আকরাম উদ্দিন
সুনামগঞ্জ শহরের সবজি বাজারে উন্নয়ন নেই বললেই চলে। জেল রোডের পাশে সুরমা নদীর তীরে শীত মৌসুমে ৬ মাস সবজির হাট বসে। সুরমা নদীর উত্তরপাড়, বিশ^ম্ভরপুর ও জামালগঞ্জ থেকে সবজি ব্যবসায়ীরা এখানে সবজি বিক্রয় করতে আসেন। বড় কৃষকদের অনেকে সরাসরি এই বাজারে এনে সবজি বিক্রয় করেন। ক্রেতা-বিক্রেতাসহ প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ এই হাটে আসেন। ট্রলার বুঝাই করে সবজি এনে এখানে বেকায়দায় পড়তে হয় তাদের। পাড়ে তুলে বিক্রি করার সময় দুর্ভোগে পড়তে হয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা নলকূপ এবং ওয়াসব্লক’এর। ওয়াসব্লক না থাকায় যত্রতত্র পায়খানা প্রশ্রাব করায় বাজারে দুর্গন্ধ লেগেই থাকে।
শহরের জেইল রোড, ফেরিঘাট এবং নদীরপাড় এলাকায় ভোররাত থেকে বিকাল পর্যন্ত এই মৌসুমে সবজি বেচাকেনা হয়। প্রশ্রাব-পায়খানার প্রয়োজনে ক্রেতা বিক্রেতারা ছুটে যান নদীর তীরে, বা জেইল রোড এলাকার মসজিদের প্রশ্রাবখানায়। প্রায় সময়ই মসজিদের প্রশ্রাবখানা বন্ধ থাকে, আবার কিচেন মার্কেটের প্রশ্রাবখানায় আসা মাছের ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের লাইন থাকে। এ কারণে ভোগান্তিতে পড়েন ক্রেতা বিক্রেতারা।
সবজি বাজারে আসা ক্রেতা মো. আব্দুল গণি বলেন, বাজারে এসে হঠাৎ পেটে ব্যাথা হয়, দৌঁড়ে যাই মসজিদের প্রশ্রাবখানায়, গিয়ে দেখি বন্ধ। এরপর যাই কিচেন মার্কেটের ওয়াসব্লকে, সেখানেও লম্বা লাইন। শেষে নদীর কিনারে একটি বড় নৌকায় উঠে কাজ সারি। এমন অবস্থা অনেকেরই হয়।
ক্রেতা সোহান মিয়া বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষ সবজি বাজার ইজারা দিয়ে লাখ লাখ টাকা পায়। কিন্তু এই বাজারের উন্নয়ন হয় না। কেউ নদীর তীরে লাগানো ট্রলার থেকে সবজি কিনতে চাইলে উপর থেকে নীচে নামতে পারবেন না, বিক্রেতাদের সবজি পাড়ে ওঠাতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়। নদীর পাড়ে জেল রোডের দোকানীরা ময়লা আবর্জনা ফেলে রাখায় সব সময় দুর্গন্ধ ছড়ায় বাজারে। সব সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকে এই এলাকায়। সবজি ব্যবসায়ী আমিনুর শাহ বলেন, সবজি বাজার পৌরসভার। মানুষের সমস্যাও দেখবে পৌরসভা। কিন্তু পৌর কর্র্তৃপক্ষের এই বিষয়ে তেমন কোন উদ্যোগ নেই।
সবজি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সবজি বাজারে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই, প্রশ্রাব করারও জায়গা নেই। নদীরপাড়ে গিয়ে নির্লজ্জের মতো প্রশ্রাব করতে হয়।
স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর চঞ্চল কুমার লৌহ বলেন, সবজি বাজার অস্থায়ী। এই বাজারের জায়গা নির্দিষ্ট না হওয়ায় কোনো উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। ক্রেতা-বিক্রেতার নানা সমস্যা আছেন এটাও জানি। কিচেন মার্কেটের নলকূপটি নষ্ট হওয়ায় সমস্যা আরো বেড়েছে। অকেজো এই নলকূপ আমরা দ্রুত মেরামত করে দেবো।


