সু.খবর ডেস্ক
চলতি বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে ৬ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধান এবং ৪০ টাকা কেজি দরে ১০ লাখ মেট্রিক টন সেদ্ধ চাল কিনবে সরকার। সোমবার সকাল ১১টার দিকে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, ধান ও সেদ্ধ চালের পাশাপাশি ৩৯ টাকা কেজি দরে ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন আতপ চালও কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
খাদ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে ধান ও ৭ মে থেকে চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়ে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।
গত বোরো মৌসুমে ৬ লাখ মেট্রিক টন ধান ও ১১লাখ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছিল সরকার।
ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, বাজারে চালের দামের ঊর্ধ্বগতি রোধ করতে পেরেছি বলে আমরা বিশ্বাস করি। দেশের বাজারে চালের দাম আর বাড়তে দেবো না।
বোরো সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও চালের দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, তথ্য বিভ্রাট হলে তখন কিন্তু একটু সমস্যা হয়ে যায়। যখন দেখা যায় চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা তিন কোটি ৮৭ লাখ ২৪ হাজার টন। বিবিএসের রিপোর্টে যখন দেখা যায় উৎপাদন তিন কোটি ৬৬ হাজার টন। ২১ লাখ টন কম উৎপাদিত হয়েছে আম্পান ও চারবার বন্যার কারণে, সেই কারণে দাম বাড়াটা সম্ভব। সেটাকে মোকাবিলার জন্য আমাদের নানাবিধ পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। বাজারে চালের দামের ঊর্ধ্বগতি রোধ করতে পেরেছি বলে আমরা বিশ্বাস কবি। চালের দাম আর বাড়তে দেবো না।
বাজারে দাম বেশি থাকলে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয় না। এবার এ আশঙ্কা করছেন কিনা এ বিষয়ে সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, এখনও আমরা সেই আশঙ্কা করছি না। কারণ এখনও ফসল ভালো। কোনো প্রাকৃতিক দুযোগ যদি না হয়, ধান যদি তোলা যায়, এবার অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
এবার বোরো ধান ও চালের কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ কতো জানতে চাইলে তিনি বলেন, একেক জায়গা থেকে একেক রকম এসেছে। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে এক রকম, কৃষি বিপণন অধিদফতর থেকে এক রকম। তবে সরকার যে সেচে, সারে প্রণোদনা দেয় তাতে আমি মনে করি উৎপাদন খরচ থেকে তাদের লাভবান করে এ রেট দেওয়া হয়েছে।
এবার ধানে গত বছরের চেয়ে এক টাকা ও চালে তিন টাকা বাড়ানো হলো, এটার মাধ্যমে কী কৃষকের প্রতি সদয় দৃষ্টি দেওয়া হলো। আপনি কী মনে করেন এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, একটা জিনিস মনে রাখতে হবে ৬০ কেজি ধানে ৩৯ কেজি চাল হয়, সেই হিসেবে প্রতিকেজি ধানের দাম ২৭ টাকা হলে প্রতিকেজি চালের দাম হওয়ার কথা ৪২ টাকা কয়েক পয়সা। খুদ-কুড়ো বাদ দিয়ে আমরা দাম ৪০ টাকায় এনেছি। এর চেয়ে দাম বাড়ানো হলে বাজারে চালের দাম আরও বাড়বে। এতে আরও অস্থিরতা দেখা দেবে।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আশা করি সঠিকভাবে আমরা ধান-চাল কিনতে পারবো, মাঠ পর্যায়ে আমরা সেই নির্দেশনা দিয়েছি। মাঠ পর্যায়ে এ নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে যে, কোনো কৃষক যাতে ধান নিয়ে এসে ফেরত না যায়। কোনো ঝামেলা না হয়। চালের মানের বিষয়ে কোনো কম্প্রোমাইজ নেই। সঠিকতা বজায় রেখে ৪০ শতাংশ আর্দ্রতার চাল ও ধান কেনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বোরো মৌসুমে চাল আমদানি অব্যাহত রাখা হবে কিনা এবং রাখলে কৃষকরা কতোটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হবে সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, আমাদের যে বেসরকারি আমদানি সেটা বন্ধ হয়েছে। বন্ধ হয়েছে বলতে যতটুকু এলসি করেছে সেটা ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আমদানি বা আনাতে হবে। যদি না আনতে পারে তাহলে ৩০ এপ্রিলের পরে বেসরকারিভাবে দেশে কোনো চাল ঢুকবে না। কৃষকের যাতে ক্ষতি না হয় সে কথা বিবেচনায় নিয়েই ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছি।
২০০ পেডি সাইলোর অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী সাধন আরও বলেন, ৫ হাজার টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ২০০টি পেডি সাইলো করার সিদ্ধান্ত নিয়ে এ সংক্রান্ত একটি প্ল্যান পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তারপর পাইলট প্রকল্প হিসেবে ৩০টি জিওবি ফান্ডের মাধ্যমে অনুমোদন করা হয়। সেখানে ৫ হাজারের স্থানে ভলিউম বাড়িয়ে ১০ হাজার করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশি ফান্ডে আরও ১৭০টি পেডি সাইলোর জন্য ইআরডিতে আবেদন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে খাদ্য সচিব বলেন, আমাদের সাড়ে ছয় লাখ টন ধান, সাড়ে ১০ লাখ টন সিদ্ধ চাল ও এক লাখ টন আতপচাল কনভাট করলে আমাদের ১৫ লাখ ২০ হাজার টন চাল হবে। প্রয়োজন হলে আমরা আরও বেশি কিনতে পারবো। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ধান ক্রাসিং নিয়ে। বরিশাল এলাকায় আমাদের প্রায় ৬০০ টন ধান রয়েছে যা কোনো মিল ক্রাস করে দিচ্ছে না। কারণ বরিশালে কোনো মিলার নেই। তাই ধান কিনে সারা বছর আমাদের ধান রেখে দিতে হচ্ছে। এসমস্ত জটিলতা আছে আমাদের। এজন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ছয় লাখ টন ধান কিনবো। প্রয়োজন হলে আরও কেনা হবে।
একই সঙ্গে ধান দিতে লটারিতে কৃষকের নাম উঠলে সে যাতে অন্য কারো কাছে স্লিপটা বিক্রি না করে সংবাদ সম্মেলনে সেই অনুরোধ জানান খাদ্য সচিব নাজমানারা খানুম।
উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান, খাদ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, খাদ্য অধিদপ্তর এবং খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ। তবে কিছু নীতিগত সমস্যার কারণে ওইদিন সংবাদ সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি।
- মহামারী থেকে দ্রুত পুনরুদ্ধারের উন্নত বিশ্বের ভূমিকা জোরদারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- চলমান বিধি-নিষেধ লকডাউন বাড়ছে আরও এক সপ্তাহ


