সোহেল তালুকদার, শান্তিগঞ্জ
শান্তিগঞ্জে অগ্রক্রয় (শফি) মোকদ্দমার টানা ২২ বছর পর পৈত্রিক সম্পত্তি ফিরে পেয়েছেন পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামের শফিকুর রহমানের পরিবার।
সুনামগঞ্জ জেলার যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে শফিকুর রহমান বাদী হয়ে নুরুননেছা গংদের বিরুদ্ধে সর্বশেষ দায়েরকৃত ০১/২০১৯ ইং বিবিধ জারী মামলায় গত ২৩ মার্চ শফিকুর রহমানের পরিবারের পক্ষে রায় দেন আদালত।
শুক্রবার সকালে আদালতের রায় মোতাবেক সরেজমিন উপস্থিত হয়ে আলমপুর গ্রামের পূর্বের হাওরে ২ একর ৭০ শতক আমন ও বোর জমি পরিমাপ করে লাল নিশান স্থাপন করে শফিকুর রহমানের পরিবাবর্গকে বুঝিয়ে দিয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা জজ আদালতের নাজির কামরুজ্জামান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জজ আদালতের কমিশনার মো. মনসুর আলম তালুকদার, জারীকারক আতিকুর রহমান, সার্ভেয়ার মাছুম আলম, শান্তিগঞ্জ থানার এস আই মোহন রায়, পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য জাহির আলী, সাবেক মেম্বার সমসের আলী, শফিক উদ্দিন, আলমপুর ও ঘোড়াডুম্বর ও জালিয়া গ্রামের সালিশ ব্যক্তিত্ব আসকর খাঁন, কালা মিয়া, মইন উদ্দিন, আতাউর রহমান, মাওলানা আব্দুর রইফ, আলী হোসেন, আব্দুল মতিন, মাওলানা আনোয়ার হোসেন, আনিছ আলী, কবির উদ্দিন, ইসলাম উদ্দিন, আছাব আলী, আব্দুল সালাম, ফয়েজ আলী প্রমুখ।
ভোক্তভোগী শফিকুর রহমান জানান, আলমপুর চক মৌজাস্থিত জেএল নং-২২২, এস এ দাগ নং-১৩৫৪, ১৩৫৫ দাগে ২ একর ৭০ শতক ভূমি আমার বাবার পৈত্রিক সম্পত্তি। যৌথ সম্পত্তি থাকাকালীন আমার বাবাকে না জানিয়ে আমার চাচা আব্দুন নুর মামলার বিবাদী লন্ডন প্রবাসী নুরুন নেছার কাছে বিক্রি করেন। জমি বিক্রির খবর পেয়ে আমার বাবা বিগত ২০০১ ই সনে সুনামগঞ্জ জেলা জজ আদালতে জমির সঠিক মূল্য জমা করে ভূমি অগ্রক্রয় মোকদ্দমা ০১/২০০১ দায়ের করেন। সেই মামলায় আমার বাবার পক্ষে রায় হওয়ার পর বিবাদী পক্ষ ১ম জজ আদালতে আপীল দায়ের করলে সেই মামলায় বিবাদী পক্ষ রায় পায়। পরবর্তীতে আমার বাবা হাইকোর্টে বিবাদীদের বিরুদ্ধে আপীল রিভিশন মামলা নং-৭০৯/২০০৬ দায়ের করলে উচ্চ আদালত বিগত ৫ আগস্ট ২০১৮ ইং তারিখে আমাদের পক্ষে রায় দেন। আমার পিতা মারা যাওয়ার পর আমি বাদী হয়ে জায়গার মালিকানা বুঝে পাওয়ার জন্য নুরুননেছা গংদের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ জেলার যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে দায়েরকৃত ০১/২০১৯ ইং বিবিধ জারী মামলায় বিগত ২৩ মার্চ ২০২৩ ইং তারিখে আদালত আমার পক্ষে রায় দেন। সেই রায় মোতাবেক আদালতের লোকজন আমাকে জায়গা পরিমাপ করে বুঝিয়ে দেওয়ায় আজ আমি আনন্দিত। তিনি আরও জানান, প্রতিপক্ষের লোকজন খুবই প্রভাবশালী, যে কোন সময় পুনরায় জমি দখল সহ দাঙ্গা-হাঙ্গামা, খুন খারাপী করতে পারে সেজন্য প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করি।
এ ব্যাপারে বিবাদী পক্ষের ইয়াহিয়া আহমদ সুমন জামান, আমরা এই ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টে আপীল করেছি। কোর্টের স্থগিতাদেশও আছে। কিন্তু কাগজ সুনামগঞ্জ জজ কোর্টে না দেওয়ায় এ রায় হয়েছে। আমি অচিরেই কাগজাদি জজকোর্টে পৌঁছাব।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ জজ আদালতের নাজির কামরুজ্জামান বলেন, আদালতের রায় মোতাবেক আমি সহ প্রশাসনের লোকজন উপস্থিত হয়ে বাদী পক্ষের অনুকূলে জায়গা পরিমাপ করে বুঝিয়ে দিয়েছি।
- শান্তিগঞ্জে ব্রি-২৮ জাতের ধানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক/ ১১শ’ হেক্টর জমির ধানে চিটা
- ধর্মপাশায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন


