দিরাই সংবাদদাতা
দিরাই উপজেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তবে বন্যা কবলিত নিচু এলাকাগুলো থেকে এখনো নামেনি পানি। অনেকের বাড়ি থেকে পানি নামলেও কাদা মাটি ও শিশুর জন্য বাড়ি ফিরে যেতে পারছেন না। সর্বনাশী বন্যা অনেকের শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নেয়ায় তাদের সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যত। অনেকেই হারিয়েছেন সারা জীবনের সঞ্চয়, ধার করে তৈরি করা বসতবাড়ি।
সোমবার দিরাই পৌরসভার দিরাই মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এখনও আশ্রয় কেন্দ্রটিতে ২৩০টির মত পরিবার শরণার্থী হিসেবে আছেন। ১টি ৪ তলা, ১ টি ৩ তলা এবং ২টি ১ তলা ভবনে প্রায় হাজার খানেক অসহায় মানুষ অবস্থান করছেন। অনেকেই পরিবার-পরিজন এবং গবাদিপশু নিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল এখানে। বন্যা যতই দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে তাদের তিন বেলা পেট পুরে খাওয়া যেন স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো রকমে একবেলা জোগাড় করে সেই খাবার তিন বেলা খেতে হচ্ছে।
দিরাই মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া রাধারমন পাল বলেন, এক সপ্তাহ ধরে আশ্রয় কেন্দ্রে আছি। বন্যায় আমার বাড়ি ভেঙে ভেসে গেছে এখন আমার কোথাও যাবার জায়গা নাই। আমি এই আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে কোথায় গিয়ে থাকব। তিনি বলেন, আমার বাড়ি পৌরসভার পূর্ব দিরাইয়ের লামাহাটি আমি এখন কি করব। পানি এখনও কমেনি পানি কমলেই বা কোথায় যাব।
ঝুমা পাল বলেন, ৪ মেয়ে ও ১ ছেলেকে নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্র উঠেছি। বন্যার পানিতে আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে ভেসে গেছে। এখন সন্তানের নিয়ে কোথায় গিয়ে উঠব।
তিনি বলেন, আমার স্বামী অধির পাল ঠেলাগাড়িতে শরবত বিক্রি করে পরিবার চালায়, কিন্তু বন্যার পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় তাড়াহুড়া করে গাড়িটি এই আশ্রয় কেন্দ্রে আনার সময় ভেঙে যায় এই অবস্থায় আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো।
ভবানী পাল বলেন, আমার স্বামী গ্রামে গ্রামে দোকান নিয়ে যান, এই ব্যবসা করে আমার ৪ মেয়ের পড়ালেখার খরচসহ পরিবারের যাবতীয় খরচ মেটান। কিন্তু এই সর্বনাশী বন্যা আমাদের বাড়িঘর ভেঙে নিছে গেছে এখন আমরা কোথায় ফিরে যাব।
অন্যদিকে আশ্রয় কেন্দ্রটিতে আশ্রয় নেওয়া পূর্ব দিরাইয়ের লামাহাটি ও পালহাটির মনিন্দ্র দাস, গীতা পাল, বাবুল পাল, আরাধন পাল, অনিল পাল বলেন, বন্যার কারণে পরিবার নিয়ে বাড়ি ছাড়া এক সপ্তাহের উপরে চলে। ঘরের আসবাবপত্র ঘরে রেখে পরিবার ও গবাদি পশু নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন স্কুলে। কিন্তু এখনও তাদের বাড়িতে হাঁটু পানি রয়েছে তাই তারা আশ্রয় কেন্দ্র থেকে যেতে পারছেনা।
রহিমা বেগম বলেন, ঘর থেকে পানি নামছে কিন্তু উঠানে ও বাড়ির চারিদিকে পানি রয়েছে, তাই বাচ্ছাদের ভয়ে বাড়ী ফিরতে পারছি না।
- সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়ক/ নামছে পানি, ভাসছে সড়কের ক্ষত
- পানসি রেস্টুরেন্টের খাবারে চেলা পোকা, হাসপাতালে ভর্তি ২ স্বেচ্ছাসেবক


