ইয়াকুব শাহরিয়ার, দ. সুনামগঞ্জ
কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতায় থমকে গেছে পৃথিবী। ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে কর্মক্ষেত্র ছেড়ে ডাক্তার অনুপস্থিত থাকার খবর অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের ব্যথিত করেছে। মারাত্মকভাবে ব্যথিত করছে প্রতিদিনই নতুন নতুন লোক আক্রান্ত ও মৃত্যুবরণ করার খবরও। তবে এমন অবস্থায়ও সকল বাধা-ভয় উপেক্ষা করে নামমাত্র মূল্যে সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছে পাগলা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতাল। ২৪ ঘন্টাই সেবা দিয়ে যাচ্ছে পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নসহ আশপাশের ৬টি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষকে।
জানা যায়, মার্চ মাস থেকে লকডাউন শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলেও পাগলা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালটি বন্ধ হয়নি। তিনজন এমবিবিএস (মেডিক্যাল অফিসার), প্যাথলোজিস্ট, মাইক্রোবায়লোজিস্ট ও প্রশিক্ষিত অভিজ্ঞ নার্সরা সার্বক্ষণিক সেবা প্রদান করছেন। এছাড়াও প্রায়ই দুর্ঘটনায় পড়ে কোনও রোগী আসলে বিনামূল্যে প্রাথমিক সেবা দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
কর্তৃপক্ষ জানায়, অল্প খরচে নরমাল ডেলিভারি করা হয় পাগলা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতাল। মহিলা রোগীর জন্য মহিলা ডাক্তারের সুবিধা, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, ইসিজি ও আধুনিক এক্সরের ব্যবস্থা, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্ট দ্বারা ফিজিওথেরাপি প্রদান, রক্ত ও প্র¯্রাব পরীক্ষা (প্যাথলোজিক্যাল), মুসলমানি, কাটা সেলাই, ইমার্জেন্সি রোগীদের ভর্তি ও বিদেশ গমনিচ্ছু ব্যক্তিদের মেডিক্যাল চেকআপসহ সেবা প্রদান করছে প্রতিষ্ঠানটি। করোনাকালে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা, লোক সমাগম না ঘটানো, নিয়মিত হাত ধোয়াসহ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও প্রচারণা করছে।
পাগলা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সেবা প্রদানের ব্যাপারে আমরা কখনো আপোষ করিনি। করোনা কাল শুরু হওয়ার সময় থেকেই আমাদের হাসপাতালে যারা সেবা দিচ্ছেন তাদের প্রত্যেকের ছুটি আমরা বাতিল করেছি। তিনজন এমবিবিএস (মেডিক্যাল অফিসার), প্যাথলোজিস্ট, মাইক্রোবায়লোজিস্ট ও প্রশিক্ষিত অভিজ্ঞ নার্সদের দ্বারা সার্বক্ষণিক সেবা প্রদান করছি আমরা। এ্যাম্বুলেন্স সেবাসহ অনেক সেবাই আমরা এই আপদকালীন সময়েই দিয়ে যাচ্ছি। আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছি। যতক্ষণ সম্ভব আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করে যাবো। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ বলেন, তারা সব সময় সেবা দিচ্ছেন। করোনা মহামারিতে তাদের নিরবিচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির প্রতি এলাকার মানুষের আস্থা আরও বেড়েছে।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (টিএইচও) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এই মহামারিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি নিরবিচ্ছিন্ন সেবা দিচ্ছে, যা প্রশংসাযোগ্য।


