৭১’র গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী সুরেশ দাস আর নেই

বিশেষ প্রতিনিধি
মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাড. সুরেশ দাস আর নেই। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টায় সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ইহলোক ত্যাগ করেন তিনি। তিনি সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে যোগ দিতে যাওয়ার সময় সিলেটে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। অ্যাড. সুরেশ দাস’রজন্মভূমি শাল্লা উপজেলার শাল্লা ইউনিয়নের রহমতপুর নোয়াগাঁও গ্রামে।
অ্যাড. সুরেশ দাস’র মৃত্যুর খবরে সুনামগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গন-সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে আসে।
১৯৬৯’এর গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন অ্যাড. সুরেশ দাস।
১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে বর্বরোচিত গণহত্যা চালিয়ে কয়েক’শ ছাত্র শিক্ষক কর্মচারীকে নির্মম ভাবে হত্যা করে। ঐ হত্যাকা- থেকে যে কয়েকজন ভাগ্যবান বেঁচে গিয়েছিলেন সুনামগঞ্জের প্রখ্যাত আইনজীবী সুরেশ চন্দ্র দাস তাঁদের একজন। ৭১ এর উত্তাল মার্চে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের জগন্নাথ হল শাখার সভাপতি এবং একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ছিলেন সুরেশ চন্দ্র দাশ।  সেই সুবাদে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। ২৩ মার্চ ছিল পূর্ব বাংলার প্রতিরোধ ও শোক দিবস।
 ঢাকার অবস্থা ক্রমশ: উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। ২৫ মার্চ রাত ১২ টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, মুহসীন হলসহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ঘেরাও করে পরিকল্পিত ভাবে আক্রমণ করে ও গণহত্যা চালায়। সুরেশ চন্দ্র দাশ ও সত্যরঞ্জন দাশ জগন্নাথ হল উত্তরবাড়ীর দ্বিতীয় তলার ১৫২ নম্বর রুমে থাকতেন। মধ্যরাতে পাকিস্তানী সৈন্যরা চারপাশ থেকে জগন্নাথ হলে মেশিনগানের গুলিবর্ষণ করতে থাকে। দক্ষিণ দিকে বাথরুমের লোহার রডের সিঁড়ি দিয়ে ছাদে উঠেন সুরেশ দাশ। ছাদের উপরে গিয়ে পান আরো কয়েকজন সহপাঠিকে। ওখানে তাদের তিনজনকে লাইন করিয়ে গুলি করে পাক বাহিনী। গুলি খেয়ে অন্য সকলে মারা গেলেও সৌভাগ্য ক্রমে বেঁচে যান সুরেশ দাশ।
সুরেশ দাশ পাক বাহিনীর নির্মমতায় ড. জি.সি দেব, ড. মনিরুজ্জামান, মধুদা সহ অনেকের মুত্যু দেখেছেন কাছ থেকে এবং তাদেরকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে কি নৃশংস ভাবে গণকবর দেয়া হয়েছে তাও প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি।
মুত্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতেই নিজের এলাকা দিরাই-শাল্লার তরুণদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণের জন্য উজ্জীবিত করেন তিনি।