ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকের পল্লীতে পূর্ব বিরোধের জের ধরে সংখ্যালঘু পরিরারের উপর হামলার ঘটনায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার রাতে হামলায় আহত খুরমা ইউনিয়নের খুরমা গ্রামের মৃত সুধীর চৌধুরীর পুত্র রনজিত চৌধুরী বাদী হয়ে একই গ্রামের সাদ মিয়া, মিজানুর রহমান, আকলু মিয়া, আজাদ মিয়া, আব্দুস ছোবহান, ফজর আলী, জুলহাস, আজমল, বানেছা বিবি, মাহমুদা বেগম, ঝুমা বেগম, জহির উদ্দিন, নাজির আহমদ, আব্দুস ছালাম, আলাউদ্দিন ও সুমেনা বেগমের বিরুদ্ধে এ মামলা (নং-২৪) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গ্রামের মৃত আব্দুল মনাফের পুত্র আব্দুস ছোবহানের সাথে রনজিত চৌধুরীর জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। রনজিত চৌধুরীসহ তার আত্মীয়-স্বজনদের বসত বাড়ি জোর দখলের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় আব্দুস ছোবহান গংরা নানাভাবে হুমকী-ধামকি দিয়ে আসছিল তাদের। বুধবার সকালে বিনা উস্কানিতে আব্দুস ছোবহানের নেত্বেতে ১৫-২০জন লোক সশস্ত্র হামলা চালায় রনজিত চৌধুরী ও তার আত্মীয় প্রনব চৌধুরীর বসত ঘরে। হামলাকারীরা নারী-পুরুষ নির্বিচারে লাঠি-সোটা দিয়ে পিটিয়ে আহত করে এবং বসতঘর ও ঘরের মালামাল ভাংচুর করে। হামলাকারীরা ঘরে থাকা নারীদের শারীরিকভাবেও লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেছে। ঘরের মালামাল, আসবাবপত্র, হান্ডি-বাসন ভাংচুর ও তছনছ করে পরিবার-পরিজন নিয়ে দেশ ত্যাগ করার হুমকী দেয় হামলাকারীরা। এসময় হামলাকারীরা ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মুল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলায় গুরুতর আহত প্রনব চৌধুরী টুকু(৪৮) ও তার স্ত্রী জয়া চৌধুরী(৪৪)কে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দিবা চৌধুরী(৩০), রনজিত চৌধুরী(৪৮), পাপড়ী চৌধুরী, অঞ্জু চৌধুরী লিপি চৌধুরীসহ অন্যান্য আহতদের ছাতক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে জাউয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল আলীম হামলার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এর নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ছাতক থানার ওসি (তদন্ত) আশরাফুল ইসলাম জানান, থানায় নিয়মিত মামলা নেয়া হয়েছে। জড়িত আসামীদের গ্রেফতারের জন্য চেষ্ট চলছে। আসামীদের ভয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে বাদী রনজিত চৌধুরী জানিয়েছেন।


