সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়ক, বেইলি সেতুগুলো পাকা স্থায়ী সেতুতে রূপান্তর করুন

পর্যটন, বালু-পাথর ও কয়লা ব্যবসা, পণতীর্থ মেলা ও শাহ্ আরেফিনের মাজার, মাছ ও ধান বাজারজাতকরণ, সর্বোপরি দুইটি প্রশাসনিক উপজেলার কারণে সুনামগঞ্জ-বিশ^ম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়কটি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে জেলা সদরের মল্লিকপুরে সুরমা নদীর উপর আব্দুজ জহুর সেতু স্থাপনের পর থেকে ক্রমাগত এই সড়কের ব্যবহার বেড়ে চলেছে। বলা যেতে পারে, সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের পরই এই সড়কের ব্যস্ততা বেশি। সড়কটির অবস্থাও খুব খারাপ নয়। বিশেষ করে চালবন্দ পয়েন্টের পর তাহিরপুরমুখী রাস্তাটির অবস্থা এখন বেশ ভাল। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সড়কের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেতু এখনও বেইলি পদ্ধতির। পাকা সেতু হয়নি। বিশ^ম্ভরপুর পর্যন্ত এমন সেতুর সংখ্যা বেশি। এসব বেইলি সেতুর প্রায় সবগুলোই ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোন সময় এর যেকোনটি যোগাযোগের অযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। বছর তিনেক আগে বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার অন্তর্গত পলাশ পুলের পাড় সেতু ধসে একটি ট্রাক খালে পড়ে গিয়ে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এসব বেইলি সেতুতে প্রায়ই ছোটখাট দুর্ঘটনা ঘটতে থাকে। সেতুর উপর একটি বড় যানবাহন উঠলে সড়কের দুই প্রান্তে অন্য যানবাহনগুলোকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। বলা যেতে পারে এসব জরাজীর্ণ বেইলি সেতুর কারণে এই সড়কে যানবাহনের গতি ধীর হয়ে যায় যা সকলের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ শনিবার সড়কের লালপুরের কাছে একটি বেইলি সেতু ধসে গিয়ে যাতায়াতে দুর্ভোগ তৈরি করেছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে মান্ধাতার আমলের এইসব বেইলি সেতু অপসারণ করে পাকা সেতু স্থাপনের কোন উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। সারা দেশে যখন সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হচ্ছে তখন সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের বেইলি সেতুগুলোর পরিবর্তে কেন স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না সেই প্রশ্ন এখন সকলের।
অর্থনৈতিক বিবেচনায়ও সুনামগঞ্জ-বিশ^ম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়কের গুরুত্ব ফেলনা নয়। সারা দেশের ব্যবসায়ী ও পর্যটকরা এই সড়ক ব্যবহার করে থাকেন। ব্যবসা ও পর্যটনের জন্য সবার আগে ভাল যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলতে হয়। এটি জানা কথা। যাতায়াতের ভাল ব্যবস্থা না থাকলে ইচ্ছুকরা এখানে আসতে চাইবেন না। এর ফল হবে এসব স্থানের সম্ভাবনাগুলোর সদ্ব্যবহার রহিত করে দেয়া। কখনও এরূপ অবস্থা কাম্য নয়। আর এক মাসের মধ্যেই জাদুকাটা নদী তীরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় তীর্থস্থান পণতীর্থ ¯œান উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। পরদিনই পণতীর্থের অনতিদূরে ইসলাম ধর্মের আরেক প্রধান পীর শাহ্ আরেফিনের (রহ.) মাজারে ওরস অনুষ্ঠিত হবে। এই দুই পবিত্র ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে এসব স্থানে লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটে। আজ থেকে বসন্ত ঋতু শুরু হয়েছে। জাদুকাটার আরেক প্রান্তের শিমুল বাগানে এখন ফুলের ছড়াছড়ি। রক্ত রাঙা শিমুলের অপরূপ সম্ভার বহু পর্যটককে আকৃষ্ট করে। পাশের বড়গোপ টিলা (বারেকের টিলা), টেকেরঘাট, টাঙুয়ার হাওর, হলহলিয়া রাজবাড়ি, বিশ^ম্ভরপুরের নবসর্জিত হাওর বিলাস, পাহাড় বিলাসসহ বহু দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা দেখতে এই মৌসুমে পর্যটকদের ভিড় প্রত্যাশিত। বলাবাহুল্য এই জনসমাগম আসবে-যাবে বর্ণিত সুনামগঞ্জ-বিশ^ম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়ক দিয়ে। সুতরাং এই সড়কটি যদি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায় তাহলে যে পুন্যার্থী ও প্রকৃতিপ্রেমিক লোকজনকে বিশেষভাবে হতাশ করবে তা বলার আর প্রয়োজন পড়ে না।
ধসে পড়া লালপুর সেতু হয়ত সাময়িকভাবে মেরামত হয়ে চলাচলের উপযোগী হবে। কিন্তু আমাদের কথা সেটি নয়। আমরা চাই গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের সবগুলো বেইলি সেতু ভেঙে নতুন করে স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণ করা হোক। এজন্য একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব তৈরি করে পাঠানো হোক এবং প্রস্তাব অনুসারে দ্রুত এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হোক। জেলায় বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে যে প্রাণচাঞ্চল্য ও গতিশীলতা দেখা যায় তার রেশ এই সড়কেও এসে পড়–ক এই আমাদের কামনা।