সু.খবর রিপোর্ট
দ্বিতীয় ধাপে জেলার ছাতক ও দোয়ারাবার উপজেলার ১৯টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আজ বৃহস্পতিবার। এর মধ্যে ছাতক উপজেলায় ১০টি ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৯টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে ১ টিতে ইভিএম এবং ১৮টি ইউপিতে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরুর ৩২ ঘণ্টা আগে প্রচারকাজ বন্ধ করতে হয়। সেজন্য ইউনিয়নে প্রচারণা শেষ হয়েছে গত মঙ্গলবার রাত ১২টায়। ভোটগ্রহণ শুরু হবে আজ ১১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হবে।
দ্বিতীয় ধাপে আজ ছাতক উপজেলার ছাতক সদর, কালারুকা, ছৈলাআফজলাবাদ, খুরমা দক্ষিণ, চরমহল্লা, দোলারবাজার, জাউয়াবাজার, খুরমা উত্তর, ইসলামপুর, গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও, দোয়ারাবাজার উপজেলার দোয়ারাজার সদর, পান্ডারগাঁও, বাংলাবাজার, সুরমা, লক্ষীপুর, বোগলা, দোহালিয়া, নরসিংহপুর, মান্নারগাঁও ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ করা হবে। দোয়ারাবাজার উপজেলার দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে।
বুধবার সকাল থেকেই নির্বাচনী মালামাল গ্রহণ করে সংশ্লিষ্টরা যার-যার গন্তব্যে পৌছে গেছেন। নির্বাচনকে ঘিরে বুধবার উপজেলা চত্ত্বর ও শহর এলাকায় বিরাজ করছিল অন্যরকম এক উৎসবমুখর পরিবেশ। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নির্বাচনী সরঞ্জাম প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের মাঝে বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি নির্বাচনী কাজে দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত আনসার, পুলিশ ও মহিলা আনসারদের পদচারণায় মুখরিত ছিল উপজেলা চত্ত্বর। নিয়োগপ্রাপ্ত ৫ জন রিটার্নিং অফিসার নির্বাচনী কাজে বুধবার সারা দিন ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। এদিকে র্যাব, বিজিবি, স্ট্রাইকিং ফোর্স, পুলিশের বিশেষ টিম টহল দিয়ে নিরাপত্তার বিষয়টি জানান দিয়েছেন। চারস্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে র্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর পাশাপাশি ভ্রাম্যমান আদালত ও ষ্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়মিত মোবিং করবে প্রতিটি ইউনিয়নের কেন্দ্রে-কেন্দ্রে।

এদিকে আজ ১১ দোয়ারাবাজার উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই উপজেলা সদর ইউনিয়নের ৯ টি ওয়ার্ডে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এর মাধ্যমে ও বাকি ৮ টি ইউনিয়নের ৭৩ টি কেন্দ্র ব্যালটের মাধ্যমে ১লক্ষ ৬৯ হাজার ৯৭ জন ভোটার ভোট প্রয়োগ করবে। সকল কেন্দ্রের ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর দুইটায় দোয়ারাবাজার নির্বাচন অফিস থেকে ভোট গ্রহণের স্বচ্ছ ভোটের বাক্স, সিলমোহর, অমোচনিয় কালিসহ অন্যান্য আনুসাঙ্গিক সামগ্রী বিতরণ করা হয়। ভোট গ্রহণের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা এসব সামগ্রী গ্রহণ করে কড়া নিরাপত্তায় নিয়ে যাচ্ছে প্রতিটা কেন্দ্র কেন্দ্রে। উপজেলার অডিটোরিয়াম হলরুমে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ব্যালট পেপার ও ভোটের সরঞ্জাম বিতরণ করেন দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাংশু কুমার সিংহ। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন, দোয়ারাবাজার সরকারি ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক শের মাহমুদ ভূঁইয়া, প্রভাষক সাইফুল ইসলাম, সমুজ আলী স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক রোকনুজ্জামান, প্রভাষক বিধান চন্দ্র দাশ প্রমুখ।
নির্বাচন উপলক্ষে যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার বা নির্বাচনী কার্যক্রমের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে সেগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকাধীন স্বাস্থ্যসবা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ সকল অফিস/সংস্থা/প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মশিউর রহমান তালুকদার।
ইউপি নির্বাচনে জেলায় দুই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৯২ জন এবং সদস্যপদে ৯৪২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দোয়ারাবাজার উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ৮২টি ভোটকেন্দ্রে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৭ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরমধ্যে মহিলা ভোটার সংখ্যা ৮৩ হাজার ৫৫৬ জন, পুরুষ ভোটার ৮৫ হাজার ৫৪০ জন এবং হিজরা ভোটার রয়েছে ১ জন।
জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট রিটানিং কর্মকর্তারা জানান, এরই মধ্যে ২য় ধাপের ভোট গ্রহণের সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে নির্বাচনী এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেট ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে প্রচার-প্রচারণা শেষে ভোটের হিসাব কষছেন প্রার্থীরা। শেষ মুহূর্তে ভোটারদের নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রার্থী ও সমর্থকরা নিরবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মোবাইলফোনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রার্থী ও সমর্থকরা ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।
ছাতক উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফয়েজুর রহমান বলেন, ছাতক উপজেলার ১০ ইউনিয়ন পরিষদে সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে নির্বাচনী মালামাল পৌঁছে দেয়া হয়েছে। ১০৯টি কেন্দ্রে প্রায় ১ লক্ষ ৮৬ হাজার ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনে উপলক্ষে প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, র্যাব, ম্যাজিস্ট্রেট, আনসার, বিজিবি সহ স্ট্রাইকিং ফোর্স দায়িত্ব পালন করবে।
এদিকে ভোটগ্রহণ উপলক্ষে ইতোমধ্যে ১২ নভেম্বর ভোর ৬টা পর্যন্ত বাইক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। বুধবার (১০ নভেম্বর) মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) মধ্যরাত পর্যন্ত সব যন্ত্রচালিত যান (ইসির অনুমতিপ্রাপ্ত যানবাহন ব্যতীত) চলাচল বন্ধ থাকবে। নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের আগ পর্যন্ত কোনো মিছিল, শোভাযাত্রাও করা যাবে না।


