পুলক রাজ
শীত কিংবা বর্ষা সুনামগঞ্জ পৌর শহরের দুই নম্বর ওয়ার্ডের বিলপাড় এলাকার সড়কে ময়লা পানিতে সয়লাব থাকে। বর্ষা মৌসুমে এলাকার মানুষের ভোগান্তি আরো বেড়ে যায়। ময়লা পানির মূল উৎস সড়কের পাশের ড্রেন। ড্রেনের পানি উপচে সড়কটিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে আছে। এলাকাবাসী বলছেন, সারাবছর জুড়ে এই ভোগান্তি সহ্য করতে করতে আমরা অতিষ্ঠ। সমস্যার কোন প্রতিকার হচ্ছে না। সড়কের দুরবস্থার কারণে কোনো অটোরিকশা ও রিকশা সহজে যেতে চায় না। কেউ সাহস করে গেলেও ভাড়া দিতে হয় বেশি। জনভোগান্তি দূর করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ড্রেনে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার না করায় ড্রেনের পানি উপচে সড়কে উঠছে। ময়লা আবর্জনার পানি জমে সড়কে জলাব্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সারা বছরই ড্রেনের নোংরা পানিতে ডুবে থাকছে সড়ক।
এলাকার বাসিন্দা আফছানা বেগম বলেন, করোনাকালে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে। পানি নিস্কাশন না হওয়ায় চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এখন এলাকায়। ড্রেনের ময়লা কালো কালো পচা পানি পার হয়ে যেতে হচ্ছে বাসা বাড়িতে। বিলপাড় সড়কে ড্রেন আছে, ড্রেনের ভিতর পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলে এরকম জলাবদ্ধতা থাকতো না। সাধারণ মানুষ রোগ জীবাণু থেকে বাঁচতো।
এলাকার বাসিন্দা হামিদ মিয়া বললেন, বিলপাড়ের সড়কের জলাবদ্ধতা জনপ্রতিনিধির নজরে আসা খুব জরুরী। সড়ক, ড্রেনেজ থাকা সত্বেও জলাবদ্ধতা কেন হবে? শুধু বিলপাড়ের সড়ক নয় শহরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রয়েছে এরকম জলাবদ্ধতা। এই সড়কে হেঁটে গেলে পচা গন্ধে বমির ভাব করে। খুব বাজে অবস্থা। আমরা চাই দ্রুত ড্রেন পরিষ্কার করে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা হোক।
স্থানীয় বাসিন্দা কাদের হোসেন বললেন, মধ্যশহরের আবাসিক এলাকা বিলপাড়। অথচ সড়কে বৃষ্টি ছাড়াই জলাব্ধতা। এই সড়ক নিয়ে সাধারণ মানুষ খুব বিপদে আছে। জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য পৌরসভা এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ন হলে জলাবদ্ধতা থাকবে না। শহরের অনেক খাল দখল হয়ে আছে, খালগুলো দখলমুক্ত হলে জলাবদ্ধতা থাকবে না। এসব কাজ পৌরসভাই করতে হবে। মহল্লার বাসিন্দা প্রান্ত চন্দ বলেন, পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের বিলপাড়, ওয়াপদা রোডের বাসিন্দারা বছরের অর্ধেক সময় ধরেই থাকেন পানিবন্দী। মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। নোংরা জলাবদ্ধ রাস্তা পাড়ি দিতে গিয়ে নানা রোগে আক্রান্ত হতে হয়। সারাবছর জুড়ে এই ভোগান্তি সহ্য করতে করতে মানুষ অতিষ্ঠ।
রিকশা চালক ফরিদ হোসাইন বললেন, ‘বিলপাড়ের প্যাসিঞ্জার পাইলে না করে দেই। ময়লা আবর্জনা, আর কালো কালো পানি জমে থাকে, দেখেই ভয় হয়। আজকে একজন মুরব্বি মহিলা দেখে মায়া লেগে গেছে, তাই বিলপাড় আসতে হয়েছে।
দুই নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ ইয়াসিনুর রশিদ বললেন, নয়টি ওয়ার্ড ঘুরেও সড়কে এরকম জলাবদ্ধতা পাওয়া যাবে না। শুধু বিলপাড় এলাকায় এই অবস্থা। আমি অনেক দিন বাধা দিয়েছি এই সড়কে কোন বালু রাখা যাবে না। তারপরও বালু রাখা হয়। সড়কে বালু রাখার কারণে ড্রেনের পনি নিস্কাশনের ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে ড্রেনের পচা পানি সড়কে উঠেছে।
তিনি বলেন, আমি অনুরোধ করেছি এই সড়কে বালু না রাখার জন্য। এই এলাকার সড়ক কিন্তু খুব ভালো, ড্রেনও আছে। সড়কে বালু আর ড্রেনে ময়লা আবর্জনা ফেলায় এই দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষেরা। তিনি এই বিষয়ে পৌরসভার মেয়র সাহেবের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত পদক্ষেপ নেবার আশ^াস দেন।


