মামলায় জমাকৃত টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে তুলে নেয়ার অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে একটি অগ্রক্রয় (প্রিয়মশন) মামলায় জমা দেয়া বাদীর টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে এক আইনজীবী উত্তোলন করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  
জানা গেছে, সুনামগঞ্জের সিনিয়র সহকারি জজ আদালতে জগন্নাথপুর উপজেলার হবিবপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহির আলী ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর একটি অগ্রক্রয় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১৩/২০১৩। মামলা দায়েরের সময় বাদী নালিশা ভূমির কবলা মূল্যসহ ক্ষতিপূরণ বাবদ চালানের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক, সুনামগঞ্জ শাখায় তিন লাখ ১৯ হাজার ৩৬৪ টাকা জমা দেন। মামলা চলাকালীন স্থানীয়ভাবে মামলার বিষয়টি আপোসে নিষ্পত্তি হয়ে যায়। গত ৩১ জুলাই মামলার বাদী পক্ষ আদালতে মামলাটি আর না চালানোর জন্য আবেদন করেন। আদালত বাদী পক্ষের আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে বাদী পক্ষ যথাযথ নিয়মে জমাকৃত টাকা উত্তোলনের জন্য আদালতের হিসাব শাখায় আবেদন করলে গত ১৮ আগস্ট সেটি অনুমোদিত হয় এবং বাদী পক্ষের আইনজীবীকে টাকা প্রদানের জন্য নিযুক্ত করা হয়। বাদী পক্ষের আইনজীবী পরে টাকা প্রাপ্তির আদেশ নিয়ে জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে সেখান থেকে আদালতের হিসাব শাখায় যোগাযোগ করতে বলা হয়। তিনি আদালতের হিসাব শাখায় যোগাযোগ করলে সেখান থেকে জানানো হয় টাকা বাদী পক্ষের অগোচরে কে বা কারা উত্তোলন করে নিয়ে গেছে। বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. নেছার আলম আদালতকে গতকাল সোমবার বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছেন।
জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাদী পক্ষের আইনজীবী নেছার আলমের আগেই আরেক আইনজীবী মো. মাজহারুল ইসলাম এই টাকা উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন। পরে আবার এই টাকা প্রদানের জন্য আদেশ পেয়ে জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয় থেকে বিষয়টি লিখিতভাবে আদালতকে জানানো হয়েছে।
জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেছেন, আদালতের আদেশ সংক্রান্ত কাগজ পেয়ে আমরা ওই মামলার জমাকৃত টাকা আইনজীবী মো. মাজহারুল ইসলামের নামে নিয়ম মেনেই পরিশোধ করেছি। এখন একই আদালত থেকে আবার একই টাকা পরিশোধের আদেশ পেয়েছি। আমরা আদালতকে জানিয়েছি, আইনজীবী মো. মাজহারুল ইসলামের নামে এই টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এখন আদালত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।’
আইনজীবী মো. মাজহারুল ইসলাম দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন,‘আমি পরিস্থিতির শিকার। ভুল বুঝাবুঝির মাধ্যমে এটা হয়েছে। এক বছর আগেই এই টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সে সময় হবিবপুরের বাসিন্দা জাহির আলী পরিচয় দিয়ে বিভ্রান্ত করে টাকা তোলার কাগজে আমার স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। যিনি টাকা নিয়েছেন তিনি নিজেকে জাহির আলী বলে দাবি করেছেন। হিসাবরক্ষণ অফিস আমার নামে চেক দেওয়ার পর আমি চেকটি নিজের ব্যাংক হিসাবে জমা করি। পরে সেই টাকা জাহির আলীকে দিয়েছি। আদালতকে বলেছি, উত্তোলিত টাকা আমি যাদের দিয়েছি তাদের কাছ থেকে ফেরত এনে দিয়ে দেব। আদালত আমাকে এক সপ্তাহের সময় দিয়েছেন।’