ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ
রমজান মাস ত্রিশ দিনের হলে আগামী সপ্তাহের মঙ্গলবারে পবিত্র ঈদুল ফিতর। আর যদি ঊনত্রিশ দিনের হয় তাহলে ঈদ হবে সোমবারে। সে হিসেবে ঈদের বাকী আর মাত্র ৬ থেকে ৭দিন। অন্যান্য বছর এমন দিনে শান্তিগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি হাট—বাজারের কাপড়ের দোকানগুলোতে ক্রেতারা গিজগিজ করলেও এ বছর বলতে গেলে একেবারেই শূন্য পড়ে আছে দোকানগুলো।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, একটি মাঝারি মানের কাপড়ের দোকানে অন্যান্য বছরের এমন দিনে নূন্যতম ২৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার কাপড় বিক্রি করতে পারলেও এবছর সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। এ হিসেব অনুযায়ী অন্যান্য বছরের তুলনায় এখন পর্যন্ত এক তৃতীয়াংশ টাকার জামা—কাপড়ও বিক্রি করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। ফলে, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে যে আশায় লাখ লাখ টাকার কাপড়ের নতুন সংগ্রহ দোকানে উঠিয়েছেন ব্যবসায়ীরা সে আশায় গুঁড়েবালি। অনেক ব্যবসায়ীরা আশায় বুক বেঁধে আছেন— যেহেতু ধুম বৈশাখ মাস চলছে এবং হাওরের ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার একটি শঙ্কা কাজ করছে সেহেতু নতুন ধান গোলায় তুলে ঈদের পরে হলেও ক্রেতারা বাজারমুখী হবেন। এছাড়াও, ঈদের আরো একসপ্তাহ সময় বাকী, মফস্বলের হাট—বাজারে সাধারণত ২৭ রমজানের পরে ব্যবসা কিছুটা ভালো হয়। আশা করা হচ্ছে শব—এ কদরের পরের দু’তিনদিন ব্যবসা ভালো হবে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর এমন সময়ে ব্যবসা একেবারেই ভালো যাচ্ছে না।
ঈদের আর মাত্র একসপ্তাহ সময় বাকী থাকলেও এখনো কেনো জমে উঠেনি ঈদের বাজার এমন প্রশ্নের উত্তর খোঁজতে এ প্রতিবেদকের কথা হয় শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা বাজার, ভবভমি বাজার, নোয়াখালী ও পাথারিয়া বাজারসহ বিভিন্ন বাজারের কাপড় ব্যবসায়ীদের সাথে। তারা জানান, চারদিকে হাওর ডুবার খবর পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের উপজেলায় বড় কোনো হাওর এখনো তলিয়ে যায়নি। আর ধানও পাকতে শুরু করেছে। এই মুহুর্তে ধান কাটা হচ্ছে বড় কাজ। তাই বলতে গেলে প্রায় সকল মানুষই এখন হাওরে। ধান কাটায় ব্যস্ত। ধান গেলে ধান পাওয়া যাবে না। ঈদ আবার আসবে, নতুন জামা—কাপড় পড়া ও আনন্দ ফুর্তি তখন করা যাবে। তাই হাওরে ধান রেখে বাজারমুখী হচ্ছেন না মানুষ। যারা আসছেন তাদের বেশির ভাগ কেউ ব্যবসায়ী না হয় প্রবাসী। এ উপজেলার বাজারগুলোতে কৃষক শ্রেণিপেশার মানুষ বাজারে না আসলে বাজার জমজমাট হবে না। এছাড়াও ক্রেতাদের শহরমুখীতাও এর একটি কারণ। মূলত: এসব কারণে এখনো ঈদের বাজার জমে উঠেনি। তবে যারা ইতোমধ্যে ধান কাটা শেষ করেছেন বা আরো এক সপ্তাহ সময় আছে এর মধ্যে যদি ধান তুলে শেষ করতে পারেন তাহলে হয়তো কিছু ক্রেতা শেষের দিকে হলেও বাজারে আসবেন কেনাকাটার জন্য। ঈদের পরেও এবছর ব্যবসার আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
ভমভমি বাজারের ভাই ভাই দত্ত ক্লথস্টোরের পরিচালক ভক্ত দত্ত ও নেইমার এন্ড ঝিলিক গার্মেন্টস্’র পরিচালক নিশি রঞ্জন দাস ঝন্টু বলেন, ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না। এখনো জমে উঠেনি। আমাদের এলাকা হচ্ছে কৃষি প্রধান। কৃষকদের ঘরে আনন্দ থাকলেই আমাদের ব্যবসা ভালো হয়। এখনো কৃষকরা মাঠে ধান তুলায় ব্যস্ত, তারা বাজারমুখী হলে বেচাকেনা কিছু বাড়বে।
পাগলা বাজরের তানভীর ফ্যাশনের পরিচালক মো. শাহ আলম ও শিলা এন্ড নীলা গার্মেন্টস্’র মমশর মিয়া জানান, অন্যান্য বছর ১০/১৫ রোজা থেকে আমাদের ব্যবসার ব্যস্ততা শুরু হতো। প্রতিদিন ২০/২৫ হাজার টাকার কাপড় বিক্রি করতে পারতাম। এ বছর এখনো ১০ হাজার টাকার ব্যবসা করতে পারিনি। আশা করছি আগামী সপ্তাহে কিছু ব্যবসা হবে।
পাথারিয়া বাজারের হোসাইন গার্মেন্টস্’র মাও. সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রথম দিকে ব্যবসা খুব একটা ভালো ছিলো না। এ সপ্তাহ থেকে উন্নতি লক্ষ করা যাচ্ছে। আশা করছি আরো ভালো হবে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর বেচাকেনা কম।


