ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, প্রমাণ মেলেনি তদন্তে

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এখলাছ মিয়ার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পায়নি সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি। পূর্ব শত্রুতার জেরে স্থানীয় স্কুল শিক্ষক আব্দুল জলিল একই ইউনিয়নের পনারকুড়ি গ্রামের জামাল বাদশা নামে এক ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল করে গত ১ আগস্ট এখলাছ মিয়ার বিরুদ্ধে ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, জামাল বাদশার বাবা আব্দুল হালিম ও তার চাচাতো বোন রাবেয়া খাতুনসহ কয়েকজনের কাছ থেকে আশ্রয়ণের ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ৮২ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ইউপি সদস্য এখলাছ মিয়া। কিন্তু জামাল বাদশা জানিয়েছেন, তিনি অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেননি। অনুসন্ধানে জানা যায়, জলিল মধ্যনগর বাজারে একটি কম্পিউটারের দোকানে মানিক মিয়া নামে একজনকে দিয়ে জামাল বাদশার স্বাক্ষর করান। এদিকে গত ৭ আগস্ট বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান রাসেল আহমদ বিষয়টি তদন্তের জন্য ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেনকে দায়িত্ব দেন। দেলোয়ার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামাল হোসেন ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুজন মিয়াকে সাথে নিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করেন।
ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘এখলাছ মিয়ার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।’
জাল স্বাক্ষরের কথা স্বীকার করে আব্দুল জলিল বলেন, ‘ইউপি সদস্য কর্তৃক বিষয়টি তদন্তের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। প্রশাসনের তদন্তে যা হয় হবে।’
ইউপি চেয়ারম্যান রাসেল আহমদ বলেন, ‘আমার পরিষদের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠায় পরিষদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। তাই অভিযোগের সত্যতা রয়েছে কি না তা জানতেই ১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করে তদন্ত করিয়েছি। তদন্তের সময় আরও দুইজন ইউপি সদস্য সাথে ছিলেন।’
ইউপি সদস্য এখলাছ মিয়া বলেন, বছরখানেক আগে জলিলের বড় ভাই দেলোয়ারের বিরুদ্ধে এক নারীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় জলিল ও তার পরিবার আমার পিছু লেগে আছে।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান খান বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তের জন্য সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’