বিশ্বম্ভরপুর-শক্তিয়ারখলা রাস্তা মেরামতে অনিয়ম নি¤œমানের বিটুমিন আটক করেছে জনতা, কাজ বন্ধ

স্বপন কুমার বর্মন ও
সালেহ আহমদ, বিশ্বম্ভরপুর
এলজিইডির আওতায় বিশ্বম্ভরপুর-শক্তিয়ারখলা সড়ক মেরামত কাজে ঠিকাদার নি¤œ মানের  বিটুমিন ব্যবহার করায় স্থানীয় এলাকাবাসী বিটুমিন আটক করে কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে সড়কে ব্যবহার করার জন্য নি¤œমানের বিটুমিন নিয়ে আসার পসময় স্থানীয় লোকজন এগুলো আটক করে। এক পর্যায়ে ঠিকাদার ও স্থানীয় লোকজনের মাঝে উত্তেজনা ও ক্ষোভ দেখা দেয়।
খবর পেয়ে বাদাঘাট (দ.) ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাড. ছবাব মিয়া, উপজেলা আ. লীগের সভাপতি বেনজির আহমদ মানিক, সাধারণ সম্পাদক দীলিপ কুমার র্বমন, থানার ওসি মুহাম্মদ সহিদুর রহমানসহ এলাকার গণ্যমান্য লোকজন উপস্থিত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় লোকজন জানান, ‘রাস্তার কাজে শুরু থেকেই নি¤œমানের বিটুমিন দিয়ে মেরামত কাজ করছিল ঠিকাদার। ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাড. ছবাব মিয়া জানান, রাস্তায় নি¤œমানের বিটুমিন ব্যবহার করা      
হচ্ছে সংবাদ পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা প্রকৌশলীকে সাথে নিয়ে বিটুমিন রাখার জায়গায় ড্রামগুলো দেখতে পাই। এগুলো ব্যবহার না করার জন্য উপজেলার প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের লোকদের অনুরোধ করি। ওই রাতেই বিটুমিন বোঝাই ট্রলি জনতা আটক করলে পুনরায় ঘটনাস্থলে যাই।’ তিনি আরো বলেন, ‘বরাদ্দকৃত রাস্তার প্রায় অর্ধেক অংশই নি¤œমানের বিটুমিন দিয়ে কাজ করা হয়েছে। কাজের গুণগত মান খুবই নি¤œমানের। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যক।
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ ফজলুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘বিশ্বম্ভরপুর-শক্তিয়ার খলা রাস্তা মেরামতের জন্য টেন্ডারের মাধ্যমে ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার কাজ রাজিব এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পেয়েছে। স্থানীয় লোকজনের হাতে নি¤œমানের বিটুমিন আটক করার পর ইউপি চেয়ারম্যানকে নিয়ে ঠিকাদারকে এগুলো ব্যবহার না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। আপাতত রাস্তার কাজ বন্ধ থাকবে, ভাল মানের বিটুমিন আনার পর কাজ করা হবে। কোন অবস্থাতেই নি¤œমানের বিটুমিন দিয়ে আর কাজ করতে দেওয়া হবে না।’
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ বলেন,‘এই রাস্তার কাজ খুবই নি¤œমানের। পা দিয়ে আঘাত করলে ভেঙ্গে যায়, মোটরসাইকেল দাঁড় করলে স্ট্যান্ড দেবে যায়। রাস্তায় নি¤œমানের বিটুমিন ব্যবহারের দরুন এ অবস্থা হয়েছে।’
বাঘমারা গ্রামের বাসিন্দা সহিদ মিয়া জানান, রাস্তার কাজের শুরুতেই আমার বাড়ির পাশে প্রায় ৪ শতাধিক বিটুমিনের ড্রাম গোপন করে রাখা হয়েছিল। প্রতি রাতেই লোকজনের আনাগোনা কমার পর ট্রলি বোঝায় করে হেলিপোর্ট মাঠে নিয়ে গিয়ে অন্য ড্রামে রাখা হত। দিনের বেলা না নিয়ে শুধু রাতের আধারে ড্রামগুলো স্থানান্তরে আমাদের মনে সন্দেহ দেখা দেয়। হেলিপোর্টে এত জায়গা থাকতে কেন গোপনে রাখা হয়?
থানার ওসি মুহাম্মদ সহিদুর রহমান বলেন,‘স্থানীয় লোকজন নি¤œমানের বিটুমিন আটক করলে হেলিপোর্টে উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে ইউপি চেয়ারম্যন ও আ.লীগ নেতৃবৃন্দ সহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বিষয়টি এলজিইডির প্রকৌশলী দেখছেন।’
এ ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক রাজিব এর সাথে কথা বলতে চাইলে তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।