রমজানে শহরে মাংসের দোকানে সংযমের অভাব

স্টাফ রিপোর্টার
শহরের বিভিন্ন স্থানে সাতটি মাংসের দোকান রয়েছে। এসব দোকানে প্রতিদিন একাধিক গরু, ছাগল, ভেড়া জবাই করে বিক্রি করা হয়। সুস্থ, সবল, নিখেঁাত পশু জবাই করে মাংস বিক্রির কথা থাকলেও অসুস্থ, দুর্বল পশু জবাই করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। দামা বা ডেকা গরুর পরিবর্তে গাভী, খাসীর পরিবর্তে ছাগল জবাই করা হচ্ছে, ওজনেও কম দেয়া হচ্ছে এবং মরা গরু—ছাগলের মাংস বিক্রির অভিযোগ রয়েছে একাধিক ক্রেতার।
রবিবার শহর ঘুরে দেখা গেছে, গাভী গরুর মাংস প্রতি কেজি ৬ শত টাকা, ডেকা গরুর মাংস প্রতি কেজি সাড়ে ৬ শত টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। কলিজা বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ছয় শত টাকা করে প্রতি কেজি। কিন্তু একটি বিষয় লক্ষ্য করা গেছে, প্রতিটি দোকান রয়েছে সড়কের পাশে। প্রতিনিয়ত যানবাহন চলাচলের ধুলোবালি উড়ে গিয়ে পড়ছে মাংসের উপর। এসব মাংস বিক্রি করা হচ্ছে খোলামেলা পরিবেশে।
পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী মো. মাসুক মিয়া প্রতিদিন মাংসের দোকানে সুস্থ গরু—ছাগল দেখে সিল মোহর করে আসছেন। রবিবার ভোরে কাজির পয়েন্ট এলাকায় মনির মিয়ার মাংসের দোকানে ১টি গাভী গরু, শহিদ মিয়ার দোকানে ১টি ও আব্দুর রহমানের দোকানে ১টি গাভী গরু জবাই করে বিক্রি করতে সিলমোহর করে দেন তিনি। অপর দিকে ওয়েজখালী এলাকায় শামীম আহমদের দোকানে ১টি গাভী গরু জবাই করে বিক্রির সিলমোহর করেন বলে জানান।
কিন্তু কাজির পয়েন্টের মাংস ব্যবসায়ী মনির হোসেন, আব্দুর রহমান, আলী আজগর, রফিকুল ইসলামের এবং ওয়েজখালী এলাকার মাংস ব্যবসায়ী শামীম আহমদের দোকানে নিয়মিত বেচাকেনা হয়ে আসছে অনুমোদন বিহীন গাভী গরু ও ডেকা গরুর মাংস। এভাবে সওজ অফিসের সামনে শামছু মিয়ার দোকানে মাংস বেচাকেনা হয়ে আসছে।
ক্রেতা শাহজাহান উদ্দিন বলেন, মাংসের দোকানে ওজনেও কম দেয়। প্রতি কেজি মাংসের দামও রাখে বেশি। পরিত্যক্ত মাংস দিয়ে কেজি পূর্ণ করে ওজন করে দেয় ব্যবসায়ীরা।
শাহীন আরাফাত বলেন, ব্যবসায়ীরা খোলামেলা পরিবেশে মাংস বিক্রি করছেন। সড়কের পাশে দোকানে থাকা মাংসে প্রতিনিয়ত ধূলাবালি উড়ে এসে পড়ছে। নোংরা হচ্ছে মাংস। এটার প্রতিকার জরুরি প্রয়োজন।
ক্রেতা আব্দুস ছুবহান বলেন, শহরের বিভিন্ন স্থানে মাংসের দোকানে বাসি মাংস ও মরা গরুর মাংস মিশাইয়া বিক্রি হয়। পৌরসভার দায়িত্বশীলেরা এসব দেখেও না দেখার বান করে চলে আসেন।
কাজির পয়েন্ট এলাকার মাংস ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের জবাইকৃত পশু সবই সুস্থ ও সবল থাকে। এখন গাভী বিক্রি না করলে লোকসানে পড়তে হয় আমাদের। ডেকা গরুও বিক্রি করি। ওজনে কম দেয়া প্রশ্নই ওঠে না। সকল স্থানে গরুর দাম বেশি, তাই মাংসের দামও বেশি।
অপর ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, প্রতিদিন ভোরে তাজা, সবল গরু পৌরসভার পক্ষে সীলমোহর করা হয়। পরে আমরা জবাই করে বিক্রি করি। মাংসে কোনো প্রকার ধূলোবালি পড়ে না। মাংস দোকানে বেশি সময় থাকেও না। সবই বিক্রি হয়ে যায় নিমিষে।