২ কোটি টাকা হাতিয়ে গুলি করে মেরে ফেলার ভয় দেখায় তারা

বিশেষ প্রতিনিধি
দেশের আলোচিত প্রতারক মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম ও তার সঙ্গী মাসুদ পারভেজ সুনামগঞ্জের ছাতকের এক বালু-পাথর ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। গত মে মাসে এই প্রতারণার ঘটনা ঘটিয়েছে এরা। প্রতারণার শিকার বালু-পাথর ব্যবসায়ী এখলাছ খাঁন রোববার এ ব্যাপারে মামলা করার জন্য ছাতক থানায় যান। ছাতক থানার ওসি জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগে কিছু ভুল থাকায় অভিযোগটি সংশোধন করে আনার জন্য অভিযোগকারীকে বলা হয়েছে।
প্রতারণার শিকার ছাতকের ম-লিভোগের বালু-পাথর ব্যবসায়ী এখলাছ খাঁন জানান, সাহেদ করিম এই বছরের ২৪ জানুয়ারি থেকে সাত ফেব্রুয়ারি তারিখের মধ্যে তার কাছ থেকে এক কোটি ৪৯ লাখ ২৫ হাজার ৪২ টাকার বালু-পাথর নেন। এরপর তাকে তিনি ৩০ লাখ টাকার চেক এবং এক্সভেটর মেশিন বিদেশ থেকে আনিয়ে দেবার জন্য এক লাখ ১০ হাজার ডলারের (প্রায় ৯৪ লাখ টাকার) এলসি সংশ্লিষ্ট কোম্পানীকে জমা দিয়ে তাকে কাগজ দেন। এখলাছ খাঁন ছাতকে এসে চেক জমা দেবার পর জানতে পারেন সাহেদ করিমের হিসাবে কোন টাকা নেই। কয়েকবার ব্যাংকে যোগাযোগ করেও হিসাবে কোন টাকা পান নি। এক্সেভেটর মেশিন কেনার জন্য যে কোম্পানীকে সাহেদ করিম এলসি দিয়েছিলেন, ঐ কোম্পানীর সঙ্গে এখলাছ খাঁন যোগাযোগ করে জানতে পারেন এলসি ফেরৎ নিয়ে ক্যাশ করে ফেলেছেন সাহেদ করিম। এরপর অনেকবার ফোনে চেষ্টা করেও সাহেদ করিমের সঙ্গে যোগাযোগই করতে পারেন নি এখলাছ খাঁন।
সর্বশেষ গত ৩০ জুন সাহেদের উত্তরার অফিসে (২/এ, সেক্টর-১২’এর ১৪ নম্বর সড়কের অফিসে) গিয়ে যোগাযোগ করলে তিনি পিস্তল মাথায় ঠেকিয়ে শাসিয়ে দেন, আর যেন কোন দিন তাকে (এখলাছ খানকে) ঢাকায় দেখা না যায়।
এখলাছ খাঁন জানান, অনেক চেষ্টা করে সাহেদের অফিসের এক স্টাফের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, সাহেদ ৩০ জুন উত্তরার অফিসে আসবেন। ২৯ জুন তিনি ঢাকায় চলে যান। ৩০ জুন সকালে সাহেদের অফিসের সামনে গিয়ে বসে থাকেন তিনি। সকাল ১০ টায় সাহেদ অফিসের সামনে এসে নামেন। আমি সামনে গিয়ে বললাম, ‘আপনি কী ঠিক করলেন ভাই, আমাকে চেক দিলেন অ্যাকাউন্টে টাকা নাই। বলছিলেন আমাকে বিদেশ থেকে অ্যাস্কেভেটর আনিয়ে দেবেন, কোম্পানীকে এলসি দিয়ে আবার ফেরৎ এনে ক্যাশ করে নিয়েছেন। এটা কী করলেন। এই কথা শেষ করতে পারি নি, আপার কপালে পিস্তল থাক করে তিনি বলেন, গুলি করে তোর লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেব। আর যদি ঢাকায় আসিস তোর শরীরে গুলি করার জায়গাও থাকবে না। তার সঙ্গে ৪-৫ জন ছিল, সকলের কাছেই অস্ত্র ছিল। আমি পরে বের হয়ে আসি।’ একইভাবে মাসুদ পারভেজ বালু-পাথর নিয়ে একবার ১৮ লাখ টাকা দেয়। এখনো ৪০ লাখ ৫২ হাজার ২৩৫ টাকা তার কাছে পাওনা আছে। ফোন করলে আজ দেব, কাল দেব বলছিল। এখন সেও জেলে আছে।’
ছাতক থানার ওসি মোস্তফা কামাল জানান, এখলাছ খাঁন সকালে সাহেদ ও মাসুদ পারভেজের প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন। অভিযোগটি সংশোধন করে আনার জন্য বলা হয়েছে। সংশোধন করে আনার পর র‌্যাবের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এটি গ্রহণ করা হবে।