ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে কলেজ ছাত্র রিমন হত্যাকান্ড ও আসামীসহ গ্রামের লোকজনের বসতঘরে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাল্টাপাল্টি মামলা দায়েরের ঘটনায় সেনপুর গ্রাম প্রায় পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। গত মঙ্গলবার ভুমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের সেনপুর গ্রামের মৃত ইসহাক আলীর পুত্র রইছ উদ্দিন ও একই গ্রামের মৃত মনোহর আলীর পুত্র আব্দুস সোবহান পক্ষদ্বয়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় রইছ উদ্দিনের পুত্র ও জাউয়াবাজার ডিগ্রী কলেজের ছাত্র রিমন আহমদ(১৮) গুরুতর আহত হয়। তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ভোরে তার মৃত্যু ঘটে। কলেজ ছাত্র রিমন আহমদ হত্যাকান্ডের ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যায় নিহতের চাচা মৃত ইসহাক আলীর পুত্র মমতাজ উদ্দিন বাদী হয়ে গ্রামের আব্দুস সোবহানকে প্রধান আসামী করে ২০জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতানামা আরো ১৫জনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় একটি হত্যা মামলা(নং-২৭) দায়ের করেন।
এদিকে হাসপাতালে রিমনের মৃত্যু হয়েছে এমন সংবাদ পেয়ে উত্তেজিত লোকজন দিন-দুপুরে প্রতিপক্ষের ১০-১৫টি বসত ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। মামলা ও হামলার ভয়ে পালিয়ে যাওয়া গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবারের বসতঘর রাতে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে একটি মহল। বসতঘরে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ছাতক থানায় পৃথক মামলা(নং-৩১) দায়ের করেন সেনপুর গ্রামের মৃত নবিজ আলীর পুত্র ফারুক মিয়া কালা। গ্রামের বশির উদ্দিন ও মমতাজ উদ্দিনসহ ১৬জনের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করা হয়। বসতঘরে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় প্রায় ৬৬লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করা হয়েছে বলে মামলায় উলেল্লখ করা হয়েছে। পক্ষে-বিপক্ষে মামলা দায়ের করায় গ্রেফতার আতংকে সেনপুর গ্রাম বর্তমানে প্রায় পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে।


