সিকিভাগ কাজ হয়নি এখনো

এনামুল হক, ধর্মপাশা
কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী গেল বছরের ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ হয়নি। তবে নির্ধারিত সময়ের একদিন পর ধর্মপাশা উপজেলায় একটি মাত্র বাঁধে মাটি ফেলে কাজ শুরুর নিয়ম রক্ষা করা হয়। এরপর কেটে যায় দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময়। যদিও গেল বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এসব কাজের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন প্রক্রিয়া শেষ করাও কথা ছিল। কিন্তু রহস্যজনক কারণে সেসব কমিটি গঠন প্রক্রিয়াও পিছিয়েছে। তবে পিআইসি গঠন শেষ হয়েছে দেখিয়ে গত ৩০ জানুয়ারি উপজেলা কাবিটা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির পক্ষ থেকে পিআইসির সদস্যদের নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত পিআইসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়নি। পাউবোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দুয়েকদিনের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাঁধে মাটি ফেলার কাজ ২০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু হাওরপাড়ের কৃষকেরা বলছেন এখনো সিকিভাগ কাজও সম্পন্ন হয়নি এবং অনেক বাঁধের কাজই শুরু হয়নি এখনো। ফলে ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যে শতভাগ কাজ শেষ না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে করে আগাম বন্যা হলে ফসলহানীর ঘটনা ঘটতে পারে।
ধর্মপাশা উপজেলার চন্দ্রসোনার থাল, কাইল্যানী, সোনামড়ল, গুরমা, গুরমার বর্ধিতাংশ, গোড়াডুবা, জয়ধনা ও ধানকুনিয়া হাওরে হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজের জন্য ১৬৯টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২ কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায় অনেক প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি। অনেক প্রকল্প এলাকায় কোনো সাইনবোর্ড নেই। ফলে কে কোন প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ পেয়ে কাজ করছে তা নিশ্চিতভাবে জানার সুযোগও নেই। স্থানীয় কৃষকসহ হাওর বাঁচাও আন্দোলনের পক্ষ থেকে পিআইসির চূড়ান্ত তালিকা ওয়েবপোর্টালে প্রকাশের জন্য দাবি জানানো হচ্ছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পিআইসির চূড়ান্ত তালিকা কোথাও প্রকাশ হয়নি। এদিকে কাজ শুরুর নির্ধারিত সময়ের ৫০ দিন পেরিয়ে গেলেও কাজের অগ্রগতি দেখে হতাশ হাওরপাড়ের কৃষকেরা।
মধ্যনগর বোয়ালা হাওরের কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, ‘এ বছর ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের দীর্ঘসূত্রিতা আমাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে। ২০১৭ সালের মতো হাওরে ফসলডুবির ঘটনা ঘটলে কৃষকেরা সর্বশান্ত হয়ে পড়বে।’
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের ধর্মপাশা উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব চয়ন কান্তি দাস বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সবগুলো বাঁধে কাজ শুরু না হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ওয়েব পোর্টালে পিআইসি তালিকা প্রকাশ করাসহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানাই।’
১৫২টি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে এবং দ্রুত অন্য প্রকল্পের কাজ শুরু হবে জানিয়ে সুনামগঞ্জ পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন জানান, ‘হাওর থেকে পানি দেরিতে নামার কারণে ধর্মপাশায় সার্ভে ও পিআইসি গঠন প্রক্রিয়া কিছুটা পিছিয়েছে। এখন পর্যন্ত ২০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। দুয়েকদিনের মধ্যে পিআইসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা কাবিটা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘আমাদের কাজের অগ্রগতি ভালো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’