আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
সুনামগঞ্জের সর্ববৃহৎ বোরো ফসলি ধান চাষের হাওর তাহিরপুর উপজেলার শনি, মাটিয়ান, মহালিয়া, জিনারিয়া, বাদেকানামুইয়া, বলদা, পানা, উলান, কলমা, নোয়াল, গলগলিয়া ও সমসা—চুনখলা হাওরে জলাবদ্ধতায় প্রতি বছর অনাবাদি জমির পরিমাণ বাড়ছে। প্রতি বছর পাহাড়ি ঢলে বালি ও পলি পড়ে উপজেলার সব‘কটি নদীর তলদেশ উঁচু হওয়ায় হাওর থেকে পানি নিষ্কাশনের খাল ও নালা ভরাট এবং অপরিকল্পিত স্লুইচ গেট নিমার্ণের ফলে উপজেলার এ ১২টি হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে জলাবদ্ধতা স্থায়ী হয়ে পড়ায় জমিগুলো অনাবাদী থেকে আগাছায় ভরে গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, স্থায়ী জলাবদ্ধতায় ৫ হাজার একর জমি অনাবাদি হয়েছে। তবে এলাকার কৃষক ও কৃষির সাথে সম্পৃক্ত লোকজন বলছেন অনাবাদি জমির পরিমাণ হবে ১৫ হাজার একর। সমস্যার সমাধানে তারা নদী খনন, হাওর থেকে পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল ও নালা কাটা ও পরিকল্পিত স্লুইচ গেইট নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
মাটিয়ান হাওরপাড়ের আনন্দনগর গ্রামের কৃষক নজির হোসেন বলেন, মাটিয়ান হাওরের জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের। তিনি আরো জানান, হাওরটির ৭ হাজার একর জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। জলাবদ্ধতাজনিত কারণে দিন দিন অনাবাদি জমির পরিমাণ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
শনির হাওর পাড়ের মারালা গ্রামের কৃষক ইউপি সদস্য মিয়া হোসেন বলেন, গত ২০ বছর ধরে শনির হাওরে জলাবদ্ধতা জনিত কারণে অনাবাদি জমির পরিমাণ বাড়ছে। বর্তমানে হাওরটির ৫ হাজার একর জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
শনির হাওরের পানি নিষ্কাশনের জন্য হাওরটির পশ্চিম দিকে অপরিকল্পিতভাবে ১৯৯৫ সালে একটি স্লুইচ গেইট নির্মাণ করা হয়। কিন্তু হাওরটির আহাম্মকখালী বাঁধের সম্মুখে বৌলাই নদীতে চর পড়ে যাওয়ায় স্লুইচগেইটটি দিয়ে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে হাওরটির উত্তর পশ্চিম দিকের পানি নিষ্কাশনে সময় বেশী লাগে আর এ থেকেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।
দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের লামাগাঁও গ্রামের কৃষক বজলু মিয়া বলেন, জলাবদ্ধতায় গলগলিয়া হাওরে তার ৩ একর জমি গত ২০ বছর ধরে আবাদ করতে পারছিনা।
মাটিয়ান হাওরপাড়ের রতনশ্রী গ্রামের কৃষক কয়েস মিয়া জানান, হাওরটিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় হওয়ায় ১৫ বছর ধরে তাদের ৬ একর জমি অনাবাদি থাকছে। দীর্ঘদিন ধরে অনাবাদী থাকার কারণে জমিগুলো আগাছায় জঙ্গল হয়ে পড়েছে।
শনির হাওরপাড়ের নোয়ানগর গ্রামের মুবাশ্বির আলী (৫১) বলেন, আমার ৫ একর জমির সবটুকুই ১৮ বছর ধরে পানির তলে থাকায় ধানের চারা লাগাইতে পারি না।
তাহিরপুর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল হাসান বলেন, হাওরগুলোর ৫ হাজার একর জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে নানা কারণে জলাবদ্ধতা দিন দিন বাড়ছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হান কবীর বলেন, হাওরের জলাবদ্ধতা দূর করা এবং অকাল বন্যার হাত থেকে বোরো ফসল রক্ষায় নদী খনন কাজ চলছে। খনন কাজ সম্পন্ন হলে এ সমস্যা আর থাকবে না।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. হাসান—উদ—দৌলা বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে হাওরের পানি বের হওয়ার জন্য খালগুলো খননের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ—১ নির্বচনী এলাকার সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, নদীগুলো খনন কাজ চলছে। তাছাড়া হাওরের ভেতরের পানি নিষ্কাশনে ছোট ছোট খালগুলো খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


