প্রার্থনা

কুমার সৌরভ

আমার চিরায়ত এই কুঁচকানো ঠোটে
প্রশান্তির চুমো এঁকে দাও
হে দিকচক্রবাল ব্যাপ্ত রূদ্ররূপ সূর্য।
হাবল টেলিস্কোপে ঘুরে নক্ষত্র রাশি রাশি
আমার চোখের পাতায় বর্ণালী রশ্মির জগৎ
সবকিছুর ছুঁয়া দাও আজ হে পবিত্র প্রভাত।

বিগত খাতার জটিল অংক সব আজও
রহস্যময় ধাঁধা হয়ে আছে
জীবন বিবশ অবশ করেছে
স্পর্শাতীত সংগোপনীয় ব্যাধি এক।
আমরা ঘরে বন্দী
আমাদের মুখাবয়ব ঢাকা কাপড়ে,
কেউ কেউ ছটফটিয়ে মরে গিয়ে বাঁচে
কষ্টের অসহ্য যন্ত্রণামুক্ত হয়।
আরও অনেকে অন্য জগৎবাসী সেজে
প্রভাত দুপুর বিকাল ও রাত বিস্মৃত হয়ে
অন্ধ খাঁচার বিপন্ন পাখি সাজে।
সেইসব বিপন্ন প্রাণে জাগে না সুর
মুখ নেই মুখোশ নেই নিরুদ্দেশ বটতলা
অম্লান আকাশের নীচে ধু ধু নিরবতা
কান্নার মতো ফোটা ফোটা বিষাদে ঢাকা
সেই মহাকাশীয় ক্যামেরার চোখ,
কোন দৃশ্যকল্প নেই, নেই খুশির পটভূমি
চিত্রল হরিণীর মতো ছুটে না তারকার দল,
অচেনা জীবাণুর চাবুকে
স্থির নিশ্চল এই অনন্তলোক।

এমন এক স্তব্ধ বৈশাখে
অর্থহীন নাগরিক আয়োজন
শুকনো পাতার মতো উড়ে যাক ক্ষতি নেই
রঙহীন রঙিন মধ্যবিত্ত-বিলাস গোল্লায় যাক
নাই হোক ভোজনশোভা, গীতল আভিজাত্য।

শুধু হলুদ ধানের জমিনে রঙ খেলুক
সহাস্য কৃষকের উদ্যম ঝড়ে
আর সূর্যকিরণের সাম্যাচরণের মতো
সমবিধানের সূচনা হোক
আজকের বিষকণ্ঠ সকালে।

একটি প্রগাঢ় চুম্বনসিক্ত আলিঙ্গনে
জড়িয়ে ধরো আজ আমাদের
হে নবোত্থিত প্রিয়তম।
১৩.০৪.২০২১