৭ উপজেলার হাওররক্ষা বাঁধ প্রকল্প ঢাকায় পাঠানো হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি
আগামী বোরো ফসল রক্ষায় সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলার মধ্যে ৭ উপজেলার হাওররক্ষা বাঁধের প্রকল্প তৈরি হয়েছে। অন্য ৪ উপজেলার প্রকল্প এখনো তৈরি হয়নি। উপজেলা কমিটিগুলো হাওররক্ষা বাঁধের প্রকল্পে অন্য বছরের চেয়ে বেশি বরাদ্দ চেয়েছে। এ নিয়ে কোথাও কোথাও দ্বিমতও রয়েছে। অবশ্য হাওরাঞ্চলের কৃষক সংগঠকরা বলেছেন,‘যেহেতু বিগত বছর হাওররক্ষা বাঁধের কাজ সঠিকভাবে হয়নি। এবার প্রকল্প বেশি হতেই পারে। তবে প্রকল্পের কাজ হওয়াই হচ্ছে প্রধান বিবেচ্য বিষয়।’
সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলাকে দুই ভাগে ভাগ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুটি বিভাগকে দেখভাল করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পওর (পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ) বিভাগ-১’এর দায়িত্বে সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর, ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ ও তাহিরপুর উপজেলার হাওরগুলো।
পওর বিভাগ-২’এর আওতায় রয়েছে- ৬ টি উপজেলা। এগুলো হচ্ছে দিরাই, শাল্লা, জগন্নাথপুর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলা।
গত এক মাসব্যাপি উপজেলা কমিটি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সভা করে ১১ উপজেলার মধ্যে ৭ উপজেলার প্রকল্প তৈরি করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পওর পরিদপ্তর ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
জামালগঞ্জ উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড হতে বরাদ্দ হয়েছে দুই কোটি ২২ লাখ টাকা, কিন্তু উপজেলা কমিটি ১০       
 কোটি চার লাখ টাকার প্রকল্প পাঠিয়েছে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় বরাদ্দ হয়েছে এক কোটি ১৩ লাখ, উপজেলা কমিটি ৫ কোটি ১৩ লাখ টাকার প্রকল্প পাঠিয়েছে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বরাদ্দ এক কোটি ৪৩ লাখ টাকা, উপজেলা কমিটি প্রকল্প পাঠিয়েছে তিন কোটি ৬৪ লাখ টাকার। তাহিরপুর উপজেলায় বরাদ্দ হয়েছে দুই কোটি ৭৫ লাখ টাকা, উপজেলা কমিটি প্রকল্প পাঠিয়েছে ৮ কোটি ৩১ লাখ টাকার। ধর্মপাশা উপজেলায় বরাদ্দ ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা, প্রকল্প পাঠানো হয়েছে ৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকার।
দিরাই উপজেলায় হাওর অনুযায়ী পাগনার হাওরে বরাদ্দ ১০ লাখ, প্রকল্প পাঠানো হয়েছে ১০ লাখ টাকার। টাঙ্গুয়ার হাওরে বরাদ্দ ৮৫ লাখ টাকার। প্রকল্প পাঠানো হয়েছে এক কোটি চার লাখ টাকার, বরাম হাওরে বরাদ্দ এক কোটি ২৭ লাখ টাকা, প্রকল্প পাঠানো হয়েছে এক কোটি ৪১ লাখ টাকার, উদঘল হাওরে বরাদ্দ ৬৫ লাখ ৫ হাজার টাকা, প্রকল্প পাঠানো হয়েছে এক কোটি ৬৯ লাখ টাকার, কালিকুটা হাওরে বরাদ্দ ৮৭ লাখ টাকা, প্রকল্প পাঠানো হয়েছে ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকার। চাপতির হাওরে বরাদ্দ এক কোটি ১০ লাখ টাকা, প্রকল্প পাঠানো হয়েছে এক কোটি ৯১ লাখ টাকার, ভান্ডা বিলে বরাদ্দ ৭ লাখ টাকা, প্রকল্প পাঠানো হয়েছে ৭ লাখ টাকার।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ৩৬ টি হাওরে বরাদ্দ এসেছে এক কোটি ৮৮ লাখ টাকার। এই উপজেলায় খাল খননসহ প্রকল্প পাঠানো হয়েছে ৯ কোটি টাকার।
প্রকল্প পাঠানো নিয়ে কোথাও কোথাও দ্বিমতও রয়েছে।
জামালগঞ্জের ভীমখালি ইউনিয়নের সন্তোষপুর থেকে উজ্জ্বলপুর পর্যন্ত বেরিবাঁধ নির্মাণের প্রয়োজন নেই দাবি করেছেন এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর পক্ষে হাওর-বাঁচাও জামালগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এবং হাওর বাঁচাও-সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ মৌখিক ও লিখিতভাবেও এই প্রকল্পের প্রয়োজন নেই বলে দাবি করেছেন।
কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল বাশার ঠাকুর খান বলেন,‘প্রকল্প অধিক হলেই কেবল হবে না, সময়মত সঠিকভাবে কাজ না হলে অধিক প্রকল্প বা অধিক টাকা বরাদ্দ দিলেও ফসলের বা কৃষককের কোন লাভ হবে না।’
জেলা সিপিবির সভাপতি চিত্ত রঞ্জন তালুকদার বলেন,‘প্রকল্প ভুয়া কী-না, এটি যেমন যাচাই করতে হবে, প্রকল্পের কাজ শুরুতেই তদারকির মধ্যে রাখতে হবে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পওর বিভাগ-১’এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া বলেন,‘গত মৌসুমে হাওরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। উপজেলা কমিটির দেওয়ার প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর মতামতসহ আমরা পওর পরিদপ্তর ঢাকায় পাঠিয়েছি। জেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতিকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তিনি জানান, ভুয়া প্রকল্প হয়ে থাকলে লিখিতভাবে জানালে, যাচাই-বাছাই করে এ ধরনের প্রকল্প বাদ যাবে। প্রকল্প সঠিক হলে পওর অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পওর বিভাগ-২’এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহীনুজ্জামান বলেন,‘আমাদের বিভাগ নতুন হয়েছে, লোকবলও কম, এজন্য প্রকল্প পাঠাতে বিলম্ব হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত পাঠাতে।’