দ. সুনামগঞ্জ অফিস
দক্ষিণ সুনামগঞ্জে এলজিইডির বাস্তবায়নাধীন সরকারি রাস্তা নির্মাণে বাঁধা ও এক বিএনপি নেতার চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা না দেয়ায় গত ৫দিন ধরে বন্ধ আছে ওই রাস্তার কাজ ।
স্থানীয় লোকজন ও উপজেলা প্রকৌশলীর অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের দরগাপাশা গ্রামের আফতর মিয়ার বাড়ির সম্মুখ থেকে মহাসিং নদীর সলফ অংশ পর্যন্ত সাড়ে ৬শত মিটার রাস্তা আরসিসি ঢালাই কাজ চলছে। উপজেলা প্রকৌশলী ওই রাস্তার পুরাতন ইট সরানোর জন্য ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মনির উদ্দিনকে মৌখিকভাবে নিজ খরচে ইটগুলো উত্তোলন ও অন্যকোন ছোট-বড় রাস্তার উন্নয়নে কাজে লাগানোর দায়িত্ব দেন। চেয়ারম্যান মনির উদ্দিন গত ৫দিন পূর্বে রাস্তা থেকে পুরাতন ইট সরানোর জন্য শ্রমিক নিয়োজিত করেন। খবর পেয়ে উপজেলা বিএনপি নেতা দরগাপাশা গ্রামের হিফজুর রহমান চৌধুরী দিদারসহ তার লোকজন শ্রমিকদের ইট তোলতে বাঁধা দেয়। শ্রমিকরা তাৎক্ষণিক বিষয়টি ইউপি সদস্য ফরিদুল ইসলাম কুটিকে ফোনে জানায়। পরে ফরিদুল ইসলাম কুটি ঘটনাস্থলে গেলে, দিদারসহ তার লোকজন কুটির কাছে চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদা না দিলে রাস্তায় কাজ করতে দেওয়া হবে না বলে জানায়। পরে ইউপি চেয়ারম্যান মনির উদ্দিন কাজে বাধাঁদানকারী উপজেলা বিএনপি নেতা দরগাপাশা গ্রামের হিফজুর রহমান চৌধুরী দিদার’র কাছে বাঁধা দেয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি চেয়ারম্যান’র কাছেও চাঁদা দাবি করেন। দিদার জানায়, তাকে চাঁদা না দেওয়া হলে রাস্তায় কাজ করতে দেওয়া হবে না। এলাকার স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাস্তা থেকে পুরাতন ইট তোলতে না পারায় দরগাপাশা গ্রামের হিফজুর রহমান চৌধুরী দিদার’র বাড়ির সামনে রাস্তার কাজ বন্ধ রয়েছে।
দরগাপাশা গ্রামের রুবেল মিয়াসহ গ্রামের অনেকেই জানান, দিদার তার লোকজন নিয়ে রাস্তা নির্মাণ কাজে বাঁধা দেয় ও চেয়ারম্যানের কাছে চাঁদা দাবি করছে। যার কারণে চেয়ারম্যান সাহেব এ রাস্তার কাজ বন্ধ রেখেছেন।
ইউপি সদস্য ফরিদুল ইসলাম কুটি জানান, চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন শ্রমিক লাগিয়ে মাটির নিচের ইট সরানোর জন্য। শ্রমিকরা রাস্তার কিছু অংশের ইট উত্তোলন করে। পরে দিদারের বাড়ির সামনের ইট উত্তোলন করতে চাইলে দিদার শ্রমিকদের বাধাঁ দিয়ে। দিদার আমাকে বলে, এই রাস্তার ইট তাকে দিতে হবে, ইট না দিলে সে কাজ করতে দেবে না। এর পর থেকে কাজ বন্ধ রয়েছে।’
দরগাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির উদ্দিন জানান, এ রাস্তাটি সাড়ে ৬শত মিটার আরসিসি ঢালাই হবে। উপজেলা প্রকৌশলী আলাউদ্দিন খান আমাকে ১৫ দিন আগে মৌখিকভাবে আমার পরিষদের খরচে ইট উত্তোলন করে ইউনিয়নের অন্য রাস্তার কাজে ব্যবহার করার জন্য বলেন। পরে আমার পরিষদের সদস্য ফরিদুল ইসলাম কুটিকে ইট সরানোর জন্য দায়িত্ব দিলে সে ইট সরানোর জন্য রাস্তায় শ্রমিক লাগায়। কিন্তু দরগাপাশা গ্রামের দিদার তার কাছে চাঁদা দাবি করে কাজে বাঁধা প্রদান করে। আমি দিদারের সাথে কথা বললে সে আমাকেও জানায়, তাকে রাস্তার ইট না দিলে সে এই রাস্তায় কাজ করতে দিবে না।’
এ ব্যাপারে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আলাউদ্দিন খান জানান, ১৫-১০দিন আগে আমি মৌখিকভাবে এ রাস্তার ইট ইউনিয়ন পরিষদের যে কোন কাজে ব্যবহার করার জন্য ও পরিষদের খরচে উত্তোলন করার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেই। পরে ইউপি চেয়ারম্যান মনির উদ্দিনের আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার লিখিতভাবে দায়িত্ব প্রদান করি। ওই রাস্তার কাজ বন্ধ থাকার বিষয়টি তিনি অবগত না বলে জানান।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত উপজেলা বিএনপি নেতা হিফজুর রহমান চৌধুরী দিদার’র সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে এ প্রতিবেদকের সাথে অশালীন ভাষায় দম্ভোক্তি করেন বলেন, ‘আমার জন্য হাইকোর্ট আছে। সংবাদ প্রকাশ করে আমার কিছুই করতে পারবে না।’


