শহরের মাংসের দোকানে অনিয়ম, খাদ্যদ্রব্যের ব্যবসাকে স্বচ্ছ ও ন্যায্য করুন

শহরের মাংসের দোকানগুলো নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। এসব অভিযোগ পুরনো। বারবার উত্থাপিত হয়েছে। কিন্তু কোন উন্নতি নেই। একই অনিয়ম বারবার ঘুরেফিরে ঘটে চলেছে। অথচ মাংসের দোকানগুলো দেখভালের দায়িত্ব পৌরসভার স্যানিটারি বিভাগের। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে শহরের মাংসের দোকান নিয়ে পুনরায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদে ওজনে কম দেয়া, দাম বেশি রাখা ও খাসির পরিবর্তে ছাগল, ডেকা গরুরি পরিবর্তে গাভীর মাংস বিক্রির মতো চরম অগ্রহণযোগ্য বিষয়গুলো উঠে এসেছে। পথের ধারের খোলা স্থানে অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা পরিবেশে মাংস বিক্রি করা হয় ফলে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে চরমভাবে। কর্তৃপক্ষ একটু সতর্ক হলেই এসব অনিয়ম দূর করা যায়। তাহলে ভোক্তারাও স্বস্তি পেতেন।
পবিত্র রমজার মাস উপলক্ষে মাংসের চাহিদা এখন বেশি। ধনী—গরিব নির্বিশেষে সকলেই খাওয়ার পাতে একটুখানি মাংস রাখতে চান। মাংস ব্যবসায়ীরা চাহিদা বাড়ার এই সুযোগটি ভালভাবেই নিয়েছেন বলে দেখতে পাওয়া যায়। সংযমের এই মাসে অপরাপর ব্যবসায়ীদের মত মাংস ব্যবসায়ীরাও চরমভাবে অসংযমী হয়ে উঠেছেন। বেকায়দায় পড়েছেন ক্রেতারা। ক্রেতাদের সংগঠন বা মিলিত কোন শক্তি নেই। একাকী প্রতিবাদ ধোপে টিকে না। তাই দোকানের সামনে সামান্য হৈ চৈ করলেও এতে তেমন কোন লাভ—ক্ষতি হয় না। ক্রেতারা যেকোন অনিয়মের জন্য দোকানীর সাথে সামান্য ঝগড়া—বিবাদ করার বাইরে আর তেমন কিছু করতে পারেন না। ক্রেতা অধিকার সংরক্ষণের জন্য যে আইনী সুরক্ষা রয়েছে তা পাওয়ার কোন প্রশ্নই উঠে না। সংবাদের সবচাইতে গুরুতর অভিযোগ হলÑ বাসী মাংসের সাথে তাজা মাংস মিশিয়ে বিক্রি করা। এটি স্বাস্থ্যের জন্য ঝঁুকিপূর্ণ। পৌরসভার স্যানিটারি ইনস্পেক্টরের সার্টিফিকেট গ্রহণ স্বাপেক্ষে বিক্রেতারা মাংস বিক্রি করেন। তাহলে কেমন করে খাসীর পরিবর্তে ছাগল আর গরুর পরিবর্তে গাভীর মাংস হয়ে পড়ে? বাসী মাংসই বা বিক্রি হয় কেমন করে? আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংস বিক্রি করা হয়ই বা কীভাবে? নিশ্চয়ই তদারকী ব্যবস্থা দুর্বল বা বিক্রেতাদের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট। নতুবা বিক্রেতারা এতসব অনিয়ম করার সাহস পেতেন না।
মাংসের দোকানগুলোতে নিয়মনীতি পালনের জন্য আমরা কর্তৃপক্ষের প্রতি সবিনয়ে অনুরোধ জানাই। মানুষ অনেক কষ্ট করে বেশি দামে মাংস কিনে থাকেন। নিরীহ ক্রেতারা যাতে না ঠকেন সেই বন্দোবস্ত করা পৌর কর্তৃপক্ষের মানবিক দায়িত্ব বটে। এই রমজানের অসহনীয় বাজারে মাংসের দোকানের এই বিশৃঙ্খলা সকলের জন্য নিদারুণ কষ্টকর হয়ে উঠছে। বাজারে খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করার ব্যাপারে দেশে সুনির্দিষ্ট আইন আছে। বাজারে আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে কি—না তা দেখাশোনা করার জন্য সরকারের বহু প্রতিষ্ঠান আছে। বাস্তবে বাজারে এসব আইন ও প্রতিষ্ঠানের তেমন উপস্থিতি চোখে পড়ে না। তাই বাজারে কোন কারণ ছাড়াই দ্রব্যমূল্য যেমন বাড়তে পারে তেমনি পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও ঘাটতি থাকে চোখে পড়ার মত। বাজার নিয়ন্ত্রণে এই দুর্বলতার প্রতিফলনই মাংসের দোকানগুলোর অনিয়মের মূল কারণ বলে আমরা মনে করি। তাই বাজারকে ক্রেতা—বান্ধব ও ন্যায্য রাখতে দেশে যেসব আইনের অস্তিত্ব আছে সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ আমরা কামনা করি।
মাংস ব্যবসায়ীদের প্রতি আমাদের আহ¦ান, আপনারা ন্যূনতম নৈতিকতা বজায় রেখে ব্যবসা করুন। সাধারণ ক্রেতাদের জিম্মি করবেন না। মুনাফার জন্য জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয় এমন কাজ করবেন না। আইন বিরুদ্ধ কাজ করলে এজন্য শান্তি পেতে হতে পারে এই ধারণা মনে রেখে ব্যবসা করুন। সর্বোপরি ক্রেতা—বিক্রেতা সম্পর্কটি পারষ্পরিক বিশ^াস ও সৌহার্দময় হোক এই আমাদের কামনা।