বিশেষ প্রতিনিধি
অগ্রক্রয় (প্রিয়মশন) মামলায় জমা দেয়া বাদীর টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে উত্তোলন করার একটি চক্র সুনামগঞ্জে রয়েছে বলে সন্দেহ করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই চক্রের সঙ্গে কোন কোন ক্ষেত্রে তরুণ আইনজীবীগণ না বুঝেই বিশ্বাস করে টাকা উত্তোলনের ফরমে স্বাক্ষর করে বেকায়দায় পড়ছেন। আইনজীবী নেতারা বলছেন,‘যোগসূত্রমূলে এমন ঘটনা ঘটছে কী-না যাচাই-বাছাই এবং এ ধরনের সি-িকেট থাকলে তাদের সনাক্ত করে শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন’।
জানা গেছে, সুনামগঞ্জের সিনিয়র সহকারি জজ আদালতে জগন্নাথপুর উপজেলার হবিবপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহির আলী ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর একটি অগ্রক্রয় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১৩/২০১৩। মামলা দায়েরের সময় বাদী নালিশা ভূমির কবলা মূল্যসহ ক্ষতিপূরণ বাবদ চালানের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক-সুনামগঞ্জ শাখায় তিন লাখ ১৯ হাজার ৩৬৪ টাকা জমা দেন। মামলা চলাকালীন স্থানীয়ভাবে মামলার বিষয়টি আপোসে নিষ্পত্তি হয়ে যায়। পরে বাদীপক্ষের আইনজীবী যথাযথ নিয়মে টাকা প্রাপ্তির আদেশ নিয়ে জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে সেখান থেকে জানানো হয়, টাকা বাদীপক্ষের অগোচরে কে বা কারা উত্তোলন করে নিয়ে গেছে।
একইভাবে ২০১০ সালে একই বারের সদস্য মোহাম্মদ রেজাউল করিম (২) প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন।
অগ্রক্রয়ের একটি মামলার বাদী সুনামগঞ্জ শহরের মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আহমদ আলী দেশের বাইরে থাকা অবস্থায় এই তরুণ আইনজীবী’র স্বাক্ষরে এবং ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে মামলায় জমাকৃত টাকা উত্তোলিত হলেও বাদী এই টাকা না পাওয়ার অভিযোগ করেন।
অ্যাড. মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন,‘আহমদ আলী’র ছেলেসহ ২-৩ জন এই টাকা উত্তোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলো, পরে বিষয়টি জানার পর আমি টাকা উদ্ধার করে দেই’।
অ্যাড. মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন,‘আমার সহকর্মী আইনজীবী নেছার আহমদও এ ধরণের একটি প্রতারণার সম্মুখিন হয়েছিলেন’।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শেরেনুর আলী বলেন,‘সুনামগঞ্জ আদালত অন্য যে কোন সময়ের চাইতে এখন অনেক ভাল। শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা, এবং বিচারপ্রার্থীরা কম সময়ে বিচার পাওয়া, সবকিছুতেই আগের যে কোন সময়ের চেয়ে ভাল’। তিনি জানান, মামলার জমাকৃত টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে উত্তোলনে সংশ্লিষ্ট শাখার কারো যোগসূত্র রয়েছে কী-না, এটিও তদন্ত করে দেখা যেতে পারে।


