গোয়ারছড়া-কলাউড়া-ইয়াখড়ি সড়ক/ কাদা ও গর্তে ভরা, আছে সাকোঁও

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের গোয়ারছড়া-কলাউড়া-ইয়াখড়ি বাজার সড়কের বেহাল দশা। তিন গ্রামের জনসাধারণের একমাত্র চলাচলের সড়কটি কাদা, জলাবদ্ধতা আর বড় বড় গর্তে ভরপুর। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। সড়কের বেহাল দশার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কে কাদা জমে যায় এবং মানুষের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারে না, গ্রামের লোকজন শহরে যাতায়াত করতে পারে না, এমনকি পার্শ্ববর্তী ইছাখড়ি বাজারেও যেতে পারেন না গ্রামের লোকজন।
সরেজমিনে দেখা যায়, গোয়ারছড়া-কলাউড়া-ইছাখড়ি বাজার পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের পুরোটাই কাচা। সম্প্রতি বন্যায় সড়কের মাটি সরে গেছে, মাঝে মাঝে সৃষ্টি হয়েছে গর্ত। সড়কের কোথাও কোথাও আবার বাঁশের সাঁকো দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় সেই সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যাওয়া আসা করে। ওই এলাকার মানুষ না পারছেন নৌকায়, হেঁটে বা গাড়িতে যাতায়াত করতে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু না হওয়ায় অনেকে ঘুর পথে যাতায়াত করছেন। এতে তাদের সময়ের অপচয় ও বাড়তি খরচ হচ্ছে। সংকটাপন্ন রোগীদের নিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে আসতে খুবই দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের। বৃষ্টিতে সড়কে কাদা জমে পিচ্ছিল হয়ে ভোগান্তি চরমে উঠে।
উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, মাহবুব এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গত মে মাসে গোয়ারছড়া গ্রাম থেকে কলাউড়া গ্রামের শেষ মাথা পর্যন্ত ১১০০ মিটার সড়কের নির্মাণ জের জন্য দুই কোটি টাকা বরাদ্দ পায়। আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে এই কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। মে মাসে সড়কে মাটি ফেলে নির্মাণ কাজ শুরু হলেও ভয়াবহ বন্যায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে প্রয়োজনীয় মালামাল পৌঁছানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। ইসলামপুর পর্যন্ত সড়কের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শতভাগ শেষ হলে আগামী মাসের অক্টোবরে কাজ শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মমিনুর রশিদ বলেন, এই সড়কটির কাজ না হওয়ায় আমরা খুব অসুবিধায় আছি। বাচ্চা-কাচ্চা স্কুলে যেতে পারে না। সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে সড়কের বেহাল দশা হয়। আমাদের চলাচলে খুব অসুবিধা হচ্ছে। গাড়িও চলতে পারে না, নৌকায় চলাচল করারও কোনো ব্যবস্থা নাই। মাথায় করে এক বস্তা চাল যে বাড়িতে নেব, সে উপায়ও নাই। কাদা ও নোংরা পানি মাড়িয়ে প্রতিনিয়ত পেটের তাগিদে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। আমরা সরকারের কাছে এই সড়কটি দ্রুত নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য দাবি জানাই।
একই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের কারণে আমাদের যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কের বেহাল দশায় শিক্ষার্থীরা সময়মতো স্কুলে যেতে পারে না। জরুরি দরকারে শহরে যেতে বেশি অর্থ ও সময় লাগে। রোগীদের সময় মতো হাসপাতালে নিতে পারি না। এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করি।
সহিদুল ইসলাম, অলিউর রহমান বললেন, একই সড়কের কাজ দুইজন ঠিকাদারে পাইছইন। একজনে অর্ধেক কাজ করিলাইছইন, আমরার রাস্তার কাজ বাকি রইছে কেনে বুঝলাম না- আমরা রাস্তার কাজ শেষ অইবারলাগি তাদের কাছে অনুরোধ করছি।
উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বললেন, সড়কটি নির্মাণ কাজের টেন্ডার হয়েছে। সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্ষার কারণে কাজ বন্ধ থাকলেও দ্রুতই কাজ শুরু হবে। এছাড়া ওই সড়কে প্রয়োজনীয় মালামাল পৌঁছানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। ইসলামপুর পর্যন্ত সড়কের কাজ সম্পন্ন হওয়ার শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শতভাগ শেষ হলে আগামী মাসের অক্টোবরে কাজ শুরু করতে পারব।