স্টাফ রিপোর্টার, শাল্লা
শাল্লা উপজেলায় ৩৮ জন গ্রাম পুলিশ ও দফাদার বেতন প্রদানের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন। রবিবার দুপুর ১২ টায় তারা এই স্মারকলিপি দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৯ মাস যাবত সরকারের বরাদ্দকৃত বেতন পাচ্ছেন না তারা। এই অবস্থায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গ্রাম পুলিশের বেতনের অর্ধেক পায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আর বাকী অর্ধেক পায় সরকারি বরাদ্দ থেকে। উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ৩৮ জন গ্রাম পুলিশ ও দফাদার রয়েছেন। আটগাঁও ইউনিয়নে ৭ জন পুরুষ, ১ জন নারী, হবিবপুুরে পুরুষ ৬ জন, নারী ৩ জন, ১ জন দফাদার, বাহাড়া ইউনিয়নে ২ জন নারী, পুরুষ ৭ জনসহ দফাদার ১ জন, শাল্লা ইউনিয়নে ২ জন নারী, ৭ জন পুুুুরুষ, ১ জন দফাদার নিয়োজিত রয়েছেন।
হবিবপুর ইউনিয়নের দফাদার সুদীপ দাস জানান, ২৯ মাস ধরে সরকারি বেতন ভাতা পাচ্ছি না। তিন ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে বিপদে পড়েছি। ধার দেনা করে চলতে হচ্ছে।
শাল্লা ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ প্রাণনাথ দাস বললেন, অসুস্থ শরীর নিয়ে প্রতিদিন বেতনের খোঁজে উপজেলা সদরে আসি। চিকিৎসার টাকাও হাতে নেই, এমনকি আসা যাওয়ার ভাড়াও নেই আমার। এজন্য ৫ কিলোমিটার হেঁটে রৌয়া গ্রাম থেকে সদরে আসি।
বাহাড়া ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ হরিকান্ত দাস বললেন, উপজেলা সদরে আসার ভাড়ার টাকা হাওলাত করে নিয়ে এসেছি, সংসার নিয়ে চলতে খুব কষ্ট হচ্ছে।
হবিবপুর ইউনিয়নের সচিব সমীর চন্দ্র সরকার বললেন, আমাদের বেতনই ঠিকমতো পাচ্ছি না, প্রায় এক বছর ধরে আটকে রয়েছে। গ্রাম পুলিশদের বেতন উপজেলা পরিষদ থেকে দেয়া হয়। উপজেলা পরিষদের তহবিলে টাকা না থাকায় গ্রাম পুলিশরা বেতন দেয়া যাচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে।
হবিবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল বললেন, গ্রাম পুলিশদের বেতন বিল ইউএনও অফিস জমা দেওয়া হয়, তারা এই বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আল আমিন চৌধুরী বললেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেব আমি।


