সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলীপাড়া ও শহরতলীর কাঠইর এলাকায় ২টি নার্সিং কলেজ স্থাপনের সংবাদটি আনন্দের। স্বাস্থ্যসেবা খাতের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ নার্সিং পেশা। প্রচুর তরুণ-তরুণী এখন এই পেশায় আসতে চায়। সাধারণত একটু কম বিত্তবান পরিবারের সন্তানরাই নার্সিং পড়াশোনায় আগ্রহী থাকে। এলাকার মধ্যে এ ধরনের কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় এতদিন ধরে আগ্রহীদের জেলার বাইরে গিয়ে ডিপ্লোমা/ডিগ্রি নিতে হত। এখন হাতের কাছে নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হওয়ায় নিঃসন্দেহে জেলার নার্সিং পেশায় আসতে ইচ্ছুক তরুণ-তরুণীদের সুবিধা হবে। এই ধরনের সময়োপযোগী দুইটি বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করায় সুনামগঞ্জের উন্নয়নের প্রকৃত রূপকার পরিকল্পনামন্ত্রী সজ্জন রাজনীতিক এমএ মান্নান এমপিকে আমাদের আন্তরিক অভিনন্দন।
আমরা সবসময় মনে করি, দেশে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চাইতে বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরির গুরুত্ব অনেক বেশি। একটি দেশে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের লোকের চাইতে বিভিন্ন বৃত্তিতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দক্ষতা অর্জনকারী লোকজনের প্রয়োজনীয়তা বেশি। আমাদের দেশে জনসংখ্যা বেশি, আর্থিক স্বচ্ছলতা কম। আমরা বিদেশে দক্ষ জনবল রপ্তানিতে আগ্রহী। এখন দেশের জনসংখ্যায় কর্মক্ষম তরুণ-তরুণীদের পরিমাণ বেশি। জনসংখ্যার এই সুবিধা গ্রহণ করে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারি। এজন্য পরিকল্পিতভাবে আমাদের জনগোষ্ঠীকে বিভিন্ন পেশায় দক্ষ করে গড়ে তোলতে হবে। এই দক্ষ জনশক্তিই বিদেশে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করে দেশের অর্থনীতিকে মজবুদ করে তোলবে। তাই দেশে এই ধরনের বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আরও প্রসার লাভ করুক এই আমাদের কামনা।
দক্ষ জনশক্তি তৈরির প্রধান পূর্বশর্ত হলÑ অন্তত মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত মানসম্মত শিক্ষা দান করে পেশাগত শিক্ষার দিকে নিয়ে যাওয়া। মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত মানসম্মত শিক্ষা দানের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। অন্তত আমাদের জেলার চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে এখানে এখনও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা অনেক কম। যেগুলো রয়েছে সেগুলোরও সক্ষমতা কাক্সিক্ষত মানের নয়। তাই সরকারকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যয়ের শিক্ষা এবং পরবর্তী পর্যায়ে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রতি বেশি মনোযোগ দিতে হবে। অধিক হারে বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চাইতেও এই জায়গায় কাজ করা অনেক বেশি জরুরি। আমরা এখন বিদেশে অদক্ষ ও অর্ধ দক্ষ জনবল বেশি পাঠাই। এরা যদি কর্মদক্ষতা অর্জন করে বিদেশে যেতে পারত তাহলে বিদেশে তাদের ভাল কাজের সংস্থান যেভাবে হত তেমনি তাদের আয়ের পরিমাণও বেশি হওয়ার সুযোগ তৈরি হত। আমাদের জনসংখ্যায় তরুণ ও কম বয়সের জনগোষ্ঠীর যে সুবিধা এখন রয়েছে, সেটি চিরকালের নয়। একসময় জনসংখ্যায় এর উল্টো প্রভাব ফেলবে। সুতরাং সুবিধা থাকতে এর সুফল ঘরে তোলতে না পারলে পরে আফসোস করতে হবে।
দেশের ভিতরও এখন বহু খাতে কর্মজীবী, পেশাজীবীর চাহিদা বেড়েছে। স্বাস্থ্য খাত তার একটি। আমরা সরকরি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রচুর শূন্যতা দেখি। এইসব জায়গায় কর্মী জোগান দিতেও দেশের ভিতর একটি ভাল শিক্ষাদান ব্যবস্থা গড়ে তোলা আবশ্যক। আমরা মনে করি এই জায়গায় জেলার ২টি নার্সিং কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্তটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। নার্সিং কলেজ দুইটির কাজ শেষ হতে ২০২৪ সন পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী। আমরা চাই নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করা হোক। সবশেষে আমরা এই ধরনের আরও বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যায় কি-না তা নিয়েও চিন্তা করার আহ্বান জানাই। বিশেষ করে কৃষি ও মৎস্য, যা হাওরাঞ্চলের অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদ, তার উপর ভিত্তি করে এই ধরনের বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হলে ভাল হবে বলে আমরা মনে করি।

