অর্ধেন্দু ঘোষ চৌধুরী (সঞ্জু)
আগামী ১২ই চৈত্র ১৪২৩ বাংলা ২৬ শে মার্চ, ২০১৭ ইং রবিবার শ্রী শ্রী অদ্বৈত প্রভুর জন্মভূমি লাউড়েরগড়-রাজার গাঁও গ্রাম সংলগ্ন যাদুকাটা নদীতে বারুনী স্নান। গত বৎসর বারুনী স্নানে ১০ লক্ষের অধিক পূণ্যার্থী সমবেত হয়েছিলেন। সীমাহীন কষ্টের মধ্যে লক্ষাধিক পূণ্যার্থী মধুকৃষ্ণা তিথিতে বারুনী¯স্নান করেছিলেন।
গত বৎসর বারুনী মেলায় কি ঘটতে পারে তা মেলার অন্ততপক্ষে ৬-৭ মাস পূর্বে সুনামগঞ্জের খবর পত্রিকায় স্ববিস্তারে লিখেছিলাম। যার প্রত্যেকটি কথাই সঠিক হয়েছিল। এ বৎসর গত বৎসরের দ্বিগুন পূণ্যার্থী সমাগম হওয়ার কথা। কারণ এ বৎসর মহা মহা বারুনী। কয়েক যুগের মধ্যে এ ধরনের যুগ আসেনি। তাছাড়া ২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস। সরকারি ছুটির দিন।
গত বৎসর বিদ্যমান অসুবিধাগুলি এ বৎসরও দূর হয়নি। গত বৎসর বাড়তি ছিল প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এ বৎসরও তার কোন নিশ্চয়তা নেই। কারণ সারা বিশ্বই আজ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখিন। আমাদের সমস্যা অনেক। সমাধানের কোন আশ্চর্য্য প্রদীপ আমাদের হাতে নেই। এরই মধ্যে আমাদের সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।
আমাদের সমস্যা
১) অপ্রশস্ত রাস্তা
২) অপ্রতুল যানবাহন, যাত্রী নিরাপত্তা।
৩) অস্বাভাবিক যাত্রী ভাড়া
৪) অত্যন্ত ছোট আকারের মহাপ্রভুর মন্দির
৫) অপর্যাপ্ত সেনিটেশন ব্যবস্থা
৬) অপর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি
৭) মা-বোনদের স্নান শেষে কাপড় পরিবর্তনের ব্যবস্থা না থাকা
৮) অপর্যাপ্ত গণশৌচাগার
৯) লামাশ্রম বাজার, রাজারগাঁও নদীভাংগন (মহাপ্রভুর মন্দিরসহ)
এরই মধ্যে আগামী ৩ বৎসরের জন্য একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রথম পরিচিতি সভা রাজারগাঁও এর ভক্তবৃন্দের সাথে আলোচনা করে সুনামগঞ্জ শহরের যে কোন একটি হলে করা যায় কিনা তা ভেবে দেখা যেতে পারে। প্রয়োজনে জেলা পরিষদ প্রশাসকের সাথে আলোচনা করে জেলা পরিষদের হল রুম ব্যবহার করা যেতে পারে। সভায় জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সমাজের সকল শ্রেণি পেশার নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি প্রয়োজন। সাংবাদিক ও সকল স্তরের মিডিয়াকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
সমাধান
১। প্রশস্ত রাস্তা ছাড়া আমাদেরই সংকট সমাধানের কোন উপায় নেই। প্রথমত পলাশ থেকে পশ্চিমে কারেন্টের বাজার হতে ইসলামপুর পয়েন্ট। সেখান থেকে সোজা পশ্চিমে কাটাখালী বাজার পয়েন্ট হয়ে উত্তর-পশ্চিমে সোহরাব মাস্টারের বাড়ীর সামনে দিয়ে লামাশ্রম হয়ে মন্দির পর্যন্ত প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ করা যেতে পারে। রাস্তাটি নির্মাণ হলে পূর্বের দূরত্ব থেকে প্রায় ৬ কি.মি. দূরত্ব কমে যাবে। দ্বিতীয়ত পলাশ থেকে ধনপুর হয়ে আলাংদী গ্রাম হয়ে মাছিমপুর ক্যাম্প পয়েন্ট থেকে শরীফগঞ্জ বাজার হয়ে লাউড়েরগড় বাজার দিয়ে অদ্বৈত প্রভুর মন্দির পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্ত করতে পারলে যানযট নিরসন হবে ।
২। অপ্রতুল যানবাহন, যাত্রী নিরাপত্তা, যাত্রী ভাড়া জনিত সমস্যা সমাধানের জন্য পরিচালনা কমিটিকে জেলা প্রশাসক মহোদয় ও পুলিশ সুপার মহোদয় সহ বিজিবি ও র্যাবের জেলা কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে সমাধান করতে হবে।
৩। মন্দির, নাট মন্দির যাত্রী নিবাস সেনিটেশন গণশৌচাগার মিশুদ্ধ পানি সহ মন্দির ব্যবস্থাপনার জন্য আমি গত বৎসর জেলা পরিষদ প্রশাসক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমনকে বলেছিলাম একটা উদ্যোগ নেয়ার জন্য। আজ আবার নতুন করে লিখলাম। আমাদের সিলেটের মাননীয় দুই মন্ত্রী মহোদয়কে একবার (আগামী ২/১ মাসের মধ্যে পরিদর্শন করে একটা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানাই।
৪। নদী ভাংগন:- মহাপ্রভুর মন্দির থেকে দুই দিকে ২ কি.মি. নদী ভাংগন রোধ করতে হবে এবং সবটুকু নদী ভাংগন রোধের কাজ সিঁড়ি দিয়ে করলে পরবর্তীতে পূণ্যার্থীরা এই সিঁড়ি দিয়ে পূণ্যস্নান করতে পারবেন।
৫। পূণ্যস্নানর পর মা-বোনদের যাতে করে পরিধেয় বস্ত্র পরিবর্তন করার জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে সেড নির্মাণ করতে হবে।
৬। স্থল পথে ও নদী পথে মন্দিরে আসার পথে শক্তিশালী স্বেচ্ছাসেবক টিম নিয়োগ করতে হবে।
৭।মেলার দিন একটি মেডিকেল টিম রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া যায়।


