আদালত চত্বরে ছুরিকাঘাতে খুন

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ আদালত চত্বরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে একব্যক্তি খুন হয়েছেন। এঘটনায় তাৎক্ষণিক পুলিশ তিনজন কে আটক করেছে। নিহতের নাম খোকন মিয়া (৫০)। তিনি জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের গলাখাল গ্রামের ফটিক মিয়ার ছেলে। বৃহস্পতিবার বেলা একটায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আদালত চত্বরের আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা হতভম্ব হয়ে পড়েন। আইনজীবীগণ আঘাতকারীদের পালাতে দেন নি, চারদিক ঘিরে রাখেন। পরে পুলিশ অপরাধীদের থানায় নিয়ে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আদালত এলাকার আইনজীবী সহকারী সমিতির কার্যালয় প্রাঙ্গণে দুপুর সাড়ে ১২টায় খোকন মিয়াকে ঘিরে দাঁড়ায় কয়েকজন। এসময় একজন খোকন মিয়াকে ঘুষি মারে। আরেকজন ছুরিকাঘাত করতে থাকে। অন্য আরেকজন তালার চাবি দিয়ে ঘা দিতে থাকে। রক্তাক্ত খোকন মিয়াকে তাৎক্ষণিক সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী সহকারী মিফতাউল আলম ফিল্মি কায়দায় হামলা হয়েছে বর্ণনা করে বললেন, হত্যা করার উদ্দেশ্যেই আঘাত করা হচ্ছিল। আঘাতের নির্মমতা দেখে ভয় লেগে যায়। পরে গুরুতর আহত খোকন মিয়াকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী হাবিবুর রহমান বললেন, ধারালো ছুরিকাঘাত দিয়ে আঘাতের সময় বুঝা গেছে ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত। প্রত্যক্ষদর্শীগণ ফেরাতে ফেরাতে অসংখ্যবার শরীরে ছুরিকাঘাত করে হামলাকারী একজন। অন্যরাও নানাভাবে আঘাত করতে থাকে।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল হক বললেন, আঘাতকারীরা হিংস্র ছিল, সবকিছু শুনে মনে হয়েছে পূর্ব পরিকল্পিত ঘটনা এটি, সঙ্গে ধারালো অস্ত্র নিয়েই আদালত এলাকায় এরা প্রবেশ করেছিল।
জেলা আইনজীবী সমিতির সহ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনাম আহমদ ও অ্যাডভোকেট মাহবুবুল হাসান শাহীন জানালেন, ঘটনার পর আইনজীবীরাই অপরাধীদের ঘিরে রাখেন। না হয় এরা পালিয়ে যেত।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট রবিউল লেইছ রোকেস বলেন, বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক। সুনামগঞ্জ আদালত এলাকায় খুনের ঘটনা এটাই প্রথম। এর আগে মারামারি হয়েছে। এমন মর্মান্তিক ঘটনা কখনোই ঘটেনি। আইনজীবীরা তাৎক্ষণিক দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখেছেন। পুলিশও দ্রুত তৎপর হওয়ায় পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তে প্রকৃত দোষীদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি আমরা।
খোকন মিয়ার চাচাতো ভাই মাসুক মিয়া হাসপাতালে মরদেহের পাশে বিলাপ করতে করতে জানালেন, গ্রামের লাল মিয়ার সঙ্গে বাড়ীর জায়গা নিয়ে বিরোধ ছিল। এ নিয়ে মামলার তারিখে এসেছিলেন তারা। তিনি আদালত প্রাঙ্গণের এক দোকানে বসেছিলেন। তার পাশ থেকেই খোকন মিয়া ওঠে আসেন। এসময় লাল মিয়ার ছেলে ফয়েজ, ই¯্রাইল, বাদশা মিয়ার ছেলে সাহান, আফরোজ মিয়ার ছেলে সেবুল ও সাজিদ তার ভাই খোকন মিয়াকে উপর্যুপুরি ছুরিকাঘাতে খুন করে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত ডা. রবীন্দ্র তালুকদার জানালেন, গুরুতর আহত খোকন মিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই মারা যান। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত আছে।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক ফয়েজ আহমদ, সাজিদ মিয়া ও সেবুল মিয়াকে আটক করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা (বিকাল সাড়ে ৪ টা) পর্যন্ত মামলা হয় নি।