সুব্রত কুমার দাশ খোকন, শাল্লা
আহব্বায়ক কমিটি গঠনের ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ শাল্লা শাখা। এদিকে, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না হওয়ায় স্থবির হয়ে আছে ছাত্রলীগ শাল্লা শাখার যাবতীয় কার্যক্রম।
ছাত্রলীগ শাল্লা শাখা সূত্রে জানা যায় ২০১২ সালে পলাশ চৌধুরীকে আহব্বায়ক করে ১১ সদস্যের আহব্বায়ক কমিটি করে দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য জনাব সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি। কমিটিকে ৩ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি উপহার দিতে বলা হয়েছে কিন্তু ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও বর্তমান আহব্বায়ক কমিটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি উপহার দিতে পারেনি। কমিটির ১ম যুগ্ম আহবায়ক রকিব চৌধুরী বিদেশে ২য় যুগ্ম আহব্বায়ক সন্দিপন সরকার সিলেটে পড়াশুনার পাশাপাশি
পার্টটাইম চাকুরী করছেন। সদস্য রক্সি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে চাকুরিরত বাকীদের মধ্যে ৩জন সিলেটে অবস্থানরত অন্যদের মধ্যে একমাত্র আহব্বায়ক পলাশ চৌধুরী ছাত্র রাজনীতে সক্রিয় বাকি ৩ জন কেউ ব্যবসা কেউ বা সংসারের চাপে নিজেকে ছাত্র রাজনীতি থেকে গুটিয়ে ফেলেছেন।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও শাল্লায় ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৯ সালে। এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা অনাদি তালুকদারের হাত ধরে। ১৯৮৯ সালে অনাদি তালুকদার-কে আহব্বায়ক ও তৌফিক মিয়া কে যুগ্ম আহব্বায়ক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি দিয়ে শাল্লায় ছাত্রলীগের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত গণতন্ত্রী পার্টি থেকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে যোগদান করেন ১৯৯৪ ইং সনের ২৬ অক্টোবর। তখন গণতন্ত্রী পার্টির ছাত্র সংগঠন ছাত্র ঐক্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাথে মিশে যায়। তখন ছাত্রলীগের মধ্যে দুইটি গ্রুপের জন্ম হয়। একটি সুরঞ্জিত গ্রুপ অপরটি সামাদ গ্রুপ। সুরঞ্জিত গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন বিশ^জিত চৌধুরী নান্টু এবং সামাদ গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন অনাদি তালুকদার এবং রেজাউল করিম লিটন। তখনকার সময় জাতীয় দিবসগুলো দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পালন হতো। অনাদি তালুকদার চাকুরী সূত্রে রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার পর আহব্বায়ক হন অবিনাশ সরকার। অবিনাশ সরকারের পর পলাশ চৌধুরী টুটুল-কে আহব্বায়ক করা হয়। বর্তমানে পলাশ চৌধুরী ২০১২ ইং হতে আহব্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
অথচ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ১১ (খ) ধারা অনুযায়ী ২ বছর পর পর সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও শাল্লা ছাত্রলীগের কার্যক্রম চলছে গঠনতন্ত্র না মেনেই। এখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আহব্বায়ক কমিটির তালিকা করে দেন এবং জেলা ছাত্রলীগের অনুমোদন না নিয়েই চলে ছাত্রলীগের যাবতীয় কার্যক্রম। সেই ১৯৮৯ সাল থেকে ২৭ বছরের মধ্যে কোন আহব্বায়ক কমিটিই সম্মেলন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি। অথচ শাল্লায় ছাত্র রাজনীতিতে এমন ছাত্রের মধ্যে শতকরা ৯০ জনই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। এ নিয়ে ছাত্রলীগের নবীনদের মধ্যে ক্ষোভের অন্ত নেই।
উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান আহব্বায়ক পলাশ চৌধুরী বলেন- জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফজলে রাব্বী স্মরণ ভাইকে বার বার সম্মেলনের তারিখের কথা বলা হলেও উনি স্থানীয় সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের অনুমতি নিতে বলেন। এই দু-টানায় পরে এতদিন যাবৎ পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারিনি।’
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফজলে রাব্বী স্মরণ বলেন- আমাদের নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সঙ্গে কথা হয়েছে অচিরেই সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। মাননীয় মন্ত্রী মান্নান সাহেব, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বারিস্টার এনামুল করিম ইমন উনাদের পরামর্শে সকলের সমম্বয়ে শাল্লা উপজেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি উপহার দেয়া হবে।


