৩০ হাজার মানুষের যাতায়াত ভোগান্তি

আকরাম উদ্দিন
চার দফা বন্যায় জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের ভাদেরটেক-চালবন্দ যোগাযোগ সেতু ভেঙে গেছে। নিশ্চিহৃ হয়েছে পাকা সড়ক। এখন এই সড়কে চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেতু এলাকায় ফেরি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে মানুষ চলাচল করছেন। উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়ন ও পলাশ ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ প্রতিদিন আসা-যাওয়া করেন এই সড়ক ও সেতু দিয়ে। ভোগান্তি নিরসনে জরুরিভিত্তিতে সেতু ও সড়ক উন্নয়নের দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা দীন ইসলাম, আল আমিন, তুহিন মিয়া, শওকত মিয়া, সাদেক মিয়া, আব্দুল কাইয়ুম, বাক্বীর মিয়া, আব্দুল হক, ফজলু মিয়া, হুমায়ুন কবিরসহ অনেকে জানান, প্রথম দফা বন্যায় চলতি নদীরপাড়ের গুমারঢালা বেড়িবাঁধ ভেঙে ভাদেরটেক গ্রামের ভেতরের নালা দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করে। এসময় সেতু ও পাকা সড়কের বিভিন্ন অংশ উড়িয়ে নিয়ে যায়। বিভিন্ন স্থানের মানুষ চলাচলের সুবিধার্থে ভাঙনের একাধিক স্থানে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে যাতায়াত সুবিধা তৈরি করে দেয়া হয়। কিন্তু চতুর্থ দফা বন্যায় পানির প্রবল বেগে বাঁশের সাঁকো, গার্ডওয়ালসহ পাকা সড়ক ও মাটি সরে যায়। তখন সড়কটি একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়ে। এবারের বন্যায় সেতু ও পাকা সড়ক ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে। এই সেতু ও সড়ক দ্রুত উন্নয়নের দাবি এলাকাবাসীর।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হান্নান ও ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির নেতা বাদল মিয়া বলেন, শহরে আসা-যাওয়ার সহজ এই বাইপাস সড়ক দিয়ে সলুকাবাদ ইউনিয়ন ও পলাশ ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ প্রতিদিন আসা-যাওয়া করেন। সড়ক ও সেতু ভেঙে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষ।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির বলেন, চলতি নদীর তীরের গুমারঢালা বেড়িবাঁধ আরো টেকসই উন্নয়ন করতে হবে। নইলে প্রতি বছরই ভাঙবে। সলুকাবাদ ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ শাহপরান বলেন, এবারের বন্যায় আমাদের এলাকায় সেতু ও সড়ক ভেঙে গেছে। পানির প্রবল বেগে ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সড়ক ভেঙে যাওয়ায় মানুষ চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তি বেড়েছে। মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে আনতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি প্রয়োজন।
বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সফর উদ্দিন বললেন, জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির বৈঠকে এই সেতু ভাঙার বিষয়টি উত্থাপন করেছি আমি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রকৌশলীসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে করণিয় জানিয়ে এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলীসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে দ্রুত এই সেতু ও সড়ক নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে।