রোগীর প্রেসক্রিপসন চলে যাচ্ছে মেসেঞ্জার গ্রুপে

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানীর লোকদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। ডাক্তারের রুমের সামনে ওৎ পেতে থাকা কোম্পানীর লোকরা চেম্বার থেকে রোগী বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলে রাখছেন। এতে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছেন স্বাস্থ্যসেবার সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিরা।
সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতাল। ১২ নম্বর মহিলা বহিঃবিভাগে রোগী দেখছেন এক ডাক্তার। রুমের ভেতর থেকে বাইরে পর্যন্ত ঠাসাঠাসি করে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন রোগীরা। দরজার সামনে ৪ জন ওষুধ কোম্পানীর লোক দাঁড়িয়ে আছেন। তারা রোগীর প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলে নিজেদের ফেসবুক গ্রুপে ছেড়ে দিচ্ছেন। রোগীদের বলে দিচ্ছেন, ‘আপনার ৩ টি ওষুধ দিয়েছেন ডাক্তার। একটি হাসপাতালে পাবেন। বাকী ২ টি বাইরে থেকে কিনতে হবে।’ অসুস্থ্য সেবা নিতে আসা রোগীরা তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে চলে যান।
এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপ হয় ওষুধ কোম্পানীর একজনের সঙ্গে। নাম পরিচয় জিজ্ঞেস করতেই বললেন আবুল কালাম। অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড কোম্পানীতে চাকরী করেন। কোম্পানীর সার্ভে করতেই তারা হাসপাতালে এসে রোগীর প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলছেন। কোম্পানীর সার্ভে করার অনুমতি আছে কি না জানতে চাইলে দ্রুত হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান তিনি।
রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালে সব সময় এ ধরণের লোকদের দেখতে পান তারা। ডাক্তারের চেম্বার থেকে বের হলেই প্রেসক্রিপশন নিয়ে ছবি তুলে রাখেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগী জানান, শারীরিক অসুস্থতার জন্য মহিলা ডাক্তার দেখাতে এসেছেন তিনি। ডাক্তার দেখিয়ে রুম থেকে বের হবার পর একজন প্রেসক্রিপশন চাইলেন। তিনি ভাবলেন ডাক্তারের সংশ্লিষ্ট মানুষ তিনি। ঠিকঠাক ওষুধ প্রেসক্রিপশনে লেখা হয়েছে কি না যাচাই করবেন। এজন্য লোকটির কাছে প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দেন। পরে ছবি তুলে রাখার পর বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বললো লোকটি।
রবিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় এমন চিত্র দেখা গেছে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানীর লোকদের আসতে বারণ করা হয়েছে। তবুও তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
শহরের সচেতন মানুষ বলছেন, হাসপাতাল একটি সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রাইভেট ওষুধ কোম্পানীর লোকরা কেনো আসেন সেটি দেখা প্রয়োজন।
শহরের ষোলোঘরের বাসিন্দা এসকে আরমান (ছদ্মনাম) বললেন, ডাক্তারদের সঙ্গে ওষুধ কোম্পানীর চুক্তি থাকতে পারে। সেজন্য ওষুধ কোম্পানিগুলো তাদের রিপ্রেজেন্টেটিভ দিয়ে যাচাই করেন কোম্পানীর ওষুধ রোগীদের দিচ্ছেন কিনা ডাক্তার। যে রিপ্রেজেন্টেটিভ যতবেশি প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলে পাঠাতে পারবে তার প্রমোশন তত তাড়াতাড়ি হবে। এতে হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সহসভাপতি অ্যাড. খলিল রহমান বললেন, হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানীর রিপ্রেজেন্টেটিদের কারণে সেবাগ্রহীতারা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এজন্য আমরা অনেক আগে থেকেই দাবি জানিয়ে আসছিলাম তাদের জন্য নির্ধারিত সময় করে দেয়া হোক। কিন্তু সেটা হচ্ছে না। আমরা আশা করবো কর্তৃপক্ষ এবিষয়ে আরও সচেতন হবেন।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আনিছুর রহমান বললেন, আমরা ওষুধ কোম্পানীর রিপ্রেজেন্টেটিভদের বারণ করে দিয়েছি প্রতিদিন না আসতে। এজন্য সপ্তাহের মঙ্গলবার ১টার পর ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করার জন্য বলেছি। কিন্তু বারবার বলার পরেও তারা সে নিয়মনীতি মানছেন না। এবিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নেব।