স্টাফ রিপোর্টার
‘অদম্য প্রমা মেডিকেলে পড়তে পারবেন তো’ দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর ও জাতীয় দৈনিক সমকালে ছাপা হওয়া এই প্রতিবেদন দেখে শিক্ষানুরাগী বিত্তশালী অনেকেই প্রমাকে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
পূর্ব নতুন পাড়ার আমেরিকা প্রবাসী বিমলেন্দু রায়, নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজের একজন শিক্ষার্থী, সোসাইটি ফর অ্যাডুকেশন এণ্ড কেয়ার অব হিয়ারিং ইমপ্রেস চিলড্রেন অব বাংলাদেশ’এর চেয়ারম্যান প্রমার মা নীলিমা রানী তালুকদারকে ফোন করে সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য প্রমার বাবা অরুন চন্দ্র তালুকদারের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার কামারগাঁও গ্রামে। একসময় গ্রামে বর্গাচাষ করতেন হতদরিদ্র অরুন চন্দ্র তালুকদার। বছর বছর ফসল ডুবে যাওয়ায় ১২ বছর আগেই চার সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে গ্রাম ছেড়েছেন তিনি। শহরে এসে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বেঁচে থাকার কঠিন লড়াই শুরু হয় তাঁর। ঠেলাগাড়ি দিয়ে পথে পথে সবজী বিক্রি করেন তিনি। একপর্যায়ে স্ত্রী নীলিমাকে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) থেকে একটি সেলাই মেশিন দেওয়া হয়। দুজনের সামান্য রোজগারে খেয়ে না খেয়ে পূর্ব নতুনপাড়ার নির্মাণাধীন একটি ঘরে বিনা ভাড়ায় কিছুদিন থাকেন এই দম্পতি। ছেলে দীপ, অপূর্ব মেয়ে ইমা ও প্রমাকে স্কুলে পাঠাতে ভুল করেন নি তারা। জীবিকার এই কঠিন লড়াইয়ের মধ্যেও ছেলে মেয়েরা সংগ্রাম চালিয়ে যায়। পড়াশুনার পাশপাশি স্কুলের শিশুদের পড়িয়ে নিজেদের খরচ চালায় অরুন—নীলিমার সন্তানেরা। ছোট মেয়ে প্রমা রানী তালুকদার এবার নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হবার সুযোগ পেয়েছে। এর আগে সুনামগঞ্জ শহরের কালিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ—৫, সরকারি এসসি বালিকা বিদ্যালয় থেকে জেএসসি ও এসএসসিতে জিপিিএ—৫ এবং সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে এইএসসিতে জিপিএ—৫ পেয়েছিল সে।


