‘এবার হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ হয়েছে মাত্র ৫০ ভাগ। সরকার পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেয়ার পরও পাউবো’র কর্মকর্তারা এবছর দুর্নীতি করেছে বেশি।’ ‘হাওর রক্ষা বাঁধে যদি কোন দুর্নীতি-অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’ উপরের উদ্ধৃতি দুইটি যথাক্রমে সাবেক সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান ও বর্তমান সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ’র। গতকাল ভিন্ন দুই জায়গায় দেওয়া তাঁদের বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। মন্তব্য দুইটির মধ্যে পার্থক্য থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজে দুর্নীতির বিষয়টি ফুটে উঠেছে। সরকার দলীয় সংগঠনের জেলা সভাপতি যেভাবে সরাসরি পাউবোর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন বর্তমান সংসদ সদস্য এরকম সরাসরি কথা না বললেও তাঁর বক্তব্যের নিহিতার্থ বিশ্লেষণ করলে একই ধরনের কথাই বেরিয়ে আসে। পাউবো বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতি করে এটি সর্বসাধারণ্যে চন্দ্র-সূর্যের মতো পরিষ্কার সত্য। প্রতিবছর স্থানীয় সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের জন্য বাঁধ নির্মাণ মৌসুমে এটি বহুল চর্চিত বিষয়। কিন্তু এতে কুম্ভকর্ণের গভীর ঘুম ভাঙে না কখনও। পাউবোর দুর্নীতির কোন বিচার হতে দেখেনি এই দেশের করদাতা জনসাধারণ। এই ক্ষমতাহীন নাগরিকদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ কিংবা বিশ্বাস- অবিশ্বাসে যখন কখনও কোন প্রতিকারের দেখা মিলে না তখন দেখার বিষয় হলো প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কথায় চিড়া ভিজে কিনা। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নিজে বাঁধের কাজ ৫০ ভাগের বেশি না হওয়ার কথা বলেছেন, সুতরাং সরকারি বরাদ্দের অবশিষ্ট ৫০ ভাগ লুটপাটের মাধ্যমে উধাও হয়ে যাক সেটি নিশ্চয়ই তিনি চাইবেন না। তাঁর দায়িত্ব হলো এই সাগর চুরির প্রতিকার বিষয়ে সরকারের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে তৎপর করা। দুর্নীতির বিচার হলে ভবিষ্যতে অনুরুপ চুরি-চামারি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে নতুবা দুর্নীতির পাগলা ঘোড়া লাগামছাড়া হয়ে দৌঁড়ানো শুরু করবে।
বিচার শুধু ৫০ ভাগ বরাদ্দ লুটপাটের নয়। বরং বিচার করতে হবে কাজে সীমাহীন কারচুপির কারণে জেলার ছোট-বড় হাওরের ফসল ডুবির জন্য । যেসব প্রকৌশলী, ঠিকাদার ও পিআইসি এই দুর্নীতিযজ্ঞের সাথে জড়িত সকলের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। কিন্তু এই দুর্নীতিকে বিচারিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া কি আদৌ সম্ভব হবে? আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা খুব বেশি হতাশাজনক। এখন বিপন্ন কৃষকের দূরবস্থা দেখে হয়তো অনেকে নানারকম কথা বলে নিজেদের গা বাঁচানো একইসাথে গণবিক্ষোভ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সময়ের সাথে তাঁদের এই অবস্থান পালটে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এর আলামত এখনই শুরু হয়ে গেছে। মতিউর রহমান যখন বলেন, এ বছর ২০১০ সনের চাইতে বেশি বন্যা হয়নি তখন পাউবোসহ বিভিন্ন মহল থেকে ধারণা দেয়া হচ্ছে যে, হাওর অঞ্চলের নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে বাঁধগুলো অকার্যকর হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টদের এই বক্তব্য সত্য থেকে মানুষের দৃষ্টিকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা। এপ্রিল-মে মাসে অকাল বন্যা, পাহাড়ি ঢলের সম্ভাবনা আছে বলেই তো বাঁধের কাজ করা হয়। যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকতো তাহলে বাঁধ নির্মাণের প্রশ্নও আসতো না। সুতরাং কোন বাঁধে কত উচ্চতা হবে তা নিশ্চয়ই পাউবোর জানা আছে। তারা সেটি করেন নি কেন? তাঁরা নির্ধারিত ২৮ ফেব্রুয়ারি পেরিয়ে দেড় মাস পরও কেন সকল বাঁধের কাজ শেষ করতে পারেন নি? তারা যদি উপযুক্তভাবে প্রাক্কলন তৈরি ও সে মোতাবেক প্রতিটি বাঁধের কাজ যদি হয়েই থাকে তাহলে হাওর এলাকার সর্বত্র পাউবোর বিরুদ্ধে এত ক্ষোভ কেন? এর সব প্রশ্নের উত্তর মেলানোর জন্যই বাঁধ নির্মাণে কথিত অনিয়ম-দুর্নীতির শক্তিশালী তদন্ত ও উপযুক্ত বিচার কাম্য।
- ২০ ওষুধ প্রস্তুুতকারী কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল
- ‘জয়কে হত্যাচেষ্টার ষড়যন্ত্রে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা’

