প্রণোদনা ও রেশনিংয়ের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে হোটেল শ্রমিকরা। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় কর্মসূচীর অংশ হিসাবে এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন হোটেল জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি লিলু মিয়া। পৌর শহরের আলফাত স্কয়ারে সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মহামন্দা ও দুর্ভিক্ষ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য এখনই বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। হোটেল শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ খাতে সারাদেশে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মরত। প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে এ খাতের উপর নির্ভরশীল দেশের মোট জনসংখ্যার
একটি বৃহৎ অংশ। অথচ এ খাতের মালিকদের শুধু মুনাফা কেন্দ্রিক চিন্তা-ভাবনা এবং শ্রমিকদের দায়িত্ব গ্রহণ না করার মানসিকতার কারণে এ সেক্টরে কর্মরত শ্রমিকদের জীবনযাপন আজ অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে। করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই দেশের হোটেল রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠানসমূহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়ে এ খাতের কর্মরত শ্রমিকরা। প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে হোটেল-রেস্টুরেন্ট-মিস্টি-বেকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকরা শ্রমিকদের মজুরিসহ যাবতীয় সুযোগ- সুবিধা প্রদান বন্ধ করে দেয়। এমনকি এপ্রিল, মে মাসের মজুরি ও ঈদুল ফিতরের উৎসব বোনাসও প্রদান করেনি মালিকরা। কোন কোন মালিক মার্চ মাসেরও মজুরি পরিশোধ করেননি।
সময়ের জন্য চালু করা হয়েছে। তাতেও কর্মরত শ্রমিকদের আংশিক মজুরি প্রদান করা হয়। মূলত স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিষ্ঠান চালু করার ক্ষেত্রে দুর্বলতা থাকার কারণে ইতিমধ্যে কর্মরত শ্রমিকদের অনেকেই করোনা আক্রান্ত এবং করোনা উপসর্গ বহন করছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের মালিক কর্তৃক তাদের চিকিৎসাসহ, ঝুঁকিভাতা ও ক্ষতিপূরণ প্রদান করছেন না। ফলে সারা দেশের হোটেল-রেস্টুরেন্ট-মিস্টি-বেকারি শ্রমিকদের একটা বৃহৎ অংশ এখনো কর্মহীন থেকে এবং করোনা আক্রান্ত ও আতংকে থেকে দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত হয়ে এক মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
হোটেল শ্রমিক ও হোটেল শিল্পকে রক্ষার জন্য স্মারকলিপিতে ৬ দফা দাবি জানানো হয়। এগুলো হলো-হোটেল শ্রমিকদের পূর্ণাঙ্গ মজুরিসহ প্রাপ্ত সকল সুযোগ- সুবিধা প্রদান করতে হবে। মহামারী দুর্যোগের এই সময় হোটেল সেক্টরে কোন লে-অফ, অব্যাহতি বা ছাঁটাই করা যাবে না। এ বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্ট পরিপত্র জারি করতে হবে। যেসব শ্রমিক ইতিমধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়েছে তাদের আইসোলেশন ও যথাযথ চিকিৎসার সমুদয় দায়িত্ব সরকার ও মালিককে বহন করতে হবে। সকল হোটেল শ্রমিকদের রেশনিং কার্ডের মাধ্যমে চাল- ডাল-তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী স্বল্প মূল্যে প্রদান করতে হবে। কর্মরত শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাসহ ঝুঁকি ভাতা এবং করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে এক জীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। সরকার কর্তৃক প্রণোদনা হিসেবে মাসিক ন্যুরতম ১০ হাজার টাকা সরাসরি শ্রমিকদের প্রদান করতে হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
- এখনো রয়েছে স্বাধীনতাবিরোধী নুরুল আমিনের নামফলক
- লাইসেন্সে নাম পরিবর্তন, বাদাঘাট ইউনিয়নের খুচরা সার বিক্রেতার কার্ড বাতিল


