তাহিরপুরে অস্তিত্বহীন ঘাটে চাঁদাবাজী

এম.এ রাজ্জাক, তাহিরপুর
তাহিরপুরে ফাজিলপুরে নৌ ঘাটের কোন অস্তিত্ব নেই। ঘাট না থাকলেও প্রতিনিয়ত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে ওখানে। ২০ বছর আগে রক্তি নদীর ফাজিলপুর এলাকায় খেয়া বা নৌকা ঘাট থাকলেও বর্তমানে নেই। এখানে খেয়াঘাট না থাকলেও প্রতিবছরই উপজেলা প্রশাসন থেকে কাগজে-কলমে ইজারা দেয়া হয়। অস্তিত্বহীন এই ঘাটের ইজারা বাতিল করতে একাধিকবার মানববন্ধন করলেও রহস্যজনক কারণে বাতিল হচ্ছে না। কোন প্রকার রশিদ ছাড়াই নৌযান থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যাদুকাটা নদীর বালু মহাল থেকে বালু ও পাথর ভর্তি করে ফাজিলপুর হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার পথে প্রতিদিন প্রায় দেড়শ বালু বোঝাই ট্রলার থেকে গড়ে ১৫শ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। ঘাটে নৌকার মাঝিরা স্বেচ্ছায় নৌকা না ভিড়ালেও জোর করে নৌকা ভেড়াতে বাধ্য করে চাঁদাবাজরা। না হয় মাঝ নদীতে নৌকা আটক করে রাখে। চলতি বাংলা সনের জন্য ৩১ লাখ টাকায় অস্তিত্বহীন ঘাটের ইজারা নেন উপজেলার উজান তাহিরপুর গ্রামের মৃত আলী নুরের ছেলে মঈনুল হক।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রক্তি নদীর পশ্চিম পাড় ফাজিলপুর আর পূর্ব পাড় বড়খলা। বর্তমানে টোল আদায় করা হচ্ছে বড়খলা থেকে। তবে পশ্চিম পাড়ে ঘাটের কোন অস্তিত্ব নেই। এ ঘাটে নৌকা ভিড়ানোর কোন প্রয়োজনীয়তা নেই বলে জানান স্থানীয়রা।
নৌকার মালিক ও শ্রমিকরা জানান, ফাজিলপুর নৌঘাটে তাদের নৌকা কোন কারণেই ভিড়াতে হয় না। মাঝ নদীতে বালু-পাথর বোঝাই নৌকা আটকিয়ে টাকা আদায় করা হয়। টাকা না দিলে নৌকা আটক করে রাখে তারা। এ সময় খারাপ ভাষায় গালাগলি, মারধরও করে।
বালুপাথর ব্যবসায়ী নজির আহমদ জানান, এ নদীতে চলতি নৌকা থেকে টাকা আদায় করা অবৈধ। নৌকা ঘাটে ভিড়িয়ে মাল লোড-আনলোড করলে টাকা আদায় করার কথা। তবে অনেক বছর আগে ফাজিলপুরের এই ঘাটে লোড-আনলোড হতো, কিন্ত দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এখানে নৌকা থেকে বালুপাথর লোড-আনলোড হয় না।
বাজিতপুর নৌপরিবহন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন বলেন, নৌমালিক শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছেন চাঁদাবাজি বন্ধ করতে, কিন্ত পারছেন না।
ফাজিলপুর-আনোয়ারপুর ক্রাশার মিল শ্রমিক সর্দার সমবায় সমিতির সভাপতি ফেরদৌস আলম বলেন, এই ঘাটের ইজারার প্রয়োজনীয়তা ২০বছর আগে ছিল। এখন অস্তিত্বহীন ঘাটের ইজারা দেয়ার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। কোন প্রকার রশিদ ছাড়াই এখানে ইচ্ছেমত বালুপাথর বোঝাই নৌকা থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
যাদুকাটা নৌযান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক মিয়া বলেন, এ ঘাট উঠে গেলে এ নদী দিয়ে চলাচলকারী নৌকা ও শ্রমিকদের জন্য ভাল হতো। প্রতিদিন বড় ও মাঝারি মিলে প্রায় দেড় শতাধিক নৌকা চাঁদা এই পথ দিয়ে চলাচল করছে।
ইজারাদার মঈনুল হক বলেন, বৈধ ইজারাদার হিসেবে রশিদ দিয়েই টোল আদায় করা হচ্ছে এখানে। উপজেলা প্রশাসন থেকে বৈধভাবে ইজারা নেওয়া হয়েছে। মাঝ নদীতে বালু-পাথর বোঝাই নৌকা আটকিয়ে টাকা আদায় করার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
তাহিরপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হান কবির বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সব প্রক্রিয়া মেনে ফাজিলপুর নৌকাঘাট হিসেবে ইজারা হচ্ছে। এই নৌঘাটে নৌকা ভেড়ালে টোল আদায় করা যাবে। নৌকা না ভিড়ালে টোল আদায় করা যাবে না। অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।