মাস্ক ব্যবহারে সচেতনতা সৃষ্টিতে পুলিশী তৎপরতা

স্টাফ রিপোর্টার
ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির লক্ষে শহরজুড়ে পুলিশী তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার শহরের বিভিন্ন স্থানে আসা মানুষকে মাস্ক পরিধানে উদ্বুদ্ধ করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে পুলিশ প্রশাসনের সদস্যরা। তবে মাস্ক পরিধানে আরও পুলিশী তৎপরতা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সহিদুর রহমান।
যারা সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহার করছেন না, তাদের কারণেই করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে এমন মন্তব্য একাধিক সচেতন মানুষের। মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে গাড়ি স্টেশন, লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট ও সেলুঘাটে এবং শহরতলী গ্রামের দোকানপাটে পুলিশী তৎপরতা বৃদ্ধির দাবি তাদের।
মাসব্যাপী শহরের বিভিন্ন স্থানের দোকানপাট, মার্কেট বা শপিং মলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমাগম বেড়েছে। সেই সাথে কমেছে মাস্ক ব্যবহার। দোকানের মালিক কর্মচারীরা নিয়মিত ব্যবহার করছেন না মাস্ক। এই কারণে ক্রেতারাও নিরুৎসাহিত হচ্ছেন মাস্ক ব্যবহারে। রিস্কা চালক, অটো চালক, সিএনজি চালক, মটরবাইক চালক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এক শ্রেণীর মানুষ মাস্ক পড়ে বেড়াচ্ছেন গলায় বা মুখে। কিন্তু নাকে মাস্ক ব্যবহার করছেন না তারা। তবে বেশিরভাগ মানুষ মাস্ক পকেটে রেখে দিয়েছেন সযতেœ। তবে পুলিশ সদস্যদের দেখলেই মাস্কের কথা মনে পড়ে তাদের। তখন তড়িগড়ি করে পকেট থেকে বের করে মাস্ক নাকে মুখে ব্যবহার করেন। কিন্তু মাস্কের সঠিক ব্যবহার থেকে সরে গেছেন অনেক সচেতন মানুষও। এমন অনেকেই আছেন তারা শহরে আসলেও মাস্ক ব্যবহার করেন না। তবে তারা সব সময় পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলেন।
মল্লিকপুর এলাকার সামির মিয়া বলেন, আমার প্রতিদিন চোখে পড়ে শিক্ষিত মানুষেরাও মাস্ক গলায় পরেন। দেখা দেখি অনেকেই এভাবেই মাস্ক পরেন। সাধারণ মানুষ মনে করেন মাস্ক গলা বা মুখে পরলেই হয়তো করোনা প্রতিরোধ হবে। মাস্কের ব্যবহার সঠিক হওয়া উচিৎ।
শহরে আসা বাদশা নুর বলেন, মাস্ক আমার সাথেই আছে। নাকে-মুখে মাস্ক লাগালে গরম লাগে। তাই পকেটে রেখেছি। পুলিশ দেখলে অবশ্য ব্যবহার করি। বাজারে আসা বেশিরভাগ মেয়ে বা মহিলা মাস্ক ব্যবহার করেন না। তাদের কেউ কিছু বলে না। মাস্ক ব্যবহার সবার জন্য নিশ্চিত করতে হবে।
শহরের রিক্সা চালক রহিম উদ্দিন বলেন, মাস্ক পরে রিক্সা চালালে শরীর ঘামে এবং নাকও ঘামে। এই জন্য মাস্ক ব্যবহার করতে পারি না।
শিক্ষক আবুল হোসেন বলেন, মাস্ক ব্যবহার করলে নিজেকে মানসিকভাবে পরিচ্ছন্ন মনে হয়। সচেতন মনে হয়। মহিলা-পুরুষ সকলে সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিৎ। যেসব স্থান দিয়ে মানুষ শহরে প্রবেশ করেন, এসব স্থানে পুলিশী তৎপরতা বাড়াতে হবে।
অ্যাড. নুর হোসেন বলেন, মাস্ক পরলে নিজে সুরক্ষা থাকা যায়। দীর্ঘ এক মাস ধরে দেখছি মানুষের মধ্যে মাস্ক পরা প্রবণতা অনেকটা কমে গেছে। মাস্ক পরায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সকলের নিরাপদের জন্য মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে হবে।
সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সহিদুর রহমান বলেন, আমরা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নেতৃত্বে মাস্ক পরিধানে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে শহরের বাইরেও বিভিন্ন স্থানে পুলিশী তৎপরতা বৃদ্ধি করব। বর্তমানে শহরের বিভিন্ন স্থানে মাস্ক পরিধানে উদ্বুদ্ব করতে পুলিশী তৎপরতা অব্যাহত আছে।