’র উল্টো দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়। মূল ফটকের একটু সামনেই সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়ক। এমন ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থায় থাকা এই ক্যাম্পাসে সুনামগঞ্জ- নেত্রকোনা এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলের কাজে লাগে এমন বড় কোন স্থাপনা হতে পারে। যেমন কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কৃষি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, নার্সিং ইনস্টিউট এমনকি একটি আইন কলেজও হতে পারে।’
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক পারভেজ আহমদ চৌধুরী বলেন,‘বিএডিসি ক্যাম্পাস শহরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত এবং বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে এর ভেতরে। যা এখন কাজে লাগছে না বললেই চলে। এখানে ভালো কোন প্রতিষ্ঠান হতে পারে। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং শহরের বিশিষ্টজনদের চেষ্টায় এই জমি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে কাজে লাগানো যেতে পারে। না হয় এটি বেহাত হওয়ারও আশংকা রয়েছে’।
বিএডিসির সিলেট অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণজিৎ কুমার দেব বলেন,‘বিএডিসি ক্যাম্পাসের দু’তলা দুটি, তিন তলা একটি এবং এক তলা ৩ টি ভবন, ওয়ার্কশপ ভবনসহ কয়েকটি ভবন ফাঁকা আছে, কিছু ভবন ব্যবহার অনুপযোগিও আছে। ভেতরের কিছু জমি (এক কেদারের মতো) অবশ্য আমরা উন্নত জাতের ধানের প্রদর্শনী খামার করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছি।’
বিএডিসি ক্যাম্পাসের বিপূল পরিমাণ জমি কোন কাজে লাগছে না এটি স্বীকার করে তিনি বলেন,‘সিলেট অঞ্চলে ৬০ হাজার হেক্টর অনাবাদী জমি রয়েছে। এসব জমি চাষাবাদের উদ্যোগ নেওয়াসহ নানা কাজের মাধ্যমেই বিএডিসি নিজের সম্পদ কাজে লাগাতে পারে। অন্য কোন প্রতিষ্ঠান হবার বিষয়ে মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে প্রয়োজন রয়েছে’।


