বন্যায় কেড়ে নিল হাবিবুরের স্বপ্ন

এম.এ রাজ্জাক, তাহিরপুর
তাহিরপুরে বন্যায় কেড়ে নিল মৎস্য ও পোল্ট্রি খামারি হাবিবুর রহমানের স্বপ্ন। হাবিবুর রহমান উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের বোরখাড়া গ্রামের মৃত চাঁন মিয়ার ছেলে। অনেক স্বপ্ন নিয়ে ১ একর ৬১ শতাংশ জায়গায় একটি পুকুরে মাছ চাষ করেন তিনি। কয়েক দফায় পুকুরের মধ্যে বিভিন্ন প্রকার মাছও চাষ করেন তিনি। একই সঙ্গে পুকুরে মাচার উপর পোল্ট্রি মুরগির খামার এবং পুকুর পাড়ে বাচ্চার বডিং ফার্ম গড়ে তুলেন। কিন্তু সর্বনাশা বন্যায় শেষ করে দিয়েছে তাকে। হাবিবুর এখন কিভাবে ব্যাংকের লোন পরিশোষ করবেন এই ভেবে চারিদিকে অন্ধকার দেখছেন। শুধু হাবিবুর রহমান নয় এ চিত্র পুরো উপজেলার মাছ চাষী ও পোল্ট্রি ফার্ম খামারিদের।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় সরকারি হিসেবে ছোট বড় ৪৩৫টি পুকুর রয়েছে। সব পুকুরই বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। গেল মাসের ১৪ জুন বৃহস্পতিবার রাতের ভয়াল বন্যায় পুকুরের মাছ ভেসে গিয়ে প্রায় ২ কোটি ৭২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের বোরখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে হাবিুবুর রহমানের পুকুরের পাড় বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে গেছে এবং পোল্টি খামারের মাচাটি পুকুরের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
হাবিবুর রহমান জানান, ১৯১৯ সালে বাদাঘাট কৃষি ব্যাংক থেকে প্রথমে এসএমই লোন নেন দুই লাখ টাকা। এই টাকা দিয়েই পুকুর ও পোল্ট্রি ফার্ম এক সঙ্গে গড়ে তুলেন তিনি। ব্যবসাও ভাল হচ্ছিল। ২০২০-২১ সালে পুরাতন টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে নবায়ন করে পুনরায় তিন লাখ টাকা লোন নেন তিনি। এই লোনের টাকা দিয়েই পুকুরে ২ লাখ টাকার বিভিন্ন পোনা মাছ ও এক হাজার পোল্ট্রি মোরগ দিয়ে ফার্ম করেন তিনি। বডিং ফার্ম থেকে ছোট ছোট বাচ্চা বড় হয়ে দুই হাজারে পরিণত হয়। পুকুরের মাছগুলোও বড় হয়েছিল। তার আশা ছিল কিছুদিনের মধ্যে পুকুর থেকে মাছ বিক্রি এবং মুরগি বিক্রি করে লোন পরিশোধ করবেন তিনি। হাবিবুর জানান, পুকুর থেকে ৫ লাখ টাকার মাছ এবং ৩ লাখ টাকার পোল্ট্রি মোরগ সহ ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখন তিনি কিভাবে ব্যাংকের লোন পরিশেষ করবেন এই ভেবে চোখে অন্ধকার দেখছেন। ৫ মেয়ে ও তিন ছেলে সহ পরিবার নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন।
উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য দুলাল মিয়া জানান, এবারের বন্যায় মৎস্য চাষী ও পোল্ট্রি খামারি হাবিবুর নিঃস্ব হয়ে গেছেন। তার পুকুরে থাকা কয়েক লাখ টাকার মাছ ও পোল্ট্রি মুরগি পানিতে ভেসে গেছে।
তাহিরপুর উপজেলা মৎস্য অফিসার সারোয়ার হোসেন জানান, এবারের বন্যায় উপজেলার ছোট বড় প্রায় ৪৩৫টি পুকুরের মাছ ভেসে গিয়ে ২ কোটি ৭২ লাখ টাকার মাছ ক্ষতি হয়েছে। মাঠের সচিত্র প্রতিবেদন তুলে ধরে আমরা সরকারের কাছে তথ্য পাঠিয়েছি।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হান কবির বলেন, মৎস্য খামারি হাবিবুরের মতো উপজেলার অনেকেই চলতি বন্যায় পুকুর, পোল্ট্রি মুরগি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিক্ষতির প্রতিবেদন আমরা উপর মহলে পাঠাচ্ছি। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করা হবে।