ধর্মপাশা প্রতিনিধি
গণিতের শিক্ষক হিসেবে নিজেকে ব্যাপকভাবে যাহির করার পাশাপাশি পাঠদানের সময় শিক্ষার্থীদের সাথে অপ্রাসঙ্গিক কথা বলাই যেন তাঁর স্বভাব। পাঠাদানের সময় বিকৃত বাচনভঙ্গিতে গণিতের উদাহরণ হিসেবে কখনও ছাত্র—ছাত্রীদের নিয়ে আবার কখনও বিশেষ কোনো ছাত্রীকে উদ্দেশ্য করে অশালীন বাক্য প্রয়োগ করেন। শিক্ষার্থীদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করাকেও স্বাভাবিক ভাবেন তিনি। এতে বিরক্ত হলেও কোনো উপায় না থাকায় পাঠ গ্রহণে বাধ্য হয় শিক্ষার্থীরা। বছর বিশেক আগে বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে নিয়ে প্রতিনিয়তই বিকৃত উদাহরণ দিয়ে হেয় করার চেষ্টা করলে তৎকালীন শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে দেয়াল লিখনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়ে ওই শিক্ষককে বহিস্কারের দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এতে কোনো কর্ণপাত করেনি। সম্প্রতি ওই শিক্ষকের একটি আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কোমলমতি শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ স্থানীয় সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গের কাছে পৌঁছেছে। ফলে আবারও জিএম হায়দার নামের ওই শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে বহিস্কারের দাবি তুলছেন বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা। জিএম হায়দার ধর্মপাশা জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
গত ১৮ মার্চ ভিডিওটি ভাইরাল হলেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী প্রধান শিক্ষকের সাথে দেখা করেন এবং ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তা জানতে চান। পরে ওইদিন বিকেলেই ওই শিক্ষককে শোকজ করে বিদ্যালয় কতৃর্পক্ষ। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছে ওই শিক্ষক। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন সাবেক শিক্ষাথী, সুশীল সমাজের ব্যক্তিসহ অভিভাবকেরা।
বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মহিবুর হাসান মিশুক বলেন, ‘ওই শিক্ষকের কাছে কোনো শিক্ষার্থী নিরাপদ নয়। তাই তাঁকে দ্রুত স্কুল থেকে বহিষ্কার করতে হবে। নইলে আমরা সাবেক ছাত্র হিসেবে ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।’
আরেক সাবেক শিক্ষার্থী ইসতিয়াক হোসেন সাজ্জাদ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ওই শিক্ষক ২০০৩/০৪ সালেই তিনি বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন। এবার তবে দেরি করে তার চেহারা প্রকাশ পেল। এরপরেও যদি তাঁকে বর্তমান নাগরিক সমাজ আবার বিদ্যালয়ে জায়গা করে দেয় তবে সেটা হবে এমন অপরাধকে বৈধতার সার্টিফিকেট দেওয়া।’
সাবেক শিক্ষার্থী হারুন অর রশিদও ফেসবুকে লিখেন, ‘ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আমরা ২০০২ সালে আন্দলোন করেছিলাম তখন যদি পদক্ষেপ নেওয়া হতো তাহলে এখন আর এগুলো দেখতে হতো না।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক খান মুঠোফোন কল ফরওয়ার্ড করে রাখায় এ ব্যাপারে কথা বলা যায়নি। তবে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য কুতুব উদ্দিন জানিয়েছেন, একটি আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশ হওয়ায় ওই শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষরে একটি শোকজ চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং ৭ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক জিএম হায়দার বলেন, ‘শোকজের চিঠি পেয়েছি। হয়তোবা ভিডিওটি এডিট করা। ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিটি আমি না।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাসান বলেন, ‘বিদ্যালয় কতৃর্পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
- দিনব্যাপী ধামাইল উৎসব, গানে গানে প্রতাপ রঞ্জনকে স্মরণ
- লেক্স ফলকন এ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ব্যারিস্টার ফারজানা শিলা


